শফিক রেহমানের লেখায় ভাষা আন্দোলনের রুপক বর্ননা

Feb 20, 2018 05:39 pm
ভাষা আন্দোলন

হিরো


শফিক রেহমান

সূত্র : নায়ক আসিফ হুসেন, ঢাকা কলেজের ছাত্র। সময় ফেব্রুয়ারি ১৯৫২, ঢাকা।

আসিফের বাবা উকিল ছিলেন। ৪২ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান। আসিফের মায়ের নাম রিজিয়া। রিজিয়ার তিন ছেলে দুই মেয়ে। রিজিয়ার শ্বশুরবাড়ি খুলনায়, স্বামীর সম্পত্তি এখন দেবরদের দখলে। রিজিয়া তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকেন ঢাকায় দয়াগঞ্জের একটি দোতলা বাড়িতে। এই বাড়িটি আসিফদের পৈতৃক সম্পত্তি। কলকাতা-র চমৎকার নতুন দোতলা বাড়ি এক্সচেঞ্জ করে এই পুরনো বাড়িটি পেয়েছে। বাড়ির এক অংশের ভাড়া এবং কাপড় সেলাই করার উপার্জিত টাকা দিয়ে রিজিয়া সংসার চালায়। ইসমাইল দর্জি এসে কাপড় দিয়ে এবং নিয়ে যায়। রিজিয়াদের বাসায় কাজের বুয়ার নাম রূপার মা।
রিজিয়ার মেয়েদের নাম হাসি এবং খুশি। হাসি ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড়। বিএ পাস এবং বিবাহিত। হাসির স্বামী জামাল মেহমুদ একটি বিদেশি ব্যাংকের লোনস ডিভিশনের ইনচার্জ। হাসি ও জামালের একমাত্র মেয়ের নাম সুসান।


আসিফ যাকে ভালোবাসে তার নাম শিমুল। ইডেনে আর্টস পড়ে। শিমুল আসিফের চেয়ে প্রায় এক বছরের বড়। শিমুল ভালো নাচে। শিমুলের যখন তিন বছর তখন ওর বাবা-মা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সে সময় থেকে শিমুল তার বড় চাচার ছেলে জামাল ভাইয়ের বাসায় সেগুনবাগিচায় থাকে।
ব্যাংকের অফিস খোলে নয়টায়।


সেদিন সকালে কাটায় কাটায় নয়টায় জিএম সাহেবের গাড়িটাকে আসতে দেখে ইমপিরিয়াল ব্যাংক অফ ইনডিয়ার পাঠান গার্ড গণি খান একটু অবাক হলো।
জেনারেল ম্যানেজার স্ট্যানলি স্মিথ সাধারণত দেরি করে ব্যাংকে আসেন এবং দেরি করে বাড়ি ফেরেন।
আজ কি হয়েছে?
গণি তার ইউনিফর্মটা ঠিক করে নিল।
বন্দুকটা দৃঢ় হাতে ধরল।
সেলাম সাব। সশব্দে সে একটা স্যালিউট দিল।
সাহেব স্ট্যানলি স্মিথ সেদিকে ভ্রক্ষেপ না করে গট গট করে নিজের অফিসে চলে গেলেন।
তিনি তলব করলেন ম্যানেজার জামাল মেহমুদকে।
অল ইন্ডিয়া রেডিওতে শুনলাম ঢাকায় নাকি আজকে একটা সর্ট অফ স্ট্রাইক হবে। রেডিও পাকিস্তানের নিউজে এ সম্পর্কে কিছু ছিল না। আমার ড্রাইভার বললো, ইনডিয়ান নিউজই ঠিক। হোয়াট ডু ইউ সে? স্ট্যানলি জানতে চাইলেন।


