রমজান নিয়ে যা বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

May 22, 2018 04:20 pm
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

আদিবা সাইয়ারা

বিশ্বের সব মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।মঙ্গলবার রাতে (স্থানীয় সময়) ট্রুডো তার নিজের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় এ শুভেচ্ছা জানান।

ভিডিও বার্তাটির ক্যাপশনে ট্রুডো বলেন, কানাডাসহ বিশ্বের সব মুসলিমদের জন্য একটি সৌভাগ্যশালী ও শান্তিপূর্ণ রমজান কামনা করছি। রমজান মুবারাক!

ভিডিও বার্তায় প্রথমেই সালাম দিয়ে শুরু করেন তিনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ (মঙ্গলবার স্থানীয় সময়) থেকে কানাডাসহ বিশ্বের সব মুসলিমদের জন্য শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। আগামী এক মাস তারা একসঙ্গে মসজিদে ও ঘরে জড়ো হয়ে প্রার্থনা করবেন। তারা সারাদিন রোজা রাখবেন আর সন্ধ্যায় একসঙ্গে মিলে মিশে ইফতার করে রোজা ভাঙবেন। এ সময় আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা সবাই একে অন্যের প্রতি পবিত্র রমজানের মৌলিক মূল্যবোধ তাদের আচরণে প্রকাশ করবেন।

ট্রুডো বলেন, রমজান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা একে অপরের প্রতি সহানুভূতি, কৃতজ্ঞতা ও উদারতার মতো রমজানের মূল্যবোধগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করতে পারি। পবিত্র রমজান আমাদের আরও মনে করিয়ে দেয়, আমরা কতটা সৌভাগ্যশালী এবং কীভাবে আমরা নিজের প্রয়োজনের আগে অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো উল্লেখ করেন, কানাডায় আমাদের মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং দেশের উন্নয়নে মুসলিম কানাডিয়ানদের প্রতিদিনের অবদান উদযাপনেরও একটি উপলক্ষ।

আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সোফি ও আমি তাদের সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। রমজান মুবারাক!

 

মানবতাবাদী প্রধানমন্ত্রী 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির পর কানাডায় অভিবাসী ও শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বিশ^জুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। টুইটারে জাস্টিন ট্রুডো লিখেছেন ‘ধর্মবিশ্বাস যা-ই হোক না কেন নির্যাতন, সন্ত্রাস ও যুদ্ধপীড়িত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা কানাডায় স্বাগতম। বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি।’ টুইট বার্তায় শরণার্থীদের কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জন্য কানাডার দরজা খোলা’। তিনি এ জন্য হ্যাশট্যাগ ‘ওয়েলকাম টু কানাডা’ চালু করেন।

 

জাস্টিন ট্রুডো ২০১৫ সালের অক্টোবরে কানাডার নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সিরীয় শরণার্থীকে কানাডা গ্রহণ করে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মধ্যে ২৫ হাজার শরণার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। এর আগে কানাডার রক্ষণশীল সরকার আরো ১০ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে গ্রহণ করে।

কানাডার নির্বাচনে রক্ষণশীল সরকারের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ছিল শরণার্থী গ্রহণে ধীরগতি। এ সময় তুরস্কে ভূমধ্যসাগরের উপকূলে আয়লান কুর্দি নামে এক শিশুর লাশ ভেসে থাকার ছবি বিশ^মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করে। আয়লান কুর্দির পরিবার কানাডায় আশ্রয়ের অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। এ খবর কানাডার নাগরিকদের দারুণভাবে আহত করে। এর প্রভাব নির্বাচনে পড়ে। রক্ষণশীল সরকারের পরাজয়ের পেছনে আয়লান কুর্দির এই ছবি বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিল। লিবারেল পার্টির নেতা জাস্টিন ট্রুডোর সরকার গঠনের পর এ পর্যন্ত ৪০ হাজার শরণার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের মানবিক নীতি শুধু কানাডা নয়, বিশ^জুড়ে তাকে একজন মহানুভব সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিত করেছে। বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নিয়ে যখন হতাশা ও উৎকণ্ঠায় আছে তখন কানাডা তাদের জন্য আশার অলো জ্বালিয়েছে। কানাডার তরুণ এই প্রধানমন্ত্রী সব সময় দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছেন।

কুইবেকে একটি মসজিদে নামাজের সময় আততায়ীর গুলিতে মারা যান ৬ জন মুসলমান। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মসজিদে হামলার নিন্দা জানিয়ে ‘ইসলামের ওপর সন্ত্রাসী আঘাত’ বলে উল্লেখ করেন। সন্ত্রাস নিয়ে পশ্চিমা কোনো সরকারপ্রধান এই প্রথম এমন কঠোর মন্তব্য করলেন। ইতোমধ্যে এই হামলার সাথে জড়িত এক শে^তাঙ্গ তরুণকে আটক করা হয়েছে। কানাডায় এই হামলার শোক পালন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজে শোকসভায় যোগ দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন।

 

কানাডার ২৩তম প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জন্ম ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর। তার বাবা পিয়েরে ট্রুডো কানাডার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বেশ কিছু দিন তিনি শিক্ষকতা করেছেন। বাবার মৃত্যুর আট বছর পর রাজনীতিতে আসেন ২০০৮ সালে। এরপর লিবারেল পার্টির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩ সালে লিবারেল পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। তিন সন্তানের জনক জাস্ট্রিন ট্রুডো শুধু তার বিদেশ নীতির কারণে নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সমান জনপ্রিয়। তবে শরণার্থী বিষয়ে তার খোলামেলা অবস্থান ও উদারনীতি তাকে বিশেষ সম্মানের আসনে বসিয়েছে।

বিশেষ করে ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী নীতির পর তিনি যেভাবে মুসলমানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাতে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে তিনি পাচ্ছেন বিশেষ মর্যাদা।