তুরস্কে যেভাবে চলছে হালাল পর্যটন

Jun 05, 2018 01:36 pm
তুরস্কের মোট ৬০টি হোটেল ও রিসোর্টে মুসলমান পর্যটকদের

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য নির্বিঘ্নে ছুটি কাটানোর ব্যবস্থা করতে বিশ্বব্যাপী হালাল পর্যটন জনপ্রিয় হচ্ছে৷ তুরস্কেও এই ধরনের চল বেড়েছে৷

আলাদা সুইমিংপুল
তুরস্কের মোট ৬০টি হোটেল ও রিসোর্টে মুসলমান পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা আছে৷ এর মধ্যে আছে, নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা সুইমিংপুল ও সৈকতের ব্যবস্থা, প্রতিটি হোটেল রুমে আছে জায়নামাজ আর কোরান শরিফ৷ আর আছে হালাল খাবার৷ এ সব হোটেলে কোনো অ্যালকোহল পাওয়া যাবে না৷

হালাল পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে
নিরাপত্তার অভাব ও রাজনৈতিক কারণে তুরস্কে সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকের সংখ্যা কমলেও হালাল পর্যটন বেড়েছে৷

‘সহজে আতঙ্কিত হন না’
হালালবুকিং ডটকম ওয়েবসাইটের উফুক সেচগিন বলছেন, গত কয়েক বছরে অনেক পর্যটক ছুটি কাটানোর গন্তব্য হিসেবে তুরস্ককে বয়কট করেছেন৷ কিন্তু হালাল পর্যটন বেড়েছে৷ কারণ ‘‘হালাল প্রিয় পর্যটকরা সহজে শিরোনাম (গণমাধ্যমের) দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন না,’’ মনে করেন তিনি৷

দ্বিগুণ বেড়েছে!
সেচগিনের কোম্পানির মাধ্যমে ২০১৫ সালে তুরস্কে ১২ হাজার পর্যটক গিয়েছিল৷ এর পরের দুই বছর পর্যটকের সংখ্যা প্রতিবারই দ্বিগুণ করে বেড়েছে৷ চলতি বছর তাঁর কোম্পানি ৭০ হাজার পর্যটক আশা করছে৷

অথচ মূল পর্যটনে উলটো চিত্র
হালালবান্ধব পর্যটন বাড়লেও তুরস্কে ২০১৬ সালে পর্যটক সংখ্যা তার আগের বছরের তুলনায় এক চতুর্থাংশ কমে গিয়েছিল৷ ঐ বছর দেশটিতে ব্যর্থ অভ্যুত্থান ও কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল৷ এছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর কারণে রুশ পর্যটকরাও তুরস্ক থেকে দূরে ছিলেন৷ তবে গতবছর থেকে পর্যটন খাত আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে৷ এ বছর ৪০ মিলিয়ন পর্যটক আশা করছে তুরস্ক৷

তৃতীয় স্থানে
গত নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, সেরা ‘ইসলামি হলিডে’-র গন্তব্যের তালিকায় তুরস্ক চার ধাপ এগিয়ে তিন নম্বরে এসেছে৷ প্রথম দু’টি হচ্ছে, আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া৷

নারী কর্মী
এটি ওমে ডিলাক্স হোটেল৷ সেখানে নারীদের জন্য যে সুইমিংপুল আছে, সেখানে নারী নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করেন৷ স্পা’র জন্যও আছেন নারী কর্মী৷ ফোন আর ক্যামেরা জমা দেয়ার পরই অতিথিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেন৷

বিদেশি পর্যটক
ওমে ডিলাক্স হোটেলের মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ জারসেকার জানান, কয়েকবছর আগেও তাদের হোটেলে আসা পর্যটকদের ৮০-৯০ শতাংশ ছিলেন তুর্কি৷ আর এখন ৬০ শতাংশ অতিথিই হচ্ছেন বিদেশি৷ ছবিতে হোটেল রুমে কোরান শরিফ ও জায়নামাজ দেখা যাচ্ছে৷

ইউরোপ থেকে তুরস্কে
বিদেশি পর্যটকদের বেশিরভাগই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা৷ এ সব দেশে ডানপন্থিদের উত্থান ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মুসলমান পর্যটক ছুটি কাটাতে অন্য স্থানে যাওয়া শ্রেয় মনে করেন৷

ফ্রান্সে বুর্কিনির উপর নিষেধাজ্ঞা
দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুসলিম নারীদের সাঁতারের জনপ্রিয় পোশাক বুর্কিনির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ তাই সে দেশের অনেক মুসলিম নারী অন্য দেশে যাচ্ছেন৷ যেমন রিহাব হাসাইনি৷ তুরস্কে ছুটি কাটানোর ফাঁকে তিনি জানান, ফ্রান্সে তাঁরা সৈকত কিংবা সুইমিংপুলে যেতে পারেননা৷

‘সবাই তাকিয়ে থাকে’
জার্মানি থেকে পরিবার নিয়ে তুরস্কে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন ইয়াভুজ তানরিভারদি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার স্ত্রী বোরকা দিয়ে ঢাকা বিকিনি পরেন৷ এখানে (তুরস্ক) এটা খুবই স্বাভাবিক৷ কিন্তু জার্মানিতে বিষয়টি সেরকম নয়৷ সবাই এমনভাবে তাকায় যেন আমরা এই সমাজের নই৷’’