যে স্বপ্ন দেখেছিলেন টিপু সুলতান

Mar 11, 2018 03:28 pm
টিপু সুলতান

 

টিপু সুলতান কল্পনায় ও বাস্তবে


গোলাপ মুনীর


২০১৫ সালের ডিসেম্বরে কডাভা (Kodava) অ্যাক্টিভিস্টদের একটি গোষ্ঠী ভারতের কর্নাটক রাজ্যের একটি বনের দেবাতিপারাম্বু নামে এক জায়গায় একটি পাথরের স্মৃতিফলক স্থাপন করে। এই স্থানটি কডাগু (Kodagu) জেলাসদর মাদিকেরি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। এই স্মৃতিফলকটি স্থাপন করা হয়, এই বলে যে টিপু সুলতান ১৭৮৫ সালে ১৩ ডিসেম্বর কডাভাদের (Kodavas) ওপর এক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন। কিন্তু কর্নাটক বন বিভাগ স্মৃতিফলকটি ভেঙে ফেলে। টিপু সুলতান মারা যান আজ থেকে ২১৭ বছর আগে, সেই ১৭৯৯ সালে। সেই থেকে কডাভাদের মধ্যে টিপুবিরোধী একটি প্রচারণা অব্যাহত আছে।


কডাভারা কডাগু এলাকার জাতক, জন্মসূত্রে সেখানকার অধিবাসী। কফি চাষের জন্য এরা বিখ্যাত। দুই দশক ধরে কডাগু হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নাটকের সীমান্ত এলাকার এক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই এলাকায় টিপুর আক্রমণের বিষয়টি এই এলাকার সমৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর ইতিহাসের বর্ণনায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। কর্নাটকের কংগেস সরকার ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বরে টিপুর জন্মদিনে ‘টিপুজয়ন্তি’ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন এর প্রতিবাদ-বিক্ষোভে মাদিকেরিতে দুইজনের মৃত্যু হয়। তবে টিপুর জন্মজয়ন্তি পালনের সময় এর বাইরে খুব বড় ধরনের তেমন কিছু ঘটেনি। যদিও কডাভারা এই অনুষ্ঠানের আগের কয়েক দিন বড় ধরনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করে। দুই বছর ধরে বিজেপি কডাভাদের এই টিপুবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন জুগিয়ে আসছে। ফলে কডাভাদের আন্দোলন আরো উদ্দীপ্ত হতে পেরেছে।


অতীতে কডাগু নামে একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে ‘কডাভা ন্যাশনাল কাউন্সিল’ বা সিএনসি। এর মাদিকেরিভিত্তিক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এন ইউ নাছাপ্পা বলেছেন, ‘টিপু সুলতান যখন ১৭৮৫ সালে কুর্গ (কডাগু) আক্রমণ করেন। তখন সেখানে জাতিগত নিধন চলেছে। দেবাতিপারাম্বুতে যে হত্যাযজ্ঞ চলেছে তাকে হলোকাস্টের সাথে তুলনা করা যায়। এই গণহত্যায় ফরাসি সৈন্যদের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা জানিয়ে সিএনসি ফরাসি প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি দিয়েছে।’ নাছাপ্পা উল্লেখ করেন, দেবাতিপারাম্বুতে ৬০ হাজার নিরস্ত্র কডাভাকে হত্যা করা হয়।


তার এই অভিযোগ সমর্থন করেন আড্ডানডা কারিয়াপ্পা। তিনি একজন থিয়েটার অ্যাক্টিভিস্ট এবং টিপুজয়ন্তিবিরোধী হোরাতা সমিতির (টিপু জয়ন্তিবিরোধী সংগাম কমিটি) স্টেট কনভেনার। তিনি কানাড়া ভাষায় লিখেন ‘টিপু মাত্তু কডাভারু’ (টিপু এবং কডাভা) শিরোনামের এক বই। তিনি বলেন, হায়দার আলী ও টিপু কডাগু আক্রমণ করেছিলেন ৩২ বার। এর মধ্যে ৩০টিতেই পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘টিপু আলোচনায় বসার কথা বলে কডাভা বাহিনীর সাথে প্রতারণা করেছিলেন। তার বাহিনী ও ফরাসি সৈন্যরা আলোচনার স্থানটি ঘিরে ফেলে। এরপর শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। এই হত্যাযজ্ঞ এতই ব্যাপক ছিল যে, এরপর কাবেরি নদী রক্তে লাল হয়ে ওঠে।’


