সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে সৌদি নারীরা

Feb 23, 2018 06:48 pm
দেশটি বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করতে যাচ্ছে বিনোদন খাতে


আসিফ মাহমুদ


সৌদি আরবের সেনাবাহিনীর সাধারণ নিরাপত্তা শাখা জানিয়েছে, বাহিনীর সেনা পদে দেশটির নারীরা যোগ দিতে পারবেন। তবে পুরো সৌদি আরবের নারীদের এ সুযোগ থাকছে না। আপাতত চারটি অঞ্চলের নারীরা এই সুযোগ পাবেন। আরবের সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া এখবর জানিয়েছে।

 

আল-আরাবিয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে দেশটির রিয়াদ, মক্কা, আল-কাসিম ও আল-মদিনার নারীরা আবেদন করতে পারবেন। নিয়োগের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে আবেদনকারী নারীকে অবশ্যই সৌদি বংশোদ্ভূত এবং দেশটিতে বসবাসকারী হতে হবে। তবে যেসব নারী বাবার বিদেশে সরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে অবস্থান করছেন তাদেরকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া নারীদের বয়স হতে হবে ২৫-৩৫ এবং ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

 

আবেদনের পর নারীদের কয়েকটি পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হবে। মেডিক্যাল চেকআপও অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

 

আবেদনকারীদের আচরণ ভালো হতে হবে এবং অতীতে সরকারি বা সামরিক সংশ্লিষ্ট কোনও কাজে জড়িত থাকা যাবে না। যেসব নারী বিদেশিদের বিয়ে করেছেন তারা আবেদন করতে পারবেন না। উচ্চতা হতে ১৫৫ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওজন থাকতে হবে।

সৌদি আরব কী বিনোদন জগতের কেন্দ্র হবে

সৌদি আরব ধীরে বিনোদন জগতে প্রবেশ করছে। হলিউডসহ বিনোদন জগতের প্রতিভুদের এখন সবচেয়ে আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু সৌদি আরব।দেশটি বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করতে যাচ্ছে বিনোদন খাতে। সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইন অথরিটির প্রধান আহমেদ বিন আকিব আল-খাতিব জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত থেকেই আসবে।


পুরো সৌদি আরব জুড়ে ৫০টি শহরে এ বছর পাঁচ হাজারেরও বেশি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। রাজধানী রিয়াদে এরইমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ধাঁচে একটি অপেরা হাউস নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।


সৌদি জেনারেল এন্টারটেইন অথরিটির প্রধান বলেন, ‘ইনশাল্লাহ্ ২০২০ সালের মধ্যেই আপনারা দেখতে পাবেন সৌদি আরবে সত্যিকারের পরিবর্তন ঘটে গেছে।’


সৌদি আরবের তরুণ যুবরাজ যে ভিশন-২০৩০ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন তার আওতায় এর মধ্যেই দেশটিতে সিনেমা হল চালু হয়েছে। আয়োজন করা হচ্ছে কনসার্টেরও।
কিছুদিন আগে বিভিন্ন কমিকসের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে নিয়ে সৌদিতে একটি কমিক-কন সাংস্কৃতিক উৎসবেরও আয়োজন করা হয়েছিল।


তাছাড়া সম্প্রতি দেশটির জাতীয় দিবসে প্রথমবারের মতো নারী-পুরুষ উভয়েই অংশ নেন। রাজপথে ইলেকট্রনিক মিউজিকের তালে সৌদি ছেলে-মেয়েরা সেদিন একসঙ্গে নাচে মেতে উঠে। এমন দৃশ্য গত কয়েক দশকের মধ্যে কখনও দেখা যায়নি।


এদিকে সৌদি আরবে মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো ফ্যাশন সপ্তাহ আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আরব ফ্যাশন কাউন্সিল। এর মধ্য দিয়ে রক্ষণশীল মুসলিম দেশটিতে শিল্প ও বিনোদনের প্রতি যে ড্রাকোনিয়ান নীতি ছিল তা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফরাসি বার্তা এএফপি এখবর জানিয়েছে।


সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির ধর্মীয় রীতিনীতি ও সামাজিক সংস্কারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি দেশটিকে তেল নির্ভরতা থেকে মুক্ত করতে বেসরকারি খাতকে প্রসারিত করছেন এবং নারীদের ক্ষমতায়ন করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সংস্কারের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে সৌদি নারীরা গাড়ি চালানো ও স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার অনুমতি পেয়েছেন এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু হয়েছে।


দুবাইভিত্তিক আরব ফ্যাশন কাউন্সিল তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদে ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ এই ফ্যাশন সপ্তাহ আয়োজিত হবে। এই বছরের অক্টোবরেও দ্বিতীয় ফ্যাশন সপ্তাহ আয়োজন করা হবে।আরব ফ্যাশন সপ্তাহ রিয়াদের পরিবেশবান্ধব অ্যাপেক্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। এই ভবনটির নকশা করেছেন বিখ্যাত ইরাকি-ব্রিটিশ স্থপতি জাহা হাদিদ।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আরব ফ্যাশন কাউন্সিল রিয়াদে আঞ্চলিক কার্যালয় চালু করার ঘোষণা দেয়। ওই সময় কাউন্সিলের সম্মানীয় সভাপতি হিসেবে সৌদি প্রিন্সে নৌরা বিনতে ফয়সাল আল-সৌদকে ঘোষণা করা হয়।


প্যারিস, মিলানের মতো আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সপ্তাহে তালিকাভূক্ত এই অনুষ্ঠান সৌদি আরব প্রতি দুই বছর আয়োজন করবে। ফ্যাশন সপ্তাহে দেখুন ও কিনুন ভিত্তিতে নতুন ও পুরনো পোশাক প্রদর্শিত হবে।
ফ্যাশন সপ্তাহটি কেমন হবে তা এখনও জানানো হয়নি। ফলে জানা যাচ্ছে না এতে আধুনিক ডিজাইনের পোশাক থাকবে নাকি সৌদি আরবের পোশাকবিধি মেনে আয়োজন করা হবে।


এর আগে আরব ফ্যাশন সপ্তাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর ৯ থেকে ১২ মে দুবাইয়ে ৬ষ্ঠবারের মতো ফ্যাশন সপ্তাহ আয়োজন করা হবে।


ইতোমধ্যে সৌদি আরবে নারীরা বেশ কিছু বিষয়ে স্বাধীনতা পেয়েছেন। এক সাথে ফুটবল খেলা দেখা ওকনসার্টে যোগ দেয়ার অনুমতি মিলেছে। একই সাথে প্রশ্ন উঠেছে পরিবর্তনের নামে শেষ পর্যন্ত কী সৌদি আরবে পশ্চিমা করন হবে। দেশটির সাধারন মানুষ কতটা এ ধরনের সাংস্কৃতিক মিথস্ত্রিয়াকে গ্রহন করবেন। কিংবা সৌদি আরবের চিরায়ত মূল্যবোধের ওপর তা কতটা আঘাত হানবে। এসব প্রশ্ন উঠেছে।