বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ৫ দেশ যেভাবে চলে

May 09, 2018 03:41 pm
আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট

 

বিশ্বের স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট এমন পাঁচটি দেশের

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরছেন আহমেদ বায়েজীদ

 

ভ্যাটিকান সিটি

আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ ভ্যাটিকান সিটি। ইতালির রাজধানী রোম শহরের অভ্যন্তরে ছোট্ট একটি দেয়ালঘেরা এলাকায় গড়ে উঠেছে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম এই রাষ্ট্রটি। ভ্যাটিকানের মোট আয়তন শূন্য দশমিক ৪৪ বর্গকিলোমিটার। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ৮৪২ জন।


ভ্যাটিকান সিটি মূলত ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মগুরুদের আবাসস্থল। ক্যাথলিকদের প্রধান গির্জা সেন্ট পিটার্স ব্যাসেলিকা এখানে অবস্থিত। তাইতো বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত ভ্যাটিকান। এখান থেকেই ক্যাথলিকদের সব ধর্মীয় বিধিবিধান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান। পোপই এখানে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।


যে পাহাড়ের ওপর দেশটি গড়ে উঠেছে তার নাম ভ্যাটিকান। পাহাড়টির নামানুসারেই দেশের নামকরণ করা হয়েছে। রোমের এই পাহাড়ি অঞ্চলটি প্রাচীনকাল থেকেই ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো। খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তনের আগেও বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো এই এলাকাটি। ভ্যাটিকান সিটির পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইতালির বিখ্যাত তীবের নদী।


প্রাচীন ইতালির বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্র চালু ছিল। পোপরাই যার প্রধান ছিলেন। এই নগররাষ্ট্র নিয়ে ইতালির শাসকদের সাথে কর্তৃপক্ষের বহু দিন ধরে বৈরিতা চলে আসছে। অবশেষে ১৯২৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইতালির শাসক বেনিতো মুসোলিনির সাথে ক্যাথলিকদের সম্পাদিত লাতেরান চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রটি। বিনিময়ে অন্য নগরাষ্ট্রগুলোর দাবি ছেড়ে দেয় তারা। ওই দিবসটিকেই স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে ভ্যাটিকানবাসী। যদিও ভ্যাটিকানের কোনো স্থায়ী নাগরিক নেই। ধর্মযাজক ও গির্জাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাই এখানে নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়।


সুইস গার্ড নামে ভ্যাটিকানের একটি নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে যার সদস্যসংখ্যা ১০০ জন। রয়েছে নিজস্ব ক্ষুদ্রায়তনের অর্থব্যবস্থা, যার আয়ের উৎস ডাক মাশুল, গির্জার দর্শনাথীদের কাছে বিভিন্ন স্মারক বিক্রি, জাদুঘরে দর্শনার্থীদের প্রবেশমূল্য ও বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের অনুদান। ভ্যাটিকান রেডিও নামে নিজস্ব একটি বেতারকেন্দ্র রয়েছে দেশটির। রয়েছে নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভ্যাটিকানের মুদ্রার নাম ইউরো। অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে ফরাসি ব্যবহৃত হলেও ইতালিয়ান ভাষাই বেশি প্রচলিত এখানে।


স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও জাতিসঙ্ঘের সদস্য নয় ভ্যাটিকান সিটি। এটি জাতিসঙ্ঘের একটি স্থায়ী পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা ভোগ করে, যারা সাধারণ পরিষদে ভোটাধিকার ছাড়া পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের মতোই অন্য সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। বহির্বিশ্বের সাথে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত পরিসরে। জায়গা স্বল্পতার কারণে এখানো বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর কোনো দূতাবাস নেই। ভ্যাটিকান সিটির বর্তমান প্রধান পোপ ফ্রান্সিস। জন্মসূত্রে যিনি আর্জেন্টিনার নাগরিক।

 

মোনাকো

আয়তনে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ মোনাকো। তবে ইউরোপের এই দ্বীপরাষ্ট্রটির জনসংখ্যার ঘনত্ব বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। মাত্র দুই বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ডের এই স্বাধীন দেশটিতে বসবাস করে প্রায় ৩৮ হাজার লোক। মোনাকোর কোনো রাজধানী নেই তবে শহরের অভিজাত এলাকা মন্টি কার্লোকে দেশের প্রধান স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবিস্থত পশ্চিম ইউরোপের দেশ মোনাকো। দেশটির তিন দিকে ফ্রান্স আরেক দিকে ভূমধ্যসাগর। সমুদ্রসৈকত আর ক্যাসিনোর জন্য বিশ্বব্যাপী খ্যাতি রয়েছে মোনাকোর। এ কারণেই সারা বিশ্বের ধনীদের কাছে এটি আকর্ষণীয় একটি জায়গা (ক্যাসিনোগুলোতে মোনাকোবাসীর প্রবেশ নিষিদ্ধ)। পর্যটন শিল্পই দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকা। জনগণের জীবনযাত্রার মানও খুব উন্নত। ২০১৪ সালের এক হিসাব মতে, মোনাকোর ৩০ শতাংশ লোক লাখপতি। ছোট রাষ্ট্র হলেও এর রয়েছে ১০ হাজার কোটি ডলারের শক্তিশালী ব্যাংকিং। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম সেরা মোটর রেস ভেন্যু মোনাকো।