মনে করা হয়, টিপু ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার লোককে বন্দী করে শ্রীরঙ্গপট্টম নিয়ে যান। আর সেখানে তাদেরকে জোর করে মুসলমান করা হয়। কারিয়াপ্পা মনে করেন, এই অঞ্চলে মুলমানদের উপস্থিতি ঘটে তখন, যখন ১৭৯২ সালে কিছু ধর্মান্তরিত মুসলিম কাডভা এই এলাকায় ফিরে আসে। এই এলাকার আরেকজন লেখক সি পি বেলিয়াপ্পা তার বই ‘নাগেটস ফ্রম কুর্গ হিস্ট্রি’-তে ৮০ হাজার বন্দীর কথা উল্লেখ করেন।


বিরাজপেতভিত্তিক একজন আইনজীবী এ কে সুব্বাইয়া এসব ঐতিহাসিক বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের কোনো হত্যাযজ্ঞ ঘটেনি। টিপু মাত্র কিছুসংখ্যক কডাভাকে আটক করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘দেবাতিপারাম্বুতে যে ঘটনা ঘটেছিল, তা অতিরঞ্জিত করেছেন কতিপয় কডাভা। সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে তারা কাজটি করেন। টিপুবিরোধী প্রতিবাদের নেতৃত্বে যে কাডাভা সমাজ (কমিটি), ওইসব লোক তা নিয়ন্ত্রণ করছে। আপনাকে বুঝতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাডাভারা বিজেপির সমর্থক।’


বিশ্বব্যাপী ঐতিহাসিক ঘটনা ব্যবহার করা হয়েছে জাতিসত্তার সমসাময়িক অবয়বের বর্ণনা চিত্রিত করতে। ভারতের ইতিহাস ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে বৈধতা দিতে। কিন্তু এই বর্ণনা কিছু অনিষ্টকর দুষ্টবুদ্ধির অ্যাজেন্ডানির্ভর শৌখিন ইতিহাসবিদ ক্রমবর্ধমান হারে ইতিহাস বিকৃত করে চলেছে এটুকু প্রমাণ করতে যে যেসব মুসলমান রাজা ভারত শাসন করেছেন তাদের প্রতেকেই ছিলেন বাইরে থেকে আসা, তথা আউটসাইডার। আর তা ছিল ভারতীয় জাতিসত্তার একটি বিপথগামিতা। সমসাময়িক মুসলমানদের ‘অন্য কেউ’ ইতিহাসের নানা বর্ণনাকে এরা বিকৃত করে চলেছে। এরা যুক্তিবহির্ভূতভাবে বলতে চায়, মুসলিম শাসকেরা ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে এক-একজন এলিয়েন।


উদাহরণ টানা যায় মোগল বাদশাহ আরোঙ্গজেবের। তার শাসন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সূক্ষ্ম তারতম্য রয়েছে। তাকেও করে তোলা হয়েছে একজন গোঁড়া ধার্মিক রূপে। কেটে খাটো করা হয়েছে তার জনপ্রিয়তার ইতিহাস। কর্নাটকে টিপু হয়ে উঠেছেন এর সহজ শিকার। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ, তার মধ্যে রয়েছে তিনি কডাভাদের জোর করে মুসলমান বানিয়েছেন, ম্যাঙ্গুলুরের (বর্তমানে ম্যাঙ্গালুরু) ক্যাথলিকদের ও উত্তর কেরালার নায়ারদের  মুসলমান বানিয়েছেন। স্মরণ রাখা প্রয়োজন, টিপু উল্লেখযোগ্য সময় ও শক্তি ব্যয় করেছেন এই অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনের পেছনে। সেখানে ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপ ও প্রভাব ছিল প্রবল। এ লেখায় টিপুর কডাগু অভিযান বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে, এটুকু বোঝাতে কী করে ইতিহাস বানানো হয়েছে এবং তাকে ব্যবহার করা হয়েছে পক্ষপাতদুষ্ট অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজে।


