বুশ পরিবারের হিটলার কানেকশন

Apr 29, 2018 02:36 pm
বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের ঘৃণিত নায়ক


গোলাপ মুনীর


হিটলার। বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের এক ঘৃণিত নায়ক। নাৎসী জার্মানির প্রতিভূ পুরুষ। জন্মসূত্রে ছিলেন অস্ট্রিয়ার নাগরিক। ১৯৩২ সালের ২৫ জানুয়ারি জার্মানির নাগরিকত্ব পান। এর মাত্র এক বছর পর মাত্র ৪৩ বছর বয়সে সে সময়ের জার্মানির প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবুর্গের সমর্থনপুষ্ট হয়ে ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি জার্মানির সরকার প্রধান তথা চ্যান্সেলর হন। তিনি ১৯২০ সালে ১ এপ্রিল গঠন করেছিলেন ন্যাশনাল সোশালিস্ট পার্টি, সংক্ষেপে ঘঅতও তথা নাৎসী পার্টি। নাৎসীবাদী হিটলারের ক্ষমতায় আসার পর পরই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে চালু হওয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের অবসান ঘটে। হিটলার এলে নাৎসী জার্মান রাষ্ট্রে (যাকে থার্ড রাইখ নামেও অভিহিত করা হয়) দ্রুত জার্মানরা হারায় মৌলিক সব অধিকার। জার্মান পার্লামেন্ট ‘রাইখ স্ট্যাগ’-এ ১৯৩৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাংবিধানিক মৌলিক নাগরিক অধিকার বাতিল করে ডিক্রি জারি করা হয়। জারি করা হয় জরুরি অবস্থা।

পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া সরকারকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়। সবকিছু আনা হলো নাৎসীদের নিয়ন্ত্রণে। নাৎসীবাদ সম্প্রসারণে চলে গোয়েবলসীয় প্রপাগান্ডা। ১৯৩৪ সালের আগস্টে জার্মান প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবুর্গ মারা গেলে চ্যান্সেলর হিটলার রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্টের পদও দখল করেন। হিটলার হন জার্মানির সর্বেসর্বা। সব ক্ষমতা তার হাতের মুঠোয়। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি রাইখ প্রেসিডেন্ট, সরকার প্রধান হিসেবে তিনি রাইখ চ্যান্সেলর এবং নাৎসী পার্টির প্রধান হিসেবে তিনি ফুয়েরার। তবে হিটলার সম্পর্কে বলা দরকার, তিনি সে সময়ের জার্মানিতে ছিলেন বিপুল জনপ্রিয়। ফলে কোনো অবৈধ পথে তাকে ক্ষমতায় যেতে হয়নি। নির্বাচিত হয়েই তিনি ক্ষমতায় বসেছিলেন। কিন্তু সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে হিটলার শুরু থেকেই নিজেকে মানবতা-বিরোধী এক স্বৈরাচারী শাসক করে তুলেন। তিনি নিষিদ্ধ করেন বামপন্থী আর সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের রাজনীতি। হিটলার-বিরোধীদের নির্বিচারে বন্দি, নির্যাতন ও হত্যার পাশাপাশি চলে জার্মানিতে অবস্থানরত বিদেশী ও ইহুদি নিধন।