এক সময় রোমান সম্রাজ্যের অধীনে থাকা মোনাকো দীর্ঘ সঙ্ঘাতের পর গ্রিমাল্ডি পরিবারের হাতে আসে। সে সময় রিপাবলিক অব জেনোয়ার অধীনে গ্রিমাল্ডি পরিবার মোনাকো শাসন করত। ১৭৯৭ সালে জেনোয়া রাষ্ট্রটি ভেঙে গেলে আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মোনাকো। কিছুদিন ফ্রান্সের অধীনে থাকলেও নেপোলিয়নের পতনের পর সার্ডিনিয়া রাজ্যের অধীনে যায় মোনাকো। উনিশ শতকে সার্ডিনিয়া বর্তমান ইতালির সাথে একীভূত হয়ে গেলে আবার ফ্রান্সের অধীনে যায় ক্ষুদ্র এই ভূখণ্ডটি; কিন্তু ফ্রান্স এটিকে একীভূত না করে স্বাধীনতা দেয়। ১৮৬১ সালে ফ্রান্সের সাথে এক চুক্তির মাধ্যমে মোনাকোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌত্ব স্বীকৃত হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় নাম প্রিন্সিপালিটি ও মোনাকো। শাসনব্যবস্থা হিসেবে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র চালু আছে মোনাকোতে। দ্বিতীয় প্রিন্স আলবার্ট বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান। তবে দেশ পরিচালানার ভার প্রধানত ন্যস্ত থাকে পার্লামেন্টের ওপর। মোনাকোর পার্লামেন্টের নাম হাউজ অব গ্রিমাল্ডি। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিনিস্টার অব স্টেট। প্রিন্স এই পদে মনোনয়ন দিয়ে থাকেন।


১৯৯৩ সালে জাতিসঙ্ঘের সদস্যপদ লাভ করে দেশটি। শক্তিশালী কোনো সামরিক বাহিনী না থাকায় সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে অনেকাংশেই ফ্রান্সের ওপর নির্ভরশীল দেশটি। অফিসিয়াল ভাষা ফরাসি হলেও মনেগাস্ক, ইতালিয়ান ও ইংরেজিও চালু আছে দেশটিতে। মোনাকোর নাগরিকদের কোনো আয়কর দিতে হয় না। কর্মজীবীদের বড় অংশই পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত। জনসংখ্যার ৮৩ শতাংশ খ্রিষ্টান। প্রায় ৩০০ জনের মতো মুসলমান রয়েছে দেশটিতে। উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি ইংরেজি মাধ্যম অ্যাকাডেমি রয়েছে।

 

নাউরু

আয়তনে বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ রিপাবলিক অব নাউরু। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রেনেশিয়া অঞ্চলে অবস্থান এই রাষ্ট্রটির (অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে)। আয়তন ২১ বর্গকিলোমিটার, মোট জনসংখ্যা ১০ হাজারের কিছু বেশি। একক ভূখণ্ড হওয়ায় নাউরুর কোনো রাজধানী নেই, তবে ইয়ারেন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো অবস্থিত।


মাইক্রেনেশিয়া অঞ্চলের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু। এটির সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী ভূখণ্ড হলো রিপাবলিক অব কিরিবাতির বানাবা দ্বীপ। এই দ্বীপটির অবস্থান নাউরু থেকে ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে। অন্তত তিন হাজার বছর আগে নাউরুতে জনবসতি স্থাপিত হয়। সে সময়কার ১২টি উপজাতীয় গোষ্ঠী এখানকার আদিবাসী। ব্রিটিশ তিমি শিকারি ক্যাপ্টেন জন ফিয়ার্ন ১৭৯৮ সালে প্রথম পশ্চিমা নাগরিক হিসেবে এই দ্বীপে আসেন। ফিয়ার্ন নাউরুকে মনোরম দ্বীপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর পর থেকেই তিমি শিকারি ও বণিক জাহাজের মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয় দেশটির। ১৮৮৮ সালে দ্বীপটি দখল করে নেয় জার্মানি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লিগ অব নেশনস ঘোষণার অধীনে এটি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ব্রিটেনের যৌথ প্রশাসনিক এলকায় পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সেনারা নাউরু দখল করে নেয়। বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় এটি। ১৯৬৮ সালে স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে রিপাবলিক অব নাউরু। ১৯৯৯ সালে জাতিসঙ্ঘের সদস্যপদ পায় দেশটি।