টিপুর জন্ম ১৭৫০ সালে। ভিন্ন মতে ১৭৫১ সালে। তার বাবা মহীশুর বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা সূত্রে ১৭৬১ সালে হন মহীশুরের ডিফেক্টো শাসক। এমনকি এর আগেও হায়দার আলী মহীশুর নিয়ন্ত্রণ করতেন। Wodeyar শাসকেরা প্রচেষ্টা চালান কডাগুকে তাদের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে। হায়দার আলী প্রথম কডাগু অভিযান চালান ১৭৬৫ সালে, এরপর ১৭৭৩ সালে। তখন কডাগু শাসন করতেন লিঙ্গিয়াত রাজবংশের রাজারা। তাদের বলা হতো হালেরি রাজা। সেখানে আভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নেন হায়দার আলী।
হায়দার আলী মারা যান ১৭৮২ সালে। তার আধুনিক জীবনীকার মহিব্বুল হাসান লিখেন : ‘টিপু উত্তরাধিকার সূত্রে পান এক বিশাল রাজ্য। এর উত্তরে ছিল কৃষ্ণা নদী, দক্ষিণে ট্রাবানকোর স্টেট ও টিনিভেলি (তিরুনেলভেলি) ডিস্ট্রিক্ট। আগে ছিল ইস্টার্নঘাট, আর পশ্চিমে আরব সাগর।’ কডাগুও ছিল তার রাজ্যের অংশ। এটি শ্রীরঙ্গপট্টম ও সাগরে যাওয়ার সরাসরি পথ হওয়ায় কডাগু কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হায়দার আলী ও টিপুর বিরুদ্ধে প্রায়ই কডাগুতে বিদ্রোহ ঘটত।

 

কডাগুতে টিপু

যখন তার জেনারেলরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছিলেন না, তখন অর্থাৎ ১৭৮৫ সালে টিপু নিজে কডাগু যান। তার শাসনামলের প্রাইমারি ক্রনিকলার মীর হুসেইন আলী খান কিরমানি লিখে গেছেন টিপুর এ অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ। তিনি জানান, টিপু সুলতান এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছিলেন। তিনি সেখানে তার অবস্থানের সময় তার মাদেকেরি দুর্গকে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। কিরমানির বর্ণনায় কডাগুর জনগোষ্ঠী ও প্রাকৃতিক দৃশ্য ও টিপু বাহিনীর নানা বিজয়কাহিনীর উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানেও কোনো হত্যাযজ্ঞের কথা বর্ণনায় পাওয়া যায় না। কিরমানি উল্লেখ করেছেন : ‘সাত মাস ও আরো কয় দিন সময়ে ৮০ হাজার নারী-পুরুষকে বন্দী রাখা হয়।’ তিনি লিখেছেন, ‘যখন সুলতান শ্রীরঙ্গপট্টম পৌঁছেন তখন বন্দীদের নেয়া হয় কুর্গ কান্ট্রিতে, যাদের সবাইকে মুসলমান করা হয় এবং তাদের পরিচিতি হয় আহমদি। এদের দিয়ে তৈরি করা হয় আটটি রিসালা বা রেজিমেন্ট। এদের সুশৃঙ্খল ও প্রশিক্ষিত করে তোলার জন্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের নিয়োজিত করা হয়। অতি অল্প পরিশ্রমেই সঠিক নির্দেশনা পেয়ে এসব ওয়াইল্ডম্যান নিজেদের পরিপূর্ণ করে তোলেন সামরিক অনুশীলন ও আন্দোলনের জন্য।’


কিরমানির কর্মসাধনা হচ্ছে পাইমারি সোর্স, যা নাছাপ্পা ও কারিয়াপ্পা উল্লেখ করেন তাদের দেবাতিপারাম্বু সম্পর্কিত আলোচনায়। কিন্তু কিরমানির লেখায় গণহত্যার কোনো উল্লেখ ছিল না। টিপুসম্পর্কিত প্রায় সব বিচক্ষণ ইতিহাসবিদ কিরমানির লেখা উল্লেখযোগ্য সতর্কতার সাথে ব্যবহার করেছেন। মহিব্বুল হাসানের লেখা টিপুর জীবনী ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হলেও এটি টিপু সম্পর্কিত একটি ব্যাপকভিত্তিক বই হিসেবে বিবেচিত। এতে স্বীকার করা হয় কিরমানি টিপু ও তার বাবাকে চিনতেন। মহিব্বুল হাসান উল্লেখ করেন, ‘শ্রীরঙ্গপট্টমের পতনের পর তিনি (কিরমানি) হন ইংরেজদের পেনশনার। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি কলকাতায় তার বইটি লিখেন। অতএব তার পক্ষপাত ছিল ইংরেজদের প্রতি। তা ছাড়া তার তারিখগুলো ছিল ভুল......অধিকন্তু যদিও তার টিপু চরিত্রের আলেখন বা বর্ণনা সার্বিকভাবে ছিল সমবেদনাপূর্ণ, কিন্তু তিনি নিজে গোঁড়া হওয়ায় তিনি টিপুকে উপস্থাপন করেছেন একজন গোঁড়া লোক হিসেবে, যার প্রতিটি কাজ নির্ধারিত হতো তার ধর্ম দিয়ে। এবং যার জীবনের লক্ষ্য ছিল ‘তলোয়ারের সাহায্যে ইসলামের প্রসার’।