হিটলারের বাহিনী হত্যা করে ৬০ লাখ ইহুদি, এর অর্ধেক ইহুদিই ছিল পোল্যান্ডের। পাশাপাশি হত্যা করা হয় ২-৩ লাখ যাযাবর, ২-৩ লাখ প্রতিবন্ধী, ১-২ লাখ ইউরোপিয়ান, ১০-২৫ হাজার সমকামী এবং আড়াই থেকে ৫ হাজার জিহোভাহ সাক্ষী। ১৯৩৯ সালের ১ মে পোল্যান্ড দখল করে মাটি আর ঘাঁটি দখল আর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৯৪৫ সালের ৮ মে পর্যন্ত ইউরোপের বেশ এলাকা দখল করে নেয়। এ যুদ্ধে ইউরোপের কোটি মানুষ প্রাণ হারায়। এভাবেই নির্বাচিত শাসক হিটলার পরিণত হন বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত খুনি স্বৈরশাসক। কিন্তু অবাধ ক্ষমতার অধিকারী এ হিটলারকেও একদিন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ১৯৪৫ সালে বার্লিনের একটি ব্যাঙ্কারে আত্মহনন করতে হয়। আরো অবাক বিষয়, তার মৃত্যুর ৬২ বছর পর উত্তর জার্মানির বাউনসভাইগ শহরের সোশ্যাল ডেমোক্রেট পার্লামেন্ট সদস্য পিটার রাখম্যান তার নির্বাচনী এলাকা থেকে নাগরিকত্ব পাওয়া হিটলারের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য সম্প্রতি আদালতে মামলা করেন। সন্দেহ নেই খুনি হিটলারের প্রতি ঘৃণা থেকেই তার এ মামলা দায়ের। হিটলারের জার্মান নাগরিকত্ব আদালত খারিজ করে দিয়েছে। আদালত হিটলারের নাগরিকত্ব বাতিল করে ঠিক কাজটিই করেছেন, যদিও আদালতের এ রায় হিটলারের জীবনকে স্পর্শ করবে না, তবুও এ রায়কে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।


ইউএস ফার্স্ট ফ্যামিলি তথা প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের পরিবারের হিটলারের নাৎসি জার্মানির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। শুরুতেই বুশ পরিবারের বংশ পরস্পরা জেনে নেয়া দরকার। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বাবা প্রেসিডেন্ট জর্জ হার্বাট ওয়াকার বুশ হলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের দাদা প্রেসকট শেলডন বুশ ছিলেন সিনেটর। দাদার বাবা স্যামুয়েল প্রেসকট বুশ ছিলেন শিল্পপতি। জর্জ ডব্লিউ বুশের দাদা, মার্কিন সিনেটর প্রেসকট শেলডন বুশ সহায়তা করেছিলেন হিটলারের ক্ষমতারোহণে। প্রেসকট শেলডন বুশ এমন সব কোম্পানির পরিচালক ও শেয়ার মালিক ছিলেন যেগুলোর ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল নাৎসি জার্মানির অর্থ যোগানদাতাদের সাথে। প্রেসকট ১৯২৬ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত সময়ে বিজনেস পার্টনার ছিলেন নাৎসি ওয়ার মেশিনের। ১৯৪২ সালে মার্কিন কংগ্রেস ‘ট্রেডিং উইথ দ্য এনিমি অ্যাক্ট’-এর আওতায় প্রেসকটের কোম্পানির যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। এর আগে পর্যন্ত হিটলারের নাৎসি জার্মানদের সাথে তার ব্যবসায়িক লেনদেন অব্যাহত ছিল।


নাৎসিদের সাথে বুশ পরিবারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলে আসছিল দশকের পর দশক ধরে। কিন্তু ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরার কোনো উদ্যোগ মার্কিন গণমাধ্যমগুলো নেয়নি, বরং উল্টো বুশ পরিবারের কলঙ্কের বিষয়টি প্রকারান্তরে অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু গার্ডিয়ান পত্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আর্কাইভ ও লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে পাওয়া প্রামাণ্য দলিলদৃষ্টে নিশ্চিত হয়েছে প্রেসকট পরিচালিত প্রতিষ্ঠান নাৎসিবাদের ফিন্যান্সিয়াল আর্কিটেক্টদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট মতে, প্রেসকট বুশ ও তার সহকর্মীরা জার্মান শিল্পপতি ফ্রিটজ থাইসেনের সাথে তাদের আর্থিক জোটের বিষয়টি গোপন করতে চেষ্টা করেছিলেন। থাইসেন ছিলেন সে সময় জার্মানের বড় মাপের একজন ইস্পাত ও কয়লা শিল্পপতি। তিনি ১৯৩০-এর দশকের শুরুতে হিটলারকে ক্ষমতায় বসানোর পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে প্রচুর অর্থ খরচ করেছিলেন। জার্মানের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে তিনি তা করেন। সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র মতে, প্রেসকট বুশ ও তার সঙ্গী-সাথীরা আমেরিকানদের যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার পরও প্রায় এক বছর জার্মান শিল্পপতিদের সাথে তাদের ব্যবসায় অব্যাহত রেখেছিল। প্রেসকট বুশের সহযোগীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন : আমেরিকান আইকন ডব্লিউ অ্যাভারেল হ্যারিম্যানের ছোট ভাই ই রোন্যাল্ড হ্যারিম্যান ও প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের দাদার শ্বশুর জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার।


কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয়, এসব ঐতিহাসিক ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। এসব অপরিহার্য ঘটনাবলি প্রকাশ পেয়েছে ইন্টারনেটে এবং গোপনে প্রকাশিত কিছু বইয়ে। কিন্তু গণমাধ্যমগুলো ও বুশ পরিবার এগুলোকে অমূলক বিতর্ক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বুশের অফিসিয়াল বায়োগ্রাফিতেও এসব দলিলপত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল হিস্টোরিয়ানরা ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসবিষয়ক বই প্রকাশকরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে কিংবা পরে যেসব বই প্রকাশ করেছেন, তারাও এসব তথ্য এড়িয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউসও পালন করেছে নীরব ভূমিকা।


সুদীর্ঘ চার প্রজন্ম ধরে জর্জ ডব্লিউ বুশ পরিবার প্রকাশ্য ও গোপন নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানব জাতির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটন করে আসছে, ভূমিকা রেখেছে লাখ লাখ মানুষ হত্যায়। নাৎসি ডেথ ক্যাম্পে লাখ লাখ মানুষ হত্যার দোসরদের যুগিয়েছে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা। বুশ পরিবার অর্থ যুগিয়েছে, সহায়তা দিয়েছে, দুষ্কর্মে মদদ যুগিয়েছে, দালালি করেছে বিংশ শতাব্দীর যত সব স্বৈরশাসক ও অবৈধ শাসকদের। আজ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে মানুষ হত্যার মেশিন বসিয়েছে সে পরিবারের সর্বশেষ প্রজন্মের যথাযোগ্য উত্তরসূরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। তার রক্ত থাবায় ক্ষতবিক্ষত আফগানিস্তানের মানুষ। ইরাকে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে চলেছে বুশের সাঙ্গপাঙ্গরা। এখন ইরানের দিকে বুশের অশুভ থাবা প্রসারিত করার চক্রান্তে লিপ্ত এরা।


জর্জ ডব্লিউ বুশের দাদা প্রেসকট শেলডন বুশের শ্বশুর জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার ছিলেন তৎকালের সেরা মাপের এক সম্পদ লুণ্ঠনকারী। বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বড় বড় সংগঠিত ক্রাইম লর্ড, ওয়ার লর্ড আর অর্থগৃধ কোম্পানিগুলোর সাথে ছিল তার সখ্য। তিনি নিজে ও তার সহকর্মীরা মানুষের জীবনের বিনিময়ে কামিয়েছেন অগাধ ধনসম্পদ। নিজেদের বিত্তশালী করাই ছিল তাদের মুখ্য নীতি। মানবিকতা ছিল তাদের অভিধানে অস্তিত্বহীন। তার সাঙ্গপাঙ্গদের মধ্যে অন্যতম ছিল : ‘স্ট্যান্ডার্ড অয়েল অব নিউজার্সি’র প্রতিষ্ঠাতা জন ডি রকফেলার, রেলরোডের মালিক ই এইচ হ্যারিম্যান এবং হ্যারিম্যানের রেলরোডে অর্থ যোগানদাতা উইলিয়াম রকফেলার। জর্জ হার্বার্ট ওয়াকারের অফিস ছিল ১ নম্বর ওয়াল স্ট্রিটে। তিনি ছিলেন মূল ওয়ালস্ট্রিট ওয়ার প্রফিটিয়ার। যুদ্ধবিগ্রহের সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নিজের বিত্ত-বৈভব বাড়িয়ে তোলাই ছিল তার বড় কাজ।