আপনার ড্রাইভার ঠিকই বলেছে। আজ ঢাকার সব স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে স্ট্রাইক ডাকা হয়েছে।
তাহলে রেডিও পাকিস্তানে কিছু বললো না কেন?
গভর্নমেন্টের বিরুদ্ধে স্ট্রাইকের খবর গভর্নমেন্ট রেডিওতে ব্রডকাস্ট করার নিয়ম নেই, তাই।
হাউ ফানি! কিন্তু এই স্ট্রাইকটা হচ্ছে কেন? টেল মি এভরিথিং। স্ট্যানলি অনুরোধ করলেন জামালকে এবং চা পরিবেশনের আদেশ দিলেন পিয়নকে।
আজকের ডেইলি পেপার পড়লেই সব কিছু জানতে পারবেন। পার্টিশন হবার পর থেকেই ইস্ট পাকিস্তানের ল্যাংগুয়েজ ইসুটা দানা বেঁধে উঠেছে। পাকিস্তানের মেজরিটি লোক ইস্ট পাকিস্তানে থাকে এবং তাদের একমাত্র ভাষা বাংলা। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ মার্চ ১৯৪৮-এ ঢাকাতেই রেসকোর্সে একটি মিটিংয়ে বলে বসলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর তিন দিন পরে ঢাকা ইউনিভার্সিটির কনভোকেশনে তার এই মত আবার তিনি রিপিট করেন সেদিন থেকেই অর্থাৎ ২৪ মার্চ ১৯৪৮ থেকে ইস্ট পাকিস্তানের ল্যাংগুয়েজ মুভমেন্ট শুরু হয়েছে। জামাল থামলেন।


ইউনিক! ইনডিয়া, মায়ানমার, সিলোনে স্বাধীনতার দাবিতে, ইওরোপে ইহুদিদের একটা হোমল্যান্ডের দাবিতে মুভমেন্টের কথা জানি। কিন্তু ল্যাংগুয়েজের দাবিতে একটা মুভমেন্টের কথা এই প্রথম শুনছি। স্ট্যানলি অবাক হয়ে বললেন।
হ্যা, বিশ্ব ইতিহাসে এ আন্দোলনটা বেশ অসাধারণই বটে। জামাল সায় দিলেন।
তারপর কি হলো? স্ট্যানলি জানতে চাইলেন।


সেদিনই এ আন্দোলনের কয়েকজন নেতা জিন্নাহকে একটা স্মারকলিপি দেন। এতে তারা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। তারা পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যার যদিও মাইনরিটি তবুও অনেকে এই বিবেচনা করে বাংলাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানাননি। তারা উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও চান। কিন্তু মি. জিন্নাহ তাদের দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি কোনো কথাই শুনতে চান না এবং বাঙালি ছাত্রনেতাদের সাথে বেশ অভদ্র আচরণ করেন। সাহেবি কেতাদুরস্ত জিন্নাহর কাছ থেকে ওই ধরনের আন-জেন্টলম্যানলি ব্যবহার ছাত্রদের কাছে ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।
আই ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড। স্ট্যানলি মাথা নাড়লেন।


ঘটনা আরো সিরিয়াস হয়ে গেল কয়েক দিন পরেই। ওই বছরেই পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে ইসলামি আদর্শের দোহাই দিয়ে বাংলা ভাষার লেখার প্রণালী বদলে দিয়ে আরবি হরফ প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন। তারই ফলে পরের বছর সাতই ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় পাকিস্তান শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ড পাকিস্তানের সব ভাষার লেখার প্রণালী আরবি হরফ করার সুপারিশ করে। যেহেতু পশ্চিম পাকিস্তানের সব লেখার প্রণালীই আরবি হরফে, তাই ওই প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাষার হরফ পরিবর্তন করা। তার পরপরই পাকিস্তান সরকার এখানে আরবি হরফে বয়স্কদের প্রাথমিক বাংলা শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে বিশটি কেন্দ্র চালু করে। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫০-এ পাকিস্তান গণপরিষদের একটি রিপোর্টে উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখানে আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে। গত বছর অর্থাৎ ১৯৫১-তে মার্চের ১৬ তারিখে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কুমিল্লাতে একটি ভাষণে বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা উচিত। এখন সেটাই হচ্ছে। এর ইমিডিয়েট কিছু কারণও আছে। গত মাসেই অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকা আবার ঘোষণা করেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তার এই ঘোষণার বিরুদ্ধে ৩০ জানুয়ারিতে প্রতিবাদ দিবস পালিত হয় এবং আজ ৪ ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্ট্রাইকের ডাক দেয়া হয়েছে। মজার কথা কি জানেন মি. স্মিথ? পাকিস্তানের এই শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন এ দুজনেরই জন্ম পূর্ব বাংলায়। তবে এদেরকে আজ আর কেউ বাঙালি মনে করে না। বাঙালিরা এদের ঘৃণা করে। জামাল ইতিহাস বিবৃত করলেন।


