গাজার প্রতিরোধ সংগ্রামে নারীরা

May 12, 2018 12:05 pm
ফিলিস্তিনিদের অবস্থান কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েল

 

গত ৩০ মার্চ থেকে  অধিকৃত গাজা সীমান্তে ভূমি দিবস পালনে ফিলিস্তিনিদের ‘গ্রেট রিটার্ন অব মার্চ’ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরায়েলের দখলদারিত্ব থেকে নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন। ওই ঘটনার স্মরণে এই বছর টানা ছয় সপ্তাহের কর্মসূচি পালন করছে। আর প্রতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনিদের অবস্থান কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েল।


গাজার বিক্ষোভে ফিলিস্তিনি নারীদের ভূমিকা
বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি জুম্মাবারে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি সীমান্তে প্রতিবাদ প্রদর্শন করে চলেছেন৷ সীমান্তে সংঘর্ষের ছবি মিডিয়া জুড়ে; অপরদিকে বেসামরিক, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশে প্রধানত পাওয়া যাবে ফিলিস্তিনি নারীদের৷


শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ
জুম্মাবারের প্রতিবাদ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই তাঁবু খাটিয়ে বিক্ষোভ শিবির গড়া হয়েছিল৷ বিক্ষোভকারীরা এই পন্থায় গাজায় অসহনীয় মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে চাইছিলেন৷ ৩০শে মার্চ ফিলিস্তিনিদের তথাকথিত ভূমি দিবসে সেই বিক্ষোভ গণআন্দোলনে পরিণত হয়৷ ঐ দিনটিতে ফিলিস্তিনিরা তাদের বিতাড়নের কথা স্মরণ করেন৷


বিক্ষোভ এক ধরনের উৎসব বৈকি
বিক্ষোভ শিবিরের অভ্যন্তরে নারীদের নানা কাজ৷ আন্দোলন শুরু হওয়া যাবৎ বেশ কয়েক শত ফিলিস্তিনি মহিলা ছেলে-মেয়ে সঙ্গে করে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসছেন৷ তাঁদের মধ্যে অনেকে সীমান্তে সংঘাতপূর্ণ প্রতিবাদেও সামিল হন৷


শিল্পের স্থান সর্বত্র
ফিলিস্তিনি চিত্রশিল্পী রেহাম আল-এমাউয়ি মহিলা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ছবি আঁকেন৷ শিবিরে তাঁর মতো আরো অনেক শিল্পী আছেন৷ ইসরায়েল যে ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবর্তন করতে দিতে রাজি নয়, তার বিরুদ্ধে তাঁদের এই প্রতিবাদ৷ গাজা স্ট্রিপের বাসিন্দাদের ৭০ শতাংশ উদ্বাস্তু বা উদ্বাস্তুদের সন্তান-সন্ততি৷


সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয়
ফিলিস্তিনি নারীরা তাঁদের দুরবস্থার কথা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও জ্ঞাপন করেন – কেননা তাঁদের ঘিঞ্জি, দারিদ্র্যপূর্ণ গাজা স্ট্রিপ পরিত্যাগ করার কোনো উপায় নেই৷ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় ৮০ শতাংশ ফিলিস্তিনি তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত হন অথবা পলায়ন করেন৷


শিবিরের জন্য রুটি তৈরি
ইসরায়েল উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবর্তন করতে দিতে অরাজি৷ ১৯৯৩ সালের আন্তর্জাতিক আলাপ-আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের প্রস্তাবটিও বিবেচিত হয় – কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি৷ আজ পশ্চিম জর্ডান ও গাজা স্ট্রিপে দু’টি পৃথক ফিলিস্তিনি সরকার তাদের ঝগড়া-বিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন, যার একটি ফল হলো দারিদ্র্য, বিশেষ করে গাজা স্ট্রিপে৷ তাই বিক্ষোভ শিবিরে নারীরা রুটি গড়ে বিতরণ করে থাকেন৷


বিক্ষোভকারীদের জন্য পানি
ইসরায়েলের সীমান্তে যাঁরা প্রতিবাদ প্রদর্শন করছেন, তাঁদের অধিকাংশ তরুণ ফিলিস্তিনি, যাঁদের ভবিষ্যতের কোনো আশা নেই৷ ইসরায়েল ও পশ্চিমি মিডিয়া এই প্রতিবাদের জন্য হামাসকে দায়ী করে থাকে – অপরদিকে হামাস সীমান্তে ইসরায়েলি সৈন্যদের সহিংসতার কথা বলে৷ যার ফলে সীমান্তে বিক্ষোভ দু’পক্ষের কট্টরপন্থিদের হাতে প্রচারণার অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে৷


আহতদের পরিচর্যা
প্রতিবাদ শুরু হওয়া যাবৎ সীমান্তে বেশ কিছু ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন, শত শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন৷ গাজা স্ট্রিপে জনস্বাস্থ্যগত কাঠামো ভেঙে পড়তে চলেছে, হাসপাতালগুলি আহতদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে৷ ওষুধপত্র, বিদ্যুৎ বা বিশুদ্ধ পানি, সব কিছুর অভাব৷ স্বেচ্ছাসেবী মহিলারা ইসরায়েলি সৈন্যদের নিক্ষিপ্ত কাঁদানে গ্যাসে আহত ফিলিস্তিনিদের পরিচর্যা করছেন৷


ভূমিকা বদল?
প্রতিবাদ যেখানে সংঘর্ষের রূপ নিচ্ছে, সেখানেও ফিলিস্তিনি মহিলাদের পাওয়া যাবে৷ ১৮ বছর বয়সের তরুণী আয়া আবেইদ রয়টার্স সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, ‘‘কেউ কেউ আমাদের বলেন: পুরুষরা যা করে, তা তোমরা করতে পারো না! অনেকের ভয় যে, আমরা আহত হতে পারি৷ অন্যরা আবার আমাদের একসঙ্গে লড়ার উৎসাহ দেন৷’’


রণাঙ্গণে
আন্দোলনের নাম ‘প্রত্যাবর্তনের জন্য মহান অভিযান’৷ আন্দোলন চলবে আগামী ১৫ই মে ইসরায়েলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অবধি৷ একইভাবে ফিলিস্তিনিরা ‘নকবা’ বা স্বদেশ থেকে তাঁদের বিতাড়নের কথা স্মরণ করছেন: ওয়ার্কশপ বা থিয়েচারের সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির টায়ার পোড়ানো বা পাথর ছোঁড়াতেও ফিলিস্তিনি মহিলারা সামিল৷