প্রেসকট শেলডন বুশ বিয়ে করেন জর্জ হার্বার্ট ওয়াকারের কন্যা ডরোথি ওয়াকারকে। প্রেসকট শেলডন বুশ ও ডরোথি ওয়াকারের ছেলে হচ্ছেন জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশ তথা সিনিয়র বুশ আর নাতি আজকের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন ওয়াকার বুশ তথা জুনিয়র বুশ। রক্তের নেশা যার রক্তে আজো নাচন তোলে। প্রেসকট শেলডন বুশ ছিলেন তার বাবা স্যামুয়েল বুশের একমাত্র পুত্র। তেমনি ডারাথি ওয়াকারও ছিলেন তার বাবা জর্জ হাবার্ট ওয়াকারের একমাত্র কন্যা। স্যামুয়েল প্রেসকট বুশ ছিলেন একজন আমেরিকান শিল্পপতি ও শিল্পোদ্যোক্তা।


স্যামুয়েল প্রেসকট বুশ জীবন শুরু করেন রেলরোড ব্যবস্থাপনার একটি ছোট পদে। সেখান থেকে চলে যান ‘বাকিই স্টিল কাস্টিং কোম্পানি’তে। এ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ‘ক্লিভল্যান্ড গ্যাটলিং গান ব্যাটারি’ নামের সামরিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্য, যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৮ সালে। এই বন্দুক আর রেলরোড কানেকশন ফিরে আসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে। তখন বাকিই স্টিল উৎপাদন করে বন্দুকের ব্যারেল ও গোলাবারুদের বাক্স বা শেল কেসিং। তখন স্যামুয়েল প্রেসকট বুশকে তার নিয়োগদাতা মালিকের পুতুল-প্রভু উন্নীত করে ‘ওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ বোর্ড’-এর অস্ত্র, ক্ষুদ্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিভাগের প্রধান পদে। স্যামুয়েল প্রেসকট বুশ রেমিংটন ও অন্যান্য অস্ত্র কোম্পানিকে সরকারি সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে জাতীয় দায়িত্ব নেন।
ধর্মপ্রচারকের পুত্র স্যামুয়েল প্রেসকট বুশকে নির্দোষই মনে হচ্ছিল যতক্ষণ না জানা গেল তার পৃষ্ঠপোষক পার্সি রকফেলার ১৯১৪ সালে ‘রেমিংটন আর্মস’-এর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৯০৫-১৯০৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর সময়ে ফ্র্যাঙ্ক রকফেলার ছিলেন ‘বাকিই স্টিল’-এর প্রেসিডেন্ট। এরপর ১৯০৮-৩৭ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় সে দায়িত্ব পালন করে প্রেসকট শেলডন বুশ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের বছরগুলো ছিল ‘বাকিই স্টিল’-এর গানব্যারেল বিক্রির যুগ। ১৯১৫ সালে একটি নতুন রেমিংটন কারখানা তৈরি করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৬ সালে এ কারখানা চালু হয়। এ সময়ে রাশিয়া থেকে আসে লাখ লাখ রাইফেল তৈরির আদেশ। এর উৎপাদিত গোলাবারুদের ৬৭ শতাংশই প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও রাশিয়া। এগুলো বিক্রি করেছে ‘মার্চেন্টস অব ডেথ’ নামে কথিত রেমিংটন।


স্যামুয়েল প্রেসকট বুশ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্স’-এর প্রথম দিককার একজন প্রেসিডেন্ট। এ অ্যাসোসিয়েশন বরাবরই ছিল শ্রমিক স্বার্থবিরোধী, ভোক্তা অধিকারবিরোধী এবং অতিমাত্রিক রক্ষণশীল। বুশের ‘বাকিই কোম্পানি’র শ্রমিকদের সপ্তাহে ৭ দিন ও দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতো।


প্রেসকট শেলডন বুশ ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশের দাদা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর হয়ে অ্যারিজোনায় কাজ করেন। তখন তিনি কবরস্থান মুছে দিয়ে মাথার খুলি লুণ্ঠন করে তার জার্মান গোপন পাইরেসি ক্লাব ‘স্কাল অ্যান্ড বোনস সোসাইটিজ’-এ পাঠাতেন। এর সদর দফতর ছিল ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি তার চেয়েও বিখ্যাত ছিলেন অ্যাডলফ হিটলার, পোল্যান্ডের ওসউইটজের নাজি স্টর্মট্রুপার্স ও ডেথ ক্যাম্পের প্রতি তার ফিন্যান্সিয়াল ব্যাংকার সাপোর্টের জন্য। শুধু বিত্ত-বৈভব বাড়ানোর জন্য প্রেসকট শেলডন বুশ যুদ্ধ বাধার আগে দালালি করেছেন নাৎসিদের। পার্ল হার্বারের পরও প্রায় এক বছর ধরে চলে তার এ দালালি।


প্রেসকট বুশ ফ্রিটজ থাইসনের ব্যাংকার হওয়ার পর হিটলারেরও ব্যাংকার হন। জার্মান শিল্পপতি ফ্রিটজ থাইসনের বাবা ইস্পাত, কয়লা ও রেলরোড শিল্পে ব্যাপক লুটপাট চালান প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। লুণ্ঠিত সম্পদ লুকিয়ে রাখা হয় হল্যান্ডে। এর কিছু সময় তা ছড়িয়ে দিতে চান আমেরিকায়। সে উদ্দেশ্যে ই আর হ্যারিম্যানের মাধ্যমে নিউইয়র্কে একটি ফ্রন্ট অপারেশন খুলেন। পাওয়া সাক্ষ্য-দলিল মতে তৈরি রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রেসকট শেলডন বুশের নাৎসি কানেকশন অব্যাহত ছিল ১৯৫১ সাল পর্যন্ত।
ফ্রিটজ থাইসন ১৯৪১ সালে ‘আই পেইড হিটলার’. নামে একটি বই লিখেন। সেখানে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন কী করে তিনি ১৯৩৩ সালের প্রথম দিকে স্টর্মস্ট্রুপার্সকে সহায়তা দিয়েছেন। আসলে ফ্রিটজ থাইসন অ্যাডলফ হিটলারের মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাকে তহবিল যুগিয়ে আসছিলেন ১৯২৩ সালের অক্টোবর থেকে। উল্লিখিত বইটিতে থাইসন স্বীকার করেছেন, তার সরাসরি ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল হিটলার, তার প্রপাগান্ডা মেশিন জোসেফ গোয়েবলস ও জার্মান নাৎসি পাইলট রুডলফ হেসের সঙ্গে।


প্রেসকট শেলডন বুশ ও ডারাথি ওয়াকারের বিয়ে হয় ১৯২৬ সালে। ডারাথিই তাকে সুযোগ করে দেন নিউইয়র্কভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘ডব্লিউ এ হ্যারিম্যান অ্যান্ড কোম্পানি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে। পরে প্রেসকট বুশ এর শেয়ার মালিক হন। পরে তা ‘ব্রাউন ব্রাদার্স হ্যারিম্যান’ নামে পরিবর্তিত হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ব্যাংকে রূপ নেয়। এই বিনিয়োগ ব্যাংক জার্মান শিল্পপতি ফ্রিটজ থাইসনের মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে। এরপর এক সময় নিউইয়র্কভিত্তিক ইউবিসি বা ইউনিয়ন ব্যাংকিং কর্পোরেশনের শেয়ার মালিক ও পরিচালক হন। এই ইউবিসি যুক্তরাষ্ট্রের থাইসনের স্বার্থরক্ষায় প্রতিনিধিত্ব করতো। আমেরিকা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরও তিনি এ ব্যাংকে কাজ অব্যাহত রাখেন। পরে সরকারি দলিলপত্রে দেখা যায় প্রেসকট শেলডন বুশ, হ্যারিম্যান, লিয়েভেনস প্রমুখ ইউবিসি শেয়ার মালিকরা কার্যত থাইসনের এবং তার হল্যান্ড ব্যাংকের নমিনি কিংবা ফ্যান্টম শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। এর অর্থ এরা সরাসরি জার্মান ক্লায়েন্টদের হয়ে কাজ করছিলেন। তাই ১৯৪২ সালে ২০ অক্টোবর মার্কিন কংগ্রেস ‘ট্রেডিং উইথ এনিমি অ্যাক্ট’-এর আওতায় ইউবিসি বাজেয়াপ্ত করে এর বিলুপ্তি ঘোষণা করে।

‘ইউএস অফিস অব দ্য এলিয়েন প্রোপার্টি কাস্টোডিয়ান’-এর ২৪৮ নম্বর আদেশের মাধ্যমে এ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আগস্টে কংগ্রেস ভেস্টিং অর্ডার নম্বর ১২৬-এর মাধ্যমে বুশ-হ্যারিম্যানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত থাইসনের প্রতিষ্ঠান ‘হামবুর্গ-অ্যামেরিকান লাইন’ বাজেয়াপ্ত করে। এর ৮ দিন পর কংগ্রেসের তাগিদে সরকার কর্তৃত্ব গ্রহণ করে বুশ-হ্যারিম্যান-থাইসেনের আরো দু’টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ‘হল্যান্ড আমেরিকান ট্রেডিং কর্পোরেশন’ ও ‘সিমলেস স্টিল ইকুইপমেন্ট কর্পোরেশন’। সরকারি দলিল মতে, বুশ ও হ্যারিম্যান জাহাজে করে অনেক মূল্যবান মার্কিন সম্পদ জার্মানে পাচার করে। এসব সম্পদের মধ্যে ছিল স্বর্ণ, কয়লা, ইস্পাত ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ড। ১৯৩১-৩৩ সময় পরিধিতে তা পাচার করা হয়। হিটলার এ সম্পদ কাজে লাগায় তার ক্ষমতায় আরোহণের পেছনে। থাইসন বেশ কিছু কোম্পানির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। এ নেটওয়ার্কের মধ্যে থাইসন বিশ্বব্যাপী সম্পদ স্থানান্তর করতে পারতেন। প্রেসকট শেলডন বুশ এ নেটওয়ার্কভুক্ত কোম্পানিগুলোর অন্তত একটির বোর্ডে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। থাইসন মালিক ছিলেন জার্মানির বৃহত্তম কয়লা কোম্পানির। তা ছাড়া বুশের সংশ্লিষ্টতা ছিল জার্মান-পোল্যান্ড সীমান্তের খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ সিলেমিয়াভিত্তিক ‘কনসোলিডেটেড সিলেসিয়ান স্টিল কোম্পানির’ সাথে। যুদ্ধের সময় এ কোম্পানি বন্দিশিবির থেকে নাৎসি দাস-শ্রমিকদের কাজে নিয়োজিত করত। ১৯৩৫-এর দশকে এ কোম্পানির মালিকানা কয়েকবার বদল হয়।


প্রেসকট বুশ ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা বিশালদেহী ছিলেন। ভালো গান গাইতে পারতেন। বুশ পলিটিক্যাল ডাইনেস্টি তথা রাজনৈতিক পরিবারের তিনিই প্রতিষ্ঠাতা। এক সময় ভাবা হতো তিনি সম্ভাবনাময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। তার ছেলে সিনিয়র বুশ ও নাতি জুনিয়র বুশের মতো তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনিও তার উত্তরসূরিদের মতো গোপন ও প্রভাবশালী ‘স্কাল অ্যান্ড বোনস’ স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন আর্টিলারি ক্যাপ্টেন। তখনই তিনি জর্জ হার্বার্ট ওয়াকারের কন্যা ডরোথি ওয়াকারকে বিয়ে করেন।


ফ্রিটজ থাইসেন তার বাবার ব্যবসায় উত্তরাধিকার সূত্রে পান ১৯২৬ সালে। পরবর্তী সময়ে তিনি হিটলারের বক্তব্যে আকৃষ্ট হয়ে ১৯৩১ সালের ডিসেম্বরে যোগ দেন নাজি পার্টিতে। ১৯২৮ সালে থাইসন মিউনিখে বার্লো প্যালেস কিনে নেন। হিটলার একে ‘ব্রাউন হাউস’-এ রূপান্তর করে নাজি পার্টির সদর দফতর বানান। অর্থ এসেছিল থাইসনের অন্য এক বিদেশী উৎস থেকে। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৩ সালের মধ্যে ইউবিসি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের স্বর্ণ কিনে এর মধ্যে ৩০ লাখ ডলারের স্বর্ণ বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। ১৯৪১ সালে হিটলারের পতন হলে থাইসন জার্মান থেকে পালিয়ে যান। ধরা পড়ে ফ্রান্সে। সেখানে যুদ্ধের বাকি সময় তাকে আটক রাখা হয়।


১৯৩০-এর দশকে থাইসনের সাথে বুশ পরিবারের ব্যবসায় করায় অবৈধ বা অন্যায় কিছু ছিল না। তখন আমেরিকার অনেক সুপরিচিত ব্যবসায়ী জার্মান অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সবকিছু বদলে গেল যখন ১৯৩৯ সালে জার্মান পোল্যান্ডে ঢুকে পড়ল। এমনকি তখন ব্রাউন ব্রাদার্স হ্যারিম্যান যুক্তি দেখাতে পারত ১৯৪১ সালের আগে পর্যন্ত থাইসনের সাথে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখার অধিকার আছে। কারণ, তখনো যুক্তরাষ্ট্র টেকনিক্যালি নিউট্রাল ছিল, পার্ল হার্বার হামলার আগে পর্যন্ত। সমস্যার শুরু ১৯৪২-এর জুলাইয়ে। তখন হ্যারাল্ড ট্রিবিউনে ‘হিটলার্স অ্যানজেল হেজ থ্রি মিলিয়ন ডলার ইন ইউএস ব্যাংক’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়। ইউবিসি’র বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনায় সন্দেহ দেখা দিলো, এরা নাৎসিদের হয়ে গোপনে কাজ করছে। ‘অ্যালিয়েন প্রোপার্টি কমিশন’ তদন্ত শুরু করল। সেই সূত্রে, ১৯৪২ সালের ২০ অক্টোবর ট্রেডিং উইথ এনিমি অ্যাক্টের আওতায় ইউবিসি বাজেয়াপ্ত ও বিলুপ্ত করা হলো।
‘ইউনাইটেড স্টিল ওয়ার্কস’-এ থাইসনের এক অংশীদার ছিলেন ফ্রেডারিখ ফ্লিক। তিনিও ছিলেন বড় মাপের এক ইস্পাত শিল্পপতি বা স্টিল ম্যাগনেট। জার্মানের শক্তিশালী কেমিক্যাল কোম্পানি ‘আইজি ফারবেন’-এর একাংশেরও মালিক ছিলেন ফ্লিক।

পোল্যান্ডে ফ্লিকের কারখানা ব্যাপক হারে পোল্যান্ডের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলোর বন্দীদের ব্যাপকভাবে দাস-শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগায়। ইউনাইটেড স্টিল ওয়ার্কস গোটা এলাকা ছিল বেশকিছু কয়লার খনি ও ইস্পাত কারখানা। পোল্যান্ডের ওসউইটজের কাছাকাছি ছিল এসব কয়লার খনি ও ইস্পাত কারখানা। সেখানেও ওস উইটজের বন্দিশিবিরসহ অন্যান্য বন্দিশিবিরের বন্দী দাস-শ্রমিকদেরও এগুলোতে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য, আইজি ফারবেন নামের কেমিক্যাল কোম্পানি জার্মান ওয়ার মেশিনের জন্য কয়লা গ্যাসীয়করণের মাধ্যমে জ্বালানি বিশ্লেষণ করে। সেখানে রাবার বিশ্লেষণও সম্ভব হয়েছিল। সবিশেষ উল্লেখ্য, এ কোম্পানি ‘জিকলন বি’ গ্যাসও তৈরি করেছিল, যা ওসউইটজ কনসেনট্রেশন ক্যাম্প কমান্ডার রুডলফ হুয়েসের সাক্ষ্যমতে ২ লাখ মানুষ হত্যার জন্য যথেষ্ট ছিল।


বুশ পরিবারের নাৎসি কানেকশন ব্যাপক ও সুদীর্ঘ। কিন্তু ১৯৪২ সালের পরবর্তী সময়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে এসবের কিছুই প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি বুশের প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনী প্রচারণায়ও স্থান পায়নি। বুশ পরিবারের কারো কোনো জীবনীতেও এর কোনো উল্লেখ নেই। তবে বিষয়টি ব্যাপকভাবে উল্লিখিত হয় ওয়েবস্টার টারপ্লে ও অ্যান্টন চেইটকিনের লেখা বই ‘জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ : দ্য আনঅথোরাইজড বায়োগ্রাফি’-তে। বুশ-হ্যারিম্যান-থাইসনের ব্যবসায়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক’জনের এটর্নি হিসেবে চল্লিশের দশকে কাজ করেছিলেন চেইটকিনের বাবা।


বুশ পরিবারের সুদীর্ঘ নাৎসি কানেকশনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয় এ বইয়ে। কিন্তু মূলধারার কোনো মার্কিন গণমাধ্যমে এ সম্পর্কে কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি বিষয়টি তদন্ত করে দেখার তাগিদও অনুভব করেনি; যদিও লেখকদ্বয় পরীক্ষিত দলিলপত্রের উল্লেখ করেছেন এ বইয়ে। প্রধান প্রধান বই বিক্রেতারা এ বইটি পরিবেশন করতেও অস্বীকৃতি জানায়। বুশের সমর্থকরা বইয়ে উল্লিখিত অভিযোগগুলোকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করে। লেখকদ্বয় বইটির কোনো সমালোচনা পর্যন্ত কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ করার সুযোগ পাননি। তবে বুশ পরিবারের নাৎসি কানেকশনের বিষয় বিভিন্ন ইন্টারনেট সাইটে প্রকাশ পেতে থাকে। তেমনি দু’টি সাইট ছিল buzzflash.com Ges takebackthemedia.com কিন্তু কোনো অনলাইন মিডিয়া সুনির্দিষ্টভাবে তা নিশ্চিত করেনি।
নব্বইয়ের দশকে ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সাবেক নাজি ওয়ারক্রাইম আইনবিদ জন লফটাস, যিনি পরে ফ্লোরিডা হলোকাস্ট মিউজিয়ামের প্রেসিডেন্ট হন, একটি বই লিখেন এবং চালু করেন ওয়েবসাইট www.john-loftus.com|

এতে প্রেসকট বুশ, কনসলিডেটেড সিলেসিয়ান স্টিল কর্পোরেশন এবং ওসউইটজের বন্দিশিবিরের বন্দীদের কাছ থেকে জোরজবরদস্তি শ্রম আদায়ের সংশ্লিষ্টতার নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করেন। কিন্তু কোনো মার্কিন সংবাদপত্র ও টিভি সংবাদে তার এক দশকের সাধনার এ ফসলের প্রতি স্বীকৃতি জানায়নি। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়েও বুশ পরিবারের নাৎসি কানেকশনের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ কিংবা অস্বীকার করার কোনো উদ্যোগ মার্কিন গণমাধ্যমে ছিল না। অবশ্য বুশ পরিবার তা অস্বীকার করে। এদিকে নিউজ উইক পত্রিকার পোলিশ ম্যাগাজিন সংস্করণ ‘নিউজউইক পোলাস্কা’র মার্চ ৫, ২০০৩ সংখ্যায় 'ইঁংয ঘধুর চধংঃ' শিরোনামে একটি স্টোরি ছাপে। এতে উল্লেখ করা হয় বুশ পরিবার ওসউইটজ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের ‘ফোর্সড-লেবার প্রিজনার’দের ব্যবহার করে।
১৯৫২ সালে প্রেসকট শেলডন বুশ মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হন। সে সময়ও তার নাৎসি কানেকশন সম্পর্কে কোনো প্রেস রিপোর্ট আসেনি। এরপর আমরা পেলাম সিনিয়র বুশ ও জুনিয়র বুশকে মার্কিন প্রেসিডেন্টরূপে। এরাও বিশ্বজুড়ে মানুষের রক্ত নিয়ে খেলছে। জুনিয়র বুশ আজ দেশের পর দেশ দখল করছেন। মানুষ হত্যার কারখানা খুলেছেন আফগানিস্তানে ও ইরাকে। ইরানকেও সে পথে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা করছেন। জানি না বিশ্বের মানুষ রক্তলিপ্সু বুশ পরিবারের হাতে মানব জাতির মুক্তি কবে হবে!