একটা দেশের মেজরিটির ভাষা বদলে দিয়ে আরবি হরফ চালু করে তাকে মাইনরিটির ভাষার কাছে নিয়ে যাবার যে এ রকম একটা প্ল্যান হতে পারে সেটা আমার মাথাতেই আসেনি। অ্যাবসার্ড। অবিশ্বাস্য। তাই একটু কনফিউসড হয়ে গিয়েছিলাম আজ সকালের নিউজ শুনে। থ্যাংক ইউ বিষয়টা ক্লিয়ার করে দেয়ার জন্য। আজ তাহলে কেবল এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশনগুলোতেই স্ট্রাইক? অফিস, ব্যাংক, কোর্টে নয়?
না। শুধু স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে।


তবুও হঠাৎ রায়ট বেধে যেতে পারে। আমাদের এই ব্যাংকের ধারেকাছেই তো বেশ কিছু স্কুল আছে, তাই না?
হ্যা। ঢাকা কলেজিয়েট, মুসলিম হাই স্কুল, সেন্ট গ্রেগরিজ, বাংলাবাজার গার্লস স্কুল। তবে কোনো গণ্ডগোল হবে বলে আমি মনে করি না।
তবুও আমার মনে হয়, ব্যাংকে একটু সাবধান হওয়াই উচিত। তুমি ক্যাশে যতো কম সম্ভব টাকা রাখার নির্দেশ দাও। সব সেফ ডিপজিট তালাচাবি বন্ধ রাখ। আর গার্ডকে বলে দাও কোলাপসিবল গেটটা হাফ বন্ধ রাখতে।


তাই হবে। জামাল উঠে পড়লো। মনে মনে স্ট্যানলি-র অ্যালার্টনেসকে সে প্রশংসা করলো। সত্যিই তো।
আজ ঢাকার প্রতিটি স্কুল, কলেজে মিটিং হচ্ছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে।
তারপর ওরা সবাই মিছিল করে যাবে ইউনিভার্সিটিতে।
এরপর তারা সবাই মিলে সারা শহরে প্রসেশন করে আবার ইউনিভার্সিটিতে ফিরে আসবে।
তখন শহরের খোলা অফিস, ব্যাংক, দোকানপাট দেখে যদি ছাত্রদের কোনো প্রতিক্রিয়া হয়?
হঠাৎ স্লোগানের শব্দ শুনে জানালার পাশে এসে দাড়ালেন তিনি।
সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের স্মার্ট ছেলেরা ডিসিপ্লিনডভাবে তাদের প্রসেশন নিয়ে বেরিয়েছে।
হাতে প্ল্যাকার্ড।
মুখে স্লোগান।
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। বাংলা চাই।
আরবি হরফে বাংলা লেখা
চলবে না, চলবে না।

আসিফ এখন কোথায়?
হঠাৎ তার শ্যালকের কথা মনে হলো।
সে কি এখন ঢাকা কলেজে?
নাকি ইউনিভার্সিটিতে?
আসিফ তার কলেজেই ছিল।
বারবার মনে পড়ছিল কলেজে আসার আগে শিমুলের অনুরোধের কথা।
শিমুল তাকে মানা করেছিল আজ কলেজে আসতে। গোলমাল হতে পারে। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস যেকোনো কিছু।


সত্যিই কি তাই হবে?
আজকের মিটিং প্রসেশন, স্লোগান, প্রতিবাদের ফল দিনের শেষে কি হবে?
তোমার আজকের বক্তৃতা ক্যারিয়ার বেস্ট হতে হবে। পৃন্স এসে আসিফের পিঠ চাপড়ে বললো। তোমার স্পিচের ওপরই নির্ভর করবে এবার আমরা ইলেকশনে জিতবো কি না।
কলেজ ইউনিয়নের ইলেকশনে গতবারের পরাজয়ের কথা পৃন্স এখনো ভোলেনি দেখছি। আসিফ ভাবলো। তারপর আস্তে আস্তে বললো, আজ আমি না বললে হয় না?
কি? কি বললে তুমি? হ্যাভ ইউ গন ম্যাড? প্রচণ্ড বিস্ময়ে পৃন্স বললো। আজ তোমার বাংলা-উর্দু-ইংরেজি বেস্ট মিকশ্চার মিটিংয়ে ছাড়তে হবে। আমরা সবাই সেটা আশা করছি। এখন ইয়ার্কি করার সময় নয়। চলো। পৃন্স ওকে ধমকের সুরে ঠেলা দিল।
কলেজ কম্পাউন্ডে বিক্ষিপ্তভাবে স্লোগান উঠছিল, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।
ক্লাসের এক কোনায় তখনো কয়েকটি পোস্টার আকা চলছিল।
কয়েকজন ছাত্র মাঠে হন্তদন্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল।
কেউ কেউ কাগজের ব্যাজ পরতে ব্যস্ত ছিল।
ব্যাচে লেখা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।
অন্যতম?


