মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান এরদোগান

May 21, 2018 01:24 pm
এরদোগান

 

মুসলিম বিশ্বকে এক করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেছেন- মুসলিম বিশ্বের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরাইলকে মোকাবিলা করতে হবে। ফিলিস্তিনিদের হত্যার জন্য ইসরাইলকে দোষী সাব্যস্ত করতে হবে। গাজার গণহত্যার দায় ইসরাইলকে নিতে হবে।

এরদোগান বলেন, ইসরাইলি ডাকাতরা ফিলিস্তিনিদের ওপর যে নৃশংসতা চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিতে হবে মানবতা এখনো জীবিত। ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা নৃশংস ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। এসব দস্যুতার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে পদক্ষেপ গ্রহণ পুরো বিশ্বকে এটা দেখাচ্ছে যে মানবতা এখনো মরে যায়নি।

তিনি আরো বলেন-ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞ দস্যুতাবৃত্তি ও পাশবিক সন্ত্রাস। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতি অনিবার্যভাবে তাদেরকে গ্রাস করবে।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকায় লাখ লাখ লোকের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে। সেখানে তাদের ভ্রমণ, শিক্ষা, কর্ম ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যখন তাদের সন্তানরা অস্ত্র তোলে তখন তাদের বলা হয় সন্ত্রাসী; যখন তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে তখন তাদের বলা হয় চরমপন্থি এবং তাদের তাজা গুলি দিয়ে হত্যা করা হয়। ফিলিস্তিনি ইস্যুটি আজ বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মানুষের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন- ইসরাইলকে চূড়ান্তভাবে বয়কট এবং তেল আবিবের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমি আমেরিকার সাথে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করারও আহ্বান জানাই। ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে আপনারা সর্বসম্মত সমর্থন দিন।

প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ফিলিস্তিনি জাতিকে সহায়তা ও ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত রুখে দিতে আমরা মুসলিম দেশগুলোর সরকার ও স্বাধীনতাকামী জাতিগুলোকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা এবং কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান আহ্বান জানাই। ইসরাইলের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন এবং তাদের সব পণ্য বয়কট করার অনুরোধ করব।

রুহানি বলেন, যখন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তখন ইসরাইল চাতুরতার সঙ্গে বর্ণবাদী সরকারকে গণতান্ত্রিক সরকার বলে এবং নিজেদের ধর্মীয় উগ্রবাদীতাকে ধর্মনিরপেক্ষতা হিসেবে তুলে ধরছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে বহু পশ্চিমা দেশ দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসনকে ন্যায্য বলে মনে করছে। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন দেয়ার জন্য মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানাই।

ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না, বরং তারা এখন সমস্যার একটি অংশে পরিণত হয়েছে। মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর ইসলামিক নেশন, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ওপর আগ্রাসন। জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।

তুরস্কে ওআইসির শীর্ষ  সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের নেতারা এসব কথা বলেন। যদিও সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ শীর্ষ নেতাদের এই সম্মেলনে পাঠাননি। নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠান। জেরুসালেমকে ইসরাইলের  রাজধানী ঘোষণার পর থেকে তুরস্ক সোচ্চার ভুমিকা পালন করে আসছে।