সংসদীয় গণতন্ত্র প্রচলিত নাউরুতে যার প্রেসিডেন্ট একই সাথে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। ১৯ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ও ৬ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা রয়েছে দেশটিতে। এক কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের সদস্যরা তিনি বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কোনো প্রচলিত পদ্ধতির রাজনৈতিক দল নেই দেশটিতে। কোনো সশস্ত্র বাহিনীও নেই নাউরুর, অনানুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়াই দেশটির প্রতিরক্ষার বিষয় দেখভাল করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রয়েছে ছোট্ট একটি পুলিশবাহিনী। রাষ্ট্রভাষা নাউরুয়ান হলেও ইংরেজিও বহুল ব্যবহৃত।

জনসংখ্যার বেশির ভাগই নাউরুয়ান, কিছু ইংরেজ ও চীনা নাগরিক রয়েছে। ফসফেট খনি রয়েছে নাউরুতে, আর এটিই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটির অর্থনীতির চালিকা। বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী খনি শিল্পের সাথে জড়িত। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া সরকার প্রচুর আর্থিক অনুদান দেয় দেশটিকে। মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয় অস্ট্রেলিয়ান ডলার। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাথে এক চুক্তির অধীনে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী বিদেশীদের রাখা হয় নাউরুতে। জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ প্রোটেস্ট্যান্ট ও বাকিরা রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টান। শিক্ষার হার ৯৬ শতাংশ।

 

টুভ্যালু

দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পলিনেশিয়া অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র টুভ্যালু আয়তনে বিশ্বের চতুর্থ ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। পাপুয়া নিউগিনি ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ থেকে পূর্ব দিকে দেশটির অবস্থান। দক্ষিণে রয়েছে নিকটতম প্রতিবেশী ফিজি, যার দূরত্ব ১০৫০ কিলোমিটার। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বে আমেরিকান সামোয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে ভানুয়াতু। টুভ্যালুর মোট আয়তন ২৬ বর্গকিলোমিটার, আর ২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ১১ হাজার প্রায়।


মোট ৯টি ক্ষদ্রাকৃতির দ্বীপ নিয়ে টুভ্যালু রাষ্ট্রটি গঠিত। এর মধ্যে ৬টি অটল এবং ৩টি সাধারণ কোরাল দ্বীপ। অটল হচ্ছে রিং আকৃতির প্রবাল প্রাচীর যেখানে চতুর্দিকে ঘেরা ভূখণ্ডের মাঝে পানি থাকে, এই রিং কোথাও একক আবার কোথাও একটির পাশে একটি ক্ষুদ্র দ্বীপের অবস্থানের ফলে গড়ে ওঠা। অটলের মাঝখানের জলাভূমিকে বলা হয় ল্যাগুন। সব মিলে প্রায় ১২৪টির মতো দ্বীপ রয়েছে টুভ্যালুতে। ফুনাফুটি অটলের ভাইয়াকু এলাকায় টুভ্যালুর রাজধানী।


টুভ্যালুর আদি বাসিন্দারা পলিনেশিয়ান। তিন হাজার বছর আগে তারা টোঙ্গা ও সামোয়া দ্বীপ থেকে এখানে এসেছিল বলে ধারণা করা হয়। ১৫৬৮ সালে স্প্যানিশ নাবিক আলভারো ডি মেনডানা প্রথম পশ্চিমা হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জে আসেন। ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে এখানকার ৯টি দ্বীপকে একত্রে এলিস দ্বীপপুঞ্জ নামকরণ করা হয়। ওই শতকের শেষ দিকে এটি ব্রিটিশ প্রভাব বলয়ে আসে। ১৮৯২ সালে দ্বীপগুলোকে ব্রিটিশ ‘আশ্রিত রাজ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে এটিকে বর্তমান কিরিবাতি রাষ্ট্রের গিলবার্ট দ্বীপপুঞ্জের সাথে একীভূত করা হয়। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত গিলবার্ট ও এলিস দ্বীপপুঞ্জ নামে টুভ্যালু ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবেই ছিল। সে বছরই এক গণভোটে গিলবার্ট ও এলিসকে পৃথক করে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়। ১৯৭৮ সালের ১ অক্টেবর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা লাভ করে টুভ্যালু। ২০০০ সালে জাতিসঙ্ঘের সদস্যপদ পায় দেশটি।
কমনওয়েলথভুক্ত টুভ্যালুতে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু আছে। ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ‘কুইন অব টুভ্যালু’ পদবি নিয়ে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান। রানী মনোনীত একজন গভর্নর জেনারেল এখানকার রানীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার নাম পার্লামেন্ট অব টুভ্যালু, যার ১৫ জন সদস্য প্রতি চার বছর পর নির্বাচিত হন। এমপিরা প্রধানমন্ত্রী (সরকারপ্রধান) ও স্পিকার নির্বাচিত করেন। গভর্নর জেনারেল মন্ত্রিসভা মনোনীত করেন। টুভ্যালুতে কোনো প্রচলিত পদ্ধতির রাজনৈতিক দল নেই।


কোনো নিয়মিত সামরিক বাহিনী নেই দেশটির। তবে একটি পুলিশ বাহিনী রয়েছে। অফিসিয়াল ভাষা টুভ্যালুয়ান ও ইংরেজি আইনসভার নাম ‘পার্লামেন্ট’। মুদ্রা হিসেবে টুভ্যালুয়ান ডলারের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ান ডলারও প্রচলিত। দেশটির অর্থনীতির বড় অংশ সমুদ্রনির্ভর। জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ দেশী- বিদেশী জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ। দেশটি তার সমুদ্রসীমায় মাছ ধরা জাহাজগুলোর কাছ থেকেও অর্থ পেয়ে থাকে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অভিবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস। কৃষির মধ্যে নারকেলচাষ প্রধান। টুভ্যালুতে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যের। রয়েছে কয়েকটি স্কুল ও একটি নৌ অ্যাকাডেমি। জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাই খ্রিষ্টান।


সান ম্যারিনো

রিপাবলিক অব সান ম্যারিনো আয়তনে বিশ্বের পঞ্চম ক্ষুদ্রতম দেশ। পশ্চিম ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত দেশটি মূলত ইতালির ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত একটি ছিটমহল। এর চার দিকেই রয়েছে ইতালি। ইতালির পূর্বাংশে অ্যাপেননাইন পাহাড়ের পাদদেশের এই দেশটির আয়তন ৬১ বর্গকিলোমিটার। সান ম্যারিনোর মোট জনসংখ্যা ৩২ হাজার। রাজধানী সান ম্যারিনো সিটি।


নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সার্বভৌম ও সাংবিধানিক প্রজাতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে সান ম্যারিনো। ৩০১ খ্রিষ্টাব্দের ৩ সেপ্টেম্বর মোনাস্টিক সম্প্রদায় এর সংবিধান প্রণয়ন করে। বিশ্বের প্রথম লিখিত সরকারি কর্মকাণ্ডও সূচনা করে সান ম্যারিনোবাসী। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে দেশটিকে ইতালির সাথে একীভূত করার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দেশটি শুরুতে নিরপেক্ষ থাকলে পরে ইতালির চাপের কারণে তাদের পক্ষ নিতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে দেশটি, তবু জার্মান সৈন্যরা সেখানে অবস্থান করছে এমন সন্দেহে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী দেশটিতে বোমাবর্ষণ করে। তিন মাস পর জার্মান সৈন্যরা দেশটিতে প্রবেশ করলেও মিত্র বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়। ১৯৯২ সালে জাতিসঙ্ঘের সদস্যপদ পায় দেশটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হলেও মুদ্রা হিসেবে ইউরো প্রচলিত এখানে।


সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে সান ম্যারিনোতে। আইনসভার নাম গ্রান্ড অ্যান্ড জেনারেল কাউন্সিল। এটি ৬০ সদস্যবিশিষ্ট, যার সদস্যরা পাঁচ বছরের জন্য সাধারণের ভোটে নির্বাচিত হন। আইনসভা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নিয়োগ দেয়, যাদের মেয়াদ হয় মাত্র ছয় মাস। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে একত্রে বলা হয় ‘ক্যাপ্টেনস রিজেন্ট’। ১২৪৩ খিষ্টাব্দ থেকে প্রতি ১ এপ্রিল ও ১ অক্টোবর এই দু’টি পদে নেতা মনোনীত করা হয়। ছোট একটি সামরিক বাহিনী থাকলেও সান ম্যারিনোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মূলত ইতালির ওপর নির্ভরশীল।


জনবসতির জীবযাত্রার মান ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতোই উন্নত। প্রধান অর্থনৈতিক খাত ব্যাংকিং, ইলেকট্রনিকস ও সিরামিকস। দেশটিতে উন্নত কৃষিব্যবস্থাও রয়েছে। আমদানি খাত পুরোপুরি ইতালিনির্ভর। উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক মানের একটি বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি আছে দেশটিতে। রাষ্ট্রভাষা ইতালিয়ান। জনসংখ্যার প্রায় সবাই ক্যাথলিক খ্রিষ্টান।