অবশেষে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সৌদি বাদশাহ

May 15, 2018 11:08 pm
সৌদি বাদশাহ

 

গাজায় ইসরাইলি বর্বরতায় ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার একদিন পর মুখ খুললো সৌদি আরব। সৌদি বাদশাহ এক বিবৃতি বলছে সৌদি আরব সরকার তেলঅাবিব থেকে জেরুসালেমে ইসরায়েলের দূতাবাস স্থানান্তর মেনে নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।মঙ্গলবার তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে ইসরায়েলের দূতাবাসক স্থানান্তর করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত মানেন না।

সৌদি অারবের সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ মন্ত্রিপরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি সরকার জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের আমেরিকান প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয় স্থানান্তরের এ পদক্ষেপটি ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার লঙ্ঘন ছাড়া আর কিছুই নয়। আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এটা একটা অন্যায় প্রতিহিংসা প্রতিনিধিত্ব করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয় সৌদি সরকার ইতিমধ্যে এ ধরনের অপমানজনক পদক্ষেপের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে ইসরায়েল ও আমরিকাকে।

গাজা  সীমান্তে সোমবার ফিলিস্তিনের কয়েক ডজন বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলি বন্দুকধারীদের নিন্দা জানিয়ে রিয়াদে বাদশাহ সালমান আমরিকাকে বিষয়টি দ্বিতীয়বার পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

বাদশাহ সালামান গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে নির্যাতন ও হত্যার নিন্দা জানিয়ে এ সহিংসতা বন্ধের ও লিস্তিনিদের রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘকে আহ্বান জানান।

জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে গত ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থাপনের ঘোষণার পর থেকে ফিলিস্তিন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এরমধ্যে নিজেদের আবাসভুমি হারানোর ৭০ বছর পূর্তি পালন করছে ফিলিস্তিনের জনগন। জেরুসালেমে আনুষ্টানিকভাবে দূতাবাস উদ্বোধনের দিন গাজায় বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে ৫২ জনকে আহত হয়েছে ১৫০০ বেশি মানুষ। গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে যখন ফিলিস্তিনি জনগনের রক্ত ঝরছে তখন জেরুসালেমে ট্রাম্পের ইহুদি জামাই জ্যারেড কুশনার হাস্যোজ্বল ভাবে বক্তব্য রাখছেন। জেরুসালেম ইহুদিদের বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জ্যারেড কুশনার শুধু ইসরাইল নয় সৌদি-আমিরাতি শাসকদের ঘনিষ্ট বন্ধু।


গাজায় ফিলিস্তিনি জনগনের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষন মুলত মার্কিন-ইসরাইল -সৌদি মিত্রতার রক্তাক্ত পরিনতি। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা এবং নতুন করে ফিলিস্তিনিদের ভুমি দখল ইসরাইলি তৎপরতার পেছনে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের নীরব সমর্থন আছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রনীতিতে ফিলিস্তিন এখন আর গুরুত্ব পাচ্ছে না এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর থেকে ইসরাইলের বর্বরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গাজায় এই বর্বরতার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ধিক্কার জানানো হয়েছে ইসরাইলকে।


মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন যে মেরুকরন হচ্ছে তাতে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগনকে। ইরানকে মোকাবিলার জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বে কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সাথে যে আতাতের সর্ম্পক গড়ে তুলেছে তাতে এসব দেশ ফিলিস্তিনি জনগনের নিজের আবাসভুমি ফিরে পাওয়ার দাবিকে ইসরাইলের ইচ্ছার অধীন করে ফেলেছে। অপরদিকে ফিলিস্তিনি জনগন রক্তের বিনিময়ে তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্টার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কোন দেশ সমর্থন করছে বা করছে না তা নিয়ে লড়াই থেমে নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে লড়াই চালিয়ে যাবে ফিলিস্তিনি কিশোরদের গুলতি নিয়ে ইসরাইলি সৈন্যদের মোকাবিলার ছবি তার প্রমান।


মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো যখন ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলনে সমর্থন দেয়া তো দূরে থাক ইসরাইলের পাশে দাড়িয়েছে তখন সবচেয়ে সোচ্চার ভুমিকা পালন করছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের গনহত্যা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ওআইসির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। একই সাথে কুয়েতকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহবান ডাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তুরস্ক দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন ও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে একই সাথে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে।