মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ নিয়ে শঙ্কা

Apr 16, 2018 02:54 pm
 ফোন বিস্ফোরণ শঙ্কার ব্যাপার


নাজমুল হোসেন

পৃথিবীতে এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি প্রয়োজনীয় যোগাযোগমাধ্যমযন্ত্র হলো মোবাইল ফোন। ১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল মটোরোলার জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মার্টিন কুপার প্রথমবারের মতো সেলুলার টেলিফোনে বিশ্বের প্রথম ফোনকলটি করেছিলেন। মোবাইল উদ্ভাবনের পর এর দামও বেশি ছিল আর আকার ছিল বড়। তবে কুপার জানতেন একদিন মোবাইল ফোনের দাম আর আকার দুই-ই মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসবে। আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে মানুষের হাতে এসেছিল প্রথম মোবাইল ফোন সেট। আর সেটি ছিল মটোরোলার গবেষক মার্টিন কুপারের আবিষ্কৃত ডায়না টিসি। কুপার সেই মোবাইল ফোন দিয়ে প্রথম কথা বলেছিলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী বেল ল্যাবসের গবেষক জোয়েল এনজেলের সাথে। মোবাইল ফোন সেট তৈরির জন্য তখন আলাদাভাবে কাজ করেছিলেন মটোরোলার গবেষক মার্টিন কুপার ও বেল ল্যাবসের জোয়েল এনেজেল। তবে শেষপর্যন্ত বিজয়ের হাসি হেসেছিলেন কুপার।


তবে কুপারের সেই হাসি প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে কান্নায় পরিণত হতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ফলে বিপাকে পড়ছেন গ্রাহক। সর্বশেষ নকিয়ার ফোন বিস্ফোরণে এক তরুণী মারাই গেছেন, যা রীতিমতো শঙ্কার ব্যাপার!


মোবাইল ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। কারণ অতিরিক্ত ব্যবহারে যেকোনো মুহূর্তেই আপনার বিপদ ঘটিয়ে দিতে পারে ছোট এই ডিভাইসটি। ঘুমের সময় যদি বিছানায় মোবাইল ফোন রাখা হয় তবে আগুন ধরে বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে। একই সাথে আরো মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। তারা বলছেন, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মতো কোটি কোটি যন্ত্রের ব্যাটারি থেকে কয়েক ডজন মারাত্মক গ্যাস বের হয়।


‘ন্যানো এনার্জি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়। চেক রিপাবলিক ও চীনের গবেষকেরা সম্প্রতি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি থেকে বের হওয়া ১০০-র বেশি মারাত্মক গ্যাস শনাক্ত করেছেন। এসব গ্যাসের মধ্যে রয়েছে কার্বন মনোক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্যাস থাকে। বিছানার পাশে মোবাইল ফোন রাখলে ত্বক, চোখ ও নাকের মধ্যে তীব্র চুলকানিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। ইনস্টিটিউট অব এনবিসি ডিফেন্স ও সিনহুয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বলেন, বেশির ভাগ ফোন ইউজার ফোনের অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া অথবা ডিভাইস খারাপ চার্জার ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে জানেন না।


আজকাল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। লাখো পরিবারে এ ধরনের ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। তাই সাধারণ মানুষের এ ধরনের ব্যাটারির ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত। গবেষক সান বলেন, কোনো ছোট ও বদ্ধপরিবেশে যদি কার্বন মনোক্সাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান বের হতে থাকে, তবে তা খুব কম সময়ের মধ্যে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি ও বিমানের মতো জায়গায় বেশি ক্ষতি হতে পারে।


লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে কেন বিস্ফোরণ ঘটে এটা জানতে হলে আগে জানতে হবে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি গঠন সম্পর্কে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির দুটি ইলেক্ট্রোড থাকে একটি ধনাত্মক আয়নের ক্যাথোড, অন্যটি ঋণাত্মক আয়নের অ্যানোড। দু’টি অংশকে আলাদা করে রাখে খুবই পাতলা একটি প্লাস্টিক পর্দা। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যখন চার্জ দেয়া হয়, তখন ক্যাথোড থেকে ইলেক্ট্রোলাইট বা লিথিয়াম আয়নগুলো বল প্রয়োগের কারণে অ্যানোডের অংশে ধাবিত হয়।


একইভাবে ব্যাটারির চার্জ যখন খরচ হতে থাকে বা কমতে থাকে, তখন একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটে। লিথিয়াম আয়ন তখন অ্যানোড থেকে ক্যাথোডের দিকে ছুটতে থাকে। সাধারণত ছোট ব্যাটারি বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যাটারিতে লিথিয়াম আয়নের একটি সেল থাকে। ল্যাপটপ ব্যাটারি বা অন্য বড় ব্যাটারিতে ৬ থেকে ১২টি পর্যন্ত লিথিয়াম আয়ন সেল থাকতে পারে। ইলেকট্রিক গাড়ি বা বিমানের ব্যাটারিতে শতাধিক লিথিয়াম আয়ন সেল ব্যবহার করা হয়।

কেন বিস্ফোরণ ঘটে

যে কারণে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি এত কাজের, সেই একই কারণেই কিন্তু এ ধরনের ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ ঘটে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অতুলনীয়। সঞ্চিত বিদ্যুৎ যখন ধীরে ধীরে খরচ হয়, তখন ব্যাটারিটি নিরাপদ। কিন্তু লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যদি একবারেই এর সঞ্চিত সমস্ত বিদ্যুৎ শক্তি ছেড়ে দিতে চায়, তখনই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


যখন ব্যাটারির ভেতরে অ্যানোড এবং ক্যাথোডকে আলাদা করে রাখা পাতলা পর্দা কাজ না করায় কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অ্যানোড ও ক্যাথোড পরস্পর যুক্ত হয়ে যায়, তখন ব্যাটারি গরম হতে থাকে। এর ফলে শর্ট সার্কিট হয়ে ব্যাটারিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরণ ঘটে। বেশ কিছু কারণে অ্যানোড ও ক্যাথোডকে পৃথক করে রাখা পাতলা প্লাস্টিক পর্দাটিতে সমস্যা হতে পারে। এর মধ্যে আছে

ডিজাইন ও উৎপাদনজনিত সমস্যা

ব্যাটারি ডিজাইনে যদি গণ্ডগোল থাকে, সে ক্ষেত্রে ব্যাটারির দুটি ইলেক্ট্রোড এবং পৃথক করে রাখা পর্দার মাঝে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এ সমস্যা হতে পারে। চার্জ দেয়ার পর ব্যাটারির ইলেক্ট্রোড কিছুটা বাঁকানোর ফলে শর্ট সার্কিট হয়েও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। ডিজাইনে সমস্যা না থাকার পরও শুধু উৎপাদনজনিত সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।

বাহ্যিক প্রভাব

বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। ব্যাটারি বা ফোন বারবার হাত থেকে ফেললে বা ব্যাটারিতে বাইরের কোনো আঘাতের কারণেও মধ্যবর্তী সেপারেটর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চার্জারে সমস্যা

চার্জারে ত্রুটির কারণেও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে বাড়তি চার্জ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো কারণে এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে বাড়তি চার্জের কারণে ব্যাটারি গরম হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এজন্য চার্জ দেয়া সম্পন্ন হলে ফোন চার্জার থেকে খুলে ফেলতে হবে। এ ছাড়া ফোনের অরিজিনাল চার্জার ছাড়া নি¤œমানের চার্জার দিয়ে ফোন চার্জ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে অল্প কিছু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি খুবই সময়োপযোগী এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাটারি।

নকিয়া ফোন বিস্ফোরণে কিশোরী নিহত

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে সম্প্রতি নকিয়া ৫২৩৩ মডেলের একটি মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। নিহত কিশোরীর নাম উমা ওরাম। সে ওড়িশা রাজ্যের খেড়িয়াকানি জেলার বাসিন্দা। ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় ওই কিশোরী তার এক আত্মীয়ের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় ফোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই কিশোরী মারাত্মক আহত হন। হাত, পা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত পান। অচেতন অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নকিয়া স্মার্টফোনের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবাল এক বিবৃতিতে জানায়, এক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তারা সত্যিই দুঃখিত। এইচএমডি গ্লোবাল ওই স্মার্টফোনটি তৈরি কিংবা বিক্রয় করেনি বলে দাবি করেছে। একসময় হ্যান্ডসেটের রমরমা ব্যবসা ছিল নকিয়ার। তবে অন্যান্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাইক্রোসফটের কাছে সেলফোন বিভাগ বিক্রি করে দেয় নকিয়া। তবে ২০১৬ সাল থেকে নকিয়া নামে হ্যান্ডসেট বাজারে আনতে শুরু করে এইচএমডি গ্লোবাল।


ভারতে বিমানে স্যামসাংয়ের ফোন বিস্ফোরণ

গত বছরের অক্টোবরে বিমানে বিস্ফোরিত হলে স্যামসাংয়ের ফোন। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দিল্লির একটি বিমানে। স্যামসাংয়ের একটি ফোন দিল্লি-ইন্দ্রো জেট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে বিস্ফোরিত হয়। এতে করে বিমানের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। অর্পিতা ঢাল নামে এক নারী যাত্রীর স্যামসাং গ্যালাক্সি জে বিস্ফোরিত হয়েছে। তিনি ও ওই ফোনটি আরো দুইটি ফোনের সঙ্গে একটি ব্যাগে ভরে বিমানের সিটের নিচে রেখে দিয়েছিলেন। সেখানেই ফোনটি বিস্ফোরিত হয়।


বিমান আকাশে ওড়ার ১৫ মিনিট পর ওই যাত্রীর ব্যাগ থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। তখন তিনি কেবিন ক্রুদের ডাকেন। ক্রুরা এসে ফোনটি ব্যাগ থেকে বের করে পানি ভর্তি ট্রেতে রাখেন। এতে করে ফোনটি থেকে ধোঁয়া ওঠা বন্ধ হয়। এর আগে ২০১৬ সালে স্যামসাংয়ের নোট সেভেন বিস্ফোরণ কেলেঙ্কারির পর্যায়ে যায়। তখন প্রতিষ্ঠানটি এই ফোন বাজার থেকে তুলে নিয়ে এর উৎপাদনই বন্ধ করে দেয়।
গত বছরের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ায় এক ব্যক্তির বুক পকেটে রাখা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেই দৃশ্য আবার সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যা অনলাইন দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ফ্লোরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ব্যক্তির পকেটে থাকা মোবাইল বিস্ফোরণ হয়। সাথে সাথে তার গায়ে থাকা কাপড়ে আগুন লেগে যায়। লোক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং হন্তদন্ত হয়ে গায়ের কাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কাপড় খুলে তিনি বিপদমুক্ত হন।


মোবাইল ফোনটি সামস্যাং গ্র্যান্ড ডুয়োজ মডেলের। ২০১৩ সালের মডেল ছিল ফোনটির। এ বিষয়ে সামস্যাং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, থার্ড পার্টি ব্যাটারির কারণেই ফোনটি ফেটে যায়। সামস্যাং ফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যাটারিটি কোন কোম্পানির তা জানা যায়নি।

 

এলজি ফোন বিস্ফোরণ

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এলজির জি৩ স্মার্টফোন বিস্ফোরণে গ্রাহকের বিছানার তোশক বা ম্যাট্রেস ফুটো হয়ে যায়। অবশ্য এ বিস্ফোরণে কেউ আহত হননি সেটাই রক্ষা। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, আসল চার্জার বা ব্যাটারি ব্যবহার না করায় এটা হয়েছে কিংবা কেউ হয়তো ভাববেন বালিশের বা কোনো কিছুর নিচে ফোন চাপা পড়ায় এ রকম ঘটেছে। তবে স্মার্টফোনের ব্যাটারি, চার্জার সবই আসল ছিল। এমনকি ফোনটি চার্জ দেয়ার সময়ও তা স্বাভাবিকভাবে বিছানার ওপরই রাখা ছিল। এটা তাই কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে। দুর্ঘটনার সময় ধোঁয়ায় ঘর ভরে যায়।

একই বছরের আগস্ট মাসে ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিমান আকাশে ওড়ার আগমুহূর্তে এক যাত্রীর আইফোন ৫-এ আগুন লাগে। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কিশোরীর পকেটে থাকা আইফোন ৫সিতে আগুন লেগে পা পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও শোনা যায়। শুধু অ্যাপল নয়, এ বছরের জুলাই মাসে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস৪ স্মার্টফোনে আগুন লেগে বিছানা-বালিশ পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে আসে।
চার্জ দেয়া অবস্থায় বিস্ফোরণ

তামিলনাড়ুতে চার্জ দেয়া অবস্থায় কথা বলার সময় মুঠোফোন বিস্ফোরণে নয় বছরের এক শিশু দগ্ধ হয়েছে। চার্জ দেয়া অবস্থায় ফোনকল ধরে (রিসিভ) কথা বলার সময় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের কাছে মাদুরানথাকামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চার্জ চলা অবস্থায় বাইরে থেকে আসা ফোন কল ধরার পরই মুঠোফোনটি বিস্ফোরিত হয়। এতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ধানুসের ডান হাত, মুখ ও চোখ দগ্ধ হয়।

আইফোন ৮ মডেলের একটি ফোনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গ্রাহক জানিয়েছেন, ফোনটি চার্জ দেয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে বড় কোনো ক্ষতি বা আগুন দেখা না গেলেও ফোনটি কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। কেসিংটিও বিস্ফোরণের চাপে নষ্ট হয়ে গেছে। ফোন ব্যবহারকারী ওই ব্যক্তি জানান, আইফোনটি তিনি পাঁচ দিন ব্যবহার করেছেন। এর পরেই সমস্যা হয়। আইফোনের সরবরাহ করা চার্জার ও কেবল দিয়েই চার্জ হচ্ছিল ফোনটি।


বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো এ ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত নকল ব্যাটারি ও চার্জার ব্যবহার করলে ঘটতে পারে। তাই ব্যাটারি ও চার্জার ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। ফোন চার্জ দেয়ার সময় গেম খেলা বা ফোন অতিরিক্ত গরম হয় এমন কাজ করা উচিত নয়। ফোন অধিক তাপযুক্ত কোনো স্থানে রাখা উচিত নয়। ফোনে যাতে পানি লেগে শর্ট সার্কিট না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখা উচিত। ফোনে চার্জ দেয়ার সময় কিংবা অন্য কোনো অবস্থায় ফোন ঢেকে রাখা বা বিছানার নিচে রাখা উচিত নয়। বাতাস চলাচল করে এমন উন্মুক্ত স্থানে ফোন রাখা উচিত।