প্যাত্তলি পালামে

দ্বিতীয় আরেকটি উৎস হচ্ছে Pattole Palame, যা নাাছাপ্পা ও কারিয়াপ্পা উল্লেখ করেছেন টিপুর চরিত্র বিশ্লেষণে। ‘প্যাত্তলি পালামে’ হচ্ছে কডাভা লোকসংস্কৃতি তথ্যসম্ভার। এটি লিখেছেন নাদিকেরিয়ান্দা ছিন্নাপ্পা (Nadikerianda Chinnappa)। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে, কানাড়া ভাষায়। এই বইতে টিপুর হাতে বন্দীর সংখ্যা ১১১,০০০ বলে উল্লেখ করা হয়। ‘প্যাত্তলি পালামে’র ভাষান্তরিত ইংরেজি সংস্করণ ২০০৩ সালে বের করেন ছিন্নাপ্পার নাতি-নাতনিরা, যারা ভারতের সুপরিচিত জাতীয় ইংরেজি সাময়িকী ‘ফ্রন্টলাইন’-এর প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেন, বইটিতে বন্দীর সংখ্যা যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা খুবই অতিরঞ্জিত। তার নাতনি বভেরিয়ান্দা নানজাম্মা বলেন, ‘আমার মনে হয়Ñ আমাদের দাদা অবশ্যই একটি অতিরিক্ত এক (১) সংখ্যাটিতে যোগ করে থাকতে পারেন। কারণ, বন্দীদের সংখ্যা ১১,০০০-এর বেশি হতে পারে না।’ তিনি ও তার স্বামী বি এম ছিন্নাপ্পা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন এই অঞ্চলের কডাভা লোকসংস্কৃতির ওপর। তারা বলেন, ‘আমাদের যাবতীয় পড়াশোনা ও মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা থেকে আমরা জানতে পেরেছি, টিপুর সেনাবাহিনীর হাতে কয়েক হাজার লোক বন্দী হয়ে থাকতে পারে। আর এদের সবাই কডাভা ছিল না। কারণ, তখন এ এলাকায় অন্যান্য সমাজের লোকেরও বসবাস ছিল।’ তবে এই অতিরঞ্জিত সংখ্যার ব্যবহারটা কী করে হলো? এমনটি জানতে চাইলে নানজাম্মা বলেন, আমাদের দাদা কিছু ব্রিটিশ উৎস থেকে এই সংখ্যাটি পেয়ে থাকতে পারেন।


পাশ্চাত্যের কিছু লেখকের দেয়া জনসংখ্যাগত সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে এই অতিমাত্রিক সংখ্যা সম্পর্কে একটি প্রশ্ন জাগে। ১৮৮৫ সালে জার্মান মিশনারি হারমান ফ্রেডরিখ মুয়েগলিংয়ের এক লেখায় উল্লেখ আছে, এর আগে কডাগু লোকসংখ্যা ছিল ২৫ হাজার বা ২৬ হাজার। আর কডাভা ফাইটিংম্যানদের সংখ্যা খুব বেশি হলে ৪০০০ বা ৫০০০।
কুর্গেও প্রথম ডিস্ট্রিক্ট গ্যাজেটিয়ার প্রকাশিত হয় ১৮৭০ সালে। রেভ জি রিখটার কডাগুর লোকসংখ্যার উল্লেখ করেন ১,১২,৯৫২ জনের মধ্যে ২৪,৫৮৫ জন কুর্গ (কডাভা), ৮০,৯৩৪ জন হিন্দু, ৫,৭৭৪ জন মুসলমান। ১৮৭১ সালে ভারতে প্রথম আদমশুমারি হয়। এই আদমশুমারি অনুযায়ী, কুর্গ ১,৫৪,৪৭৬ জন এবং ১১,৩০৪ জন মুসলমান। মহীশুরের হিন্দু রামাচন্দ রাও পুঙ্গানরির দেয়া সংখ্যা হতে পারে সত্যের কাছাকাছি। তার দাবি কডাগুতে ৫০০ জনের মতো নারীপুরুষ ও শিশুকে বন্দী করে মহীশুরে নেয়া হয়। এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, নাছাপ্পা ও কারিয়াপ্পার দেয়া সংখ্যাগুলো অতিরঞ্জিত। অপর দিকে রিখটারের দেয়া সংখ্যাগুলোও সঠিক নাও হতে পারে, কারণ তিনি দেখিয়েছেন কডাগুও জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র ছিল কডাভা।

কডাগুতে মুসলমান

লোকগাথা থেকে জানা যায়, ১৭৯২ সালের তৃতীয় অ্যাংলো-মহীশুর যুদ্ধের পর টিপুকে কডাগুর দাবি পরিত্যাগ করতে হয়। এরপর ৯০টি পরিবার কডাগুতে ফিরে আসে। এরা ধর্মন্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছিল। মজার বাপার হলো, শোনা যায় এরা ফিরে এলে তাদেরকে তাদের পরিবার ও সমাজ গ্রহণ করেনি। তখন লিঙ্গায়াত রাজা তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করেন কডাগুর ২০টি স্থানে। এটি স্পষ্ট, কিছু কডাভা মুসলমান হয়েছিল। তবে এদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। এখনো কডাগুতে রয়েছে ‘কডাভা মুসলিম’ বা ‘‘Jemma Mapille’’। এরা কথা বলে কডাভাদের ভাষা ‘Kodava Tak’-এ। এতে প্রমাণ হয়, সে সময় ইসলাম ধর্মে ধর্মন্তরের ঘটনা ঘটেছিল। কিছু কিছু কডাভা মুসলমান তাদের কডাভা বংশীয় পারিবারিক নাম অব্যাহত রেখেছিল মুসলমান হওয়ার পরও। তা সত্ত্বেও টিপুর আগে কডাগুতে মুসলমান ছিল এ দাবি মিথ্যা নয়। মাদিকেরি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের ইম্মেমাদুতে সুফি শহীদ নামে এক সুফি দরবেশের একটি সমাধি রয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে যায়, তার সময়ে সেখানে মুসলমানদের উপস্থিতি ছিল। এই দরগাহর ব্যবস্থাপনায় থাকা ট্রাস্টের পক্ষ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। এই পুস্তিকাতে বলা হয় এই দরবেশ এই অঞ্চলে আসেন আজ থেকে ৩৫০ বছর আগে। তার ছিল অলৌকিক ক্ষমতা। এতে স্পষ্টত উল্লেখ করা হয়, তার সাথে আন্তরিক সম্পর্ক ছিল একটি কডাভা পরিবারের (ম্যানাভিট্টারা পরিবার)।


হেসেইন খান লোহানী নামে এক মুসলমান ছিলেন কডাগুর মহারাজা ভিরা রাজেন্দ্রর ‘মুনশি’। সেই অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে এই অঞ্চলে অনেক অভিজাত মুলমানের বসবাস ছিল। এরা উর্দুতে কথা বলত এবং এদের বলা হতো জাগির তুরকাস। এদের উত্তর পুরুষের বসবাস এখনো কডাগুতে রয়েছে। আমরা যদি কিরমানির বর্ণনা বিশ্বাস করি, তবে তার বর্ণনা অনুযায়ী বলতে হয়, সেখানে কডাভাদের স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। সে অঞ্চলে মুসলমান ব্যবসায়ীরা ছিল। এরা অবশ্যই এসেছিল উপকূলীয় কর্নাটক ও উত্তর কেরালা থেকে। তৃতীয় অ্যাংলো-মহীশুর যুদ্ধের পর টিপুকে শ্রীরঙ্গপট্টম চুক্তির শর্তানুসারে কডাগুর দাবি পরিত্যাগ করতে হয়। ব্রিটিশেরা কডাগু অঙ্গীভূত করে নেয় ১৮৩৪ সালে। যখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায়, ব্র্রিটিশেরা তার রাজ্য কডাগু দখল করে নিতে চায় তখন এ রাজ্যের সর্বশেষ রাজা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের আগে রাজা তার হিন্দু-মুসলিম প্রজাদের প্রতি আহ্বান জানান, হালিরি ডাইন্যাস্টির ব্যানারে বিদেশী উৎপীড়কদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।


যেখানে টিপুর বিরুদ্ধে এবং একই সাথে তার কডাগু অভিযান সম্পর্কিত এই অতিরঞ্জনের কোনো প্রমাণ নেই, কডাভাদের প্রতি টিপুর গভীর শত্রুতার বিষয়টি কিভাবে ঐতিহাসিকভাবে শেকড় প্রোথিত হলো? নাম পকাশে অনিচ্ছুক ব্যাঙ্গালুরুভিত্তিক এক সাংবাদিক এর অনুমানভিত্তিক জবাবে বলেন, এর জবাব পাওয়া যাবে ঊনবিংশ শতাব্দীতে কডাগু ও ব্রিটিশদের মধ্যে যে প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তার মাঝে। ১৮৩৪ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ে কডাগু ছিল ব্রিটিশদের সরাসরি শাসিত একটি প্রদেশ। ভারত বিজয়ের ব্রিটিশ বর্ণনায় টিপুর বিরুদ্ধে কুৎসা রচনা করে তাকে তুলে ধরা হয় একজন ধর্মীয় গোঁড়া তথা ‘রিলিজিয়াস বাইগট’ হিসেবে। এই সাংবাদিক মনে করেন, কডাগুতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সবচেয়ে বেশি উপকারভোগী ছিলেন কডাভারা। এরা ব্রিটিশদের কাছ থেকে এই বিষাক্ত টিপুবিদ্বেষ শুষে নিয়েছিল।

টিপুকে ভুল উপস্থাপন

টিপুকে এভাবে তুলে ধরার ব্রিটিশ কাজটি শরু হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে। এবং তা অব্যাহত থাকে গোটা ঊনবিংশ শতাব্দীজুড়ে। ব্রিটিশ লেখক কর্নেল উইলিয়াম কারপেট্রিক এবং মার্ক উইলকস টিপুর সামরিক অভিযান সম্পর্কে বিদ্রƒপাত্মক বর্ণনা তুলে ধরেছেন। রেভ. রিখটার তার ১৮৭০ সালের লেখায় হায়দার আলীকে বর্ণনা করেন ‘উলফ’ হায়দার নামে। ১৭৯৯ সালে টিপুর পতনের পর ব্রিটিশেরা দ্রুত তাদের উপনিবেশবাদের সম্প্রসারণ ঘটায়। কোনো-না-কোনোভাবে টিপু ছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ রক্ষাপ্রাচীর। এই উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রাধান্য বিস্তারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের এক বাধা।


মাইকেল সোরাকোর পিইচডি কর্ম এই আলোচনায় প্রাসঙ্গিক। তিনি লিখেছেন:‘The increasingly vilified and circulated representation of Tipu allowed the East India Company to portray itself as fighting a moral crusade to liberate southern India from the depredations of a savage ruler. Company servants were recast in British popular imagination from unscrupulous nabobs into virtuous soldier-heroes that embodied the finest qualities of the British nation.’


তার বক্তব্য স্পষ্ট। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি টিপুর নামে নানা অপবাদ দিয়ে নানা অপপ্রচার চালায়। এর মাধ্যমে এই কোম্পানি নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরতে চেয়েছে যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দক্ষিণ ভারতকে একজন নৃশংস শাসকের হাত থেকে মুক্ত করতে একটি নৈতিক ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত করছে।
টিপু সম্পর্কিত সামনের সারির বর্তমান ইতিহাসবিদ কেইট বিটলব্যাঙ্ক লিখেছেন : ‘ত্রিশ বছর ধরে প্রথমে টিপুর বাবা হায়দার আলী, এরপর টিপু ছিলেন ব্রিটিশদের সবচেয়ে বেশি নজরদারিতে। ... এ সময়ের মধ্যে তার দ্বীপ রাজধানী ইংরেজরা ঘিরে ফেললে ১৭৯৯ সালে টিপু নিহত হন জেনালের হ্যারিসের সৈন্যদের হাতে। টিপু সুলতানকে সম্ভবত যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ভিলেন করে তোলা হয়।


একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে টিপুর উত্তরাধিকার নতুন করে ফিরিয়ে আনা হয় বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, যখন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতের জাতীয় আন্দোলন জোরদার হয়। টিপু আবির্ভূত হন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন আইকন হিসেবে। গান্ধী সম্পাদিত ‘ইয়াং ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত এক লেখায় গান্ধী লিখেন :‘Fatehali Tipu Sultan of Mysore is represented by foreign historians as a fanatic who oppressed his Hindu subjects and converted them to Islam by force. But he was nothing of the kind. On the other hand his relations with his Hindu subjects were of a perfectly cordial nature. And it is a rare pleasure to dwell upon them at a time when Hindus and Musalmans, all oblivious of the presence of the ‘enemy within their gate’, are ready to fly at one another’s throats and have lost all power of clear thinking.’


এই লেখার মাধ্যমে গান্ধী টিপু চরিত্রের পুনরুদ্ধার অনেকটা সহজতর। এর মাধ্যমে তিনি নাকচ করে দেন, টিপু জোর করে ভিন্নধর্মেও মানুষকে মুসলমান বানানোর মতো মানুষ ছিলেন না। এ দিকে ২০১৫ সালে ৯০ বছর বয়সী টিপুবিষয়ক ইতিহাসবিদ অধ্যাপক শেখ আলী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘১৯৫০-এর দশক থেকেই একটা প্রচারাভিযান শুরু হয় টিপুকে এক পক্ষপাতদুষ্ট ধর্মীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপনের। ১৯৮০ সালে আই এম মুতান্না নামের এক কডাভা প্রকাশ করেন তার বই : Tipu Sultan X-Rayed: An Untold Story of a Puffed Up Nowab। এই বইয়ে টিপু চরিত্রের অতিরঞ্জন করা হয়। এতে ভুল তথ্য অঢেল। বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৭০০। মুতান্নার এই বই একটি প্রচারপত্রসম। এর মধ্যে মাত্র দু’টি বিষয় এ লেখার জন্য মজার। প্রথমত, মুতান্না এই বইটি উৎসর্গ করেছেন ব্রিটিশদের উদ্দেশে। তিনি উল্লেখ করেন ব্রিটিশেরা উদ্বোধন করেন : Inaugurated an era of ‘modern development, enlightenment, education and progress after resorting the country’s ancient pride, religion and culture.’
আর দ্বিতীয়তটি হচ্ছে পুরুষোত্তম নাগেশ ওয়াক  লিখিত ভূমিকা। সে সময় তিনি ছিলেন ‘রিরাইটিং ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি’র প্রেসিডেন্ট। ওয়াক হচ্ছেন সেই তিনি, যিনি মনে করেন তাজমহল মূলত ছিল ‘তেজো মহালয়া’ নামে একটি শিবমন্দির।


বিগত কয়েক দশক ধরে বিজেপি কডাগুর কডাভাদের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পেয়ে আসছে। সেখানে বিজেপি সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। নানজাম্মা ও ছিন্নাপ্পার মতো ফোকলরিস্টেরা মনে করেন কডাভারা হিন্দু নয়, এরা একটি উপজাতি। এটি এমন একটি সমাজ যার ব্যাপক সংস্কৃতায়ন ঘটেছে ব্যাপকভাবে। এই প্রক্রিয়া সম্প্রতি শুরু হয়নি। এর প্রথম দলিল প্রকাশ করেন সুবিখ্যাত সামাজিক নৃতত্ত্ববিদ এম এন শ্রীনিবাস, ১৯৫২ সালে প্রকাশিত তার বই ‘রিলিজিওন অ্যান্ড সোসাইটি অ্যামং দ্য কুর্গস ইন সাউথ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে।
কডাভারা কডাগুর একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, এরা কডাগুর মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। এর পরও এদের অনেকে মনে করেন এই অঞ্চলের ওপর এদের ঐতিহাসিক দাবি আছে। অনেক কডাভা পাওয়া যাবে, যারা এ অঞ্চলে নতুন প্রত্যাবাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলে। প্রচুর হিন্দু কডাগুতে প্রত্যাবাসিত হয়েছে। অনেক কডাভা মুপলাহ বা বিয়ারি মুসলমান ব্যবসায়ীদের বিরোধী। এসব মুসলিম ব্যবসায়ী কডাগুতে আসে উত্তর ক্যারালা ও উপকূলীয় কর্নাটক থেকে।


