রাসুল সা: যা দিয়ে ইফতার করতেন

May 20, 2018 06:10 pm
পানি দ্বারা ইফতারে আত্মিক পবিত্রতাও হাসিল হয়

 

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নাত। আর খেজুর দিয়ে ইফতার করা মোস্তাহাব। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, খালি পেটে মিষ্টি বস্তু পাকস্থলীর জন্যে খুবই ফলপ্রসূ। আর পানিকে পবিত্রকারী বলা হয়েছে। কেননা পানি দ্বারা যেমনি বাহ্যিক পবিত্রতা অবলম্বন করা হয় অনুরূপভাবে পানি দ্বারা ইফতারে আত্মিক পবিত্রতাও হাসিল হয়। ইফতার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। যা তুলে ধরা হলো:


হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগরিবের নামাজের পূর্বেই কয়েকটি তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকতো তবে কয়েকটি শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি শুকনা খেজুরও না থাকতো তবে কয়েক ঢোঁক পানি দ্বারা (ইফতার করতেন)। (তিরমিজি, আবু দাউদ, মিশকাত)


অন্য হাদিসে এসেছে- হজরত সালমান ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত (কল্যাণ) রয়েছে। (বরকতের কথা শুধুমাত্র তিরমিজিতে এসেছে) আর যদি খেজুর না পাওয়া যায়, তবে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা তা পবিত্রকারী। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারিমি, মিশকাত)


উল্লেখিত দু’টি হাদিস থেকেই বুঝা যায়, যে খেজুর দ্বারা ইফতারে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। খেজুর না পাওয়া গেলে পানি দ্বারা ইফতারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দামের খেজুর পাওয়া যায়। যা দ্বারা ইফতারের কল্যাণ লাভ করা সম্ভব।


সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পন্থা অবলম্বন করে খেজুর অথবা পানি দ্বারা ইফতার করা। খেজুর এবং পানি দ্বারা ইফতার করলে শারীরিক এবং আত্মিক কল্যাণ লাভ হয়।

 

 

রোজায় কমে কোলেস্টেরল

রমজান আমাদের সংযম হতে শেখায়। এ সংযম আমাদের আত্মাকে শুধু পরিশুদ্ধ করে না, নানা রোগবালাই থেকে নিজেকে মুক্ত করার সুযোগ করে দেয়। আমরা জানি রক্তনালীর রোগগুলোর প্রধানতম হলো রক্তনালীর ব্লকজনিত রোগ। যারা ধূমপানে আসক্ত তাদের মধ্যে এ রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি।

নিজেকে ধূমপানমুক্ত করার সবচেয়ে উত্তম মাস হলো রমজান। ধূমপান শুধু হার্টের রক্তনালীকে ব্লক করে না, হাত ও পায়ের রক্তনালীকে সমানভাবে ব্লক করে। ধূমপান পরিত্যাগের দিন থেকেই এর সুফল পাওয়া যায়। তাই রমজান মাসের শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে।


দ্বিতীয়ত, আমরা জানি সভ্যতার সবচেয়ে নীরব ঘাতক হলো কোলেস্টেরল। রক্তনালীর গায়ে আস্তে আস্তে কোলেস্টেরল জমে রক্তনালীকে এক সময় পুরোপুরি ব্লক করে ফলে। রমজান মাসে খাবারের ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকেন।

দীর্ঘ দিন দিনের বেলায় খাদ্য ও পানি পরিহার করায় এ সময় অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমে যায়। খাবার নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে উত্তম মাস হলো রমজান। এ মাসের সাধনা পুরো বছর কাজে লাগালে যে কেউ ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারেন।


তৃতীয়ত, রমজানের শেষে আসে আনন্দের ঈদ। কিন্তু ঈদে ঘরমুখো মানুষ অনেক সময় দুর্ঘটনায় পতিত হতে পারে। এসব দুর্ঘটনায় হাত ও পায়ের রক্তনালী কেটে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোগী দ্রুত মারা যেতে পারে।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির হাত বা পা ভেঙে গেলে খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হবে। প্রয়োজনে আঘাত পাওয়া হাত বা পা গামছা বা কোনো টুকরা কাপড় দিয়ে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হবে। এতে রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যাবে।