টিপুর কডাগু অভিযানের আলোচনা থেকে এটুকু স্পষ্ট এমন কোনো দলিল-প্রমাণ মেলে না যে, দেবাপিতারাম্বুতে টিপু কোনো হতাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন। আর কডাগু থেকে শ্রীরঙ্গপট্টমে নেয়া বন্দীর সংখ্যা কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার হতে পারে। কিছু ধর্মান্তকরণ চলেছে। তবে টিপু সম্পর্কিত ইতিহাসবিদের অভিমত, ধর্মান্তকরণে তার কোনো ধর্মীয় প্ররোচণা ছিল না। তবে তিনি তাদের ওপর রাজনৈতিকভাবে আচরণ করেছেন, যেসব এলাকায় বারবার বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। মহীশুর রাজ্যে ব্যাপকভাবে হিন্দুদের বসবাস ছিল। মহীশুরের একজন মুসলিম শাসক হিসেবে টিপু তার শাসন সুসংহত করার ব্যাপারে অটল ছিলেন। তার শাসন সুদৃঢ় করার জন্য তিনি হিন্দু মন্দিরগুলোতে সহায়তা দেয়া ছাড়াও অনেক হিন্দুকে তার প্রশাসনের উচ্চপদে আসীন করেছিলেন।

টিপুর স্বপ্ন

১৭৯৯ সালের ৪ মে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি মিশ্রবাহিনী খর¯্রােতা কাবেরি নদী পার হয়ে শ্রীরঙ্গপট্টমের যুগলদুর্গ গুঁড়িয়ে দেয়। এই বাহিনীতে ছিল ব্রিটিশ ও ভারতীয় সৈন্য। টিপুর ছিলেন ব্রিটিশদের অগ্নিশর্মা শত্রু। এই মহীশুরের বিরুদ্ধে সম্প্রসারণবাদী ইংরেজদের চতুর্থ ও শেষ যুদ্ধে টিপু পরাজিত ও নিহত হন। শ্রীরঙ্গপট্টম দুর্গ তছনছ করার পর কর্নেল কারপেট্রিক টিপুর বেডচ্যাম্বারে একটি পুস্তিকা পান। টিপু তা নিজ হাতে রেখা এ বইয়ে টিপুর স্বপ্নের কথা লিখা ছিল, যা তিনি লিখেছিলেন পার্সি ভাষায়। তার সারগ্রাহী স্বপ্নগুলো যেকোনো সাইকোঅ্যানালিস্টকে বিমোহিত করবে এবং জানার সুযোগ করে দেবে অষ্টাদশ শতাব্দীর এক পণ্ডিতপ্রবর রাজার মনের গভীরে প্রবেশের। এতে ৩৭টি স্বপ্নের কথা লেখা ছিল। ২২ নম্বর স্বপ্নের শিরোনাম ছিল : ‘দ্য এক্সট্রাঅর্ডিনারি আইডলস’, যা লেখা হয়েছিল ১৭৭৫ বা ৭৬ সালে। এটি এখানে উল্লেখের যথার্থ দাবি রাখে। কারণ তা প্রমাণ করে টিপু কোনো গোঁড়াধার্মিক ছিলেন না। সেই স্বপ্নের পুরো অংশটিই এখানে উল্লেখ করে এ লেখার ইতি টানছি : ‘There seemed to be a big temple, the back portion of which was slihgly damaged. It contains several idols. I went in to the temple along with few other men and noticed that the idols were seeing like human being and their eyes were in motion. I was surprised to see the eyes of the idols moving like those of the living and wondered what it could be due to. Then I approached them. In the last raw there were two female idols. One of these two, drawing out her sari from betwixt her two knees, stated that both of them were women while the rest of the idols were the images of men and other objects. She added that they had been praying to God for a long time and everyone ought to nourish oneself. I said to her, ‘That is fine, do keep yourself occupied with the rememberance of God.’ Having said that I ordered my men to repair the dilapidated building. In the mean time I woke up.’