আমাদেরই তো দাবি তোলা উচিত, পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।
কমরেডস, পশ্চিম পাকিস্তানেও উর্দু ভাষা সব প্রদেশের প্রচলিত নয়। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পাঠানদের ভাষা পশতু। পাঞ্জাবের ভাষা পাঞ্জাবি। বেলুচিস্তানের ভাষা বালুচি। সিন্ধের ভাষা সিন্ধু। তাহলে কমরেড, উর্দু কার ভাষা? উর্দু কে বলে? উর্দু বলে আমাদের দেশেরই দুজন কলংকিত ব্যক্তি, ফজলুর রহমান আর খাজা নাজিমুদ্দিন।
শেম, শেম, শেম।


আসিফ তার শ্রোতাদের আওয়াজটা যেন শুনতে পেল।
কমরেডস, আমাদের এই মাতৃভাষা বাংলাকে উর্দুতে পরিণত করার জন্য আজ পাকিস্তান সরকার এক ঘৃণিত চক্রান্ত নিয়েছে। তারা পবিত্র কোরআন শরিফের হরফ ব্যবহার করছে। তারা আরবি হরফে বাংলা শেখাতে চাইছে। ব্রাদার্স, এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে গোটা ছাত্রসমাজকে আজ রুখে দাড়াতে হবে। জিন্নার অহংকারকে ভেঙে গুড়িয়ে দিতে হবে। ফজলুল রহমান, নাজিমুদ্দিনের বিশ্বাসঘাতকতাকে সমুচিত শিক্ষা দিতে হবে। বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে হবে। আপনারা সবাই আওয়াজ তুলুন, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।


আসিফ শুনতে পাচ্ছিল সেই স্লোগানের ধ্বনি আর প্রতিধ্বনি। কিন্তু সে নড়ছিল না।
কই, চলো আমাদের মিটিং এখনই শুরু করতে হবে। না হলে প্রসেশন নিয়ে আর্টস বিল্ডিংয়ে ঠিক সময়ের মধ্যে পৌছাতে পারবো না। পৃন্স আবার তাড়া দিল আসিফকে।
তোমাদের আশা আজ হয়তো আমি পূরণ করতে পারবো না। তাই আজ স্পিচ দিতে চাচ্ছি না। আসিফ বললো।


আর ইউ ইন লাভ? তুমি কি প্রেমে পড়েছো? পৃন্স আচমকা প্রশ্ন করল।
হ্যা। সে তো অনেক আগেই। একটা থৃ কাসল সিগারেট ধরিয়ে আসিফ উত্তর দিল।
দ্যাটস ইট। আমি ঠিকই ধরেছি। না হলে কেউ এমন ইডিয়ট হয়ে যায় না। পৃন্স আত্মপ্রসাদের হাসি হাসলো। মেয়েটি কে? কোথায় পড়ে?
ইডেনে। তুমি তাকে চিনবে না। আসিফ ইচ্ছা করেই শিমুলের পরিচয় গোপন রাখল। কালচারাল টিমে নাচের শিল্পী হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তানে ঘুরে এসে শিমুল বেশ ভালোই পাবলিসিটি পেয়েছল।
পত্রিকায় তার ছবিও বেরিয়েছিল।


সেই ছবি দেখে নব্য চাকুরেরা বিয়ের প্রপোজালও পাঠিয়েছিল।
সে নিশ্চয়ই আজ প্রবলেম কৃয়েট করেছে। তোমাকে নিশ্চয়ই আজকে এখানে আসতে বারণ করেছে। পৃন্স জানতে চাইলো।
তা করেছে। কিন্তু আমি কলেজে এসেছি। আসিফ বললো।
তাহলে? তাহলে স্পিচ দেবে না কেন?
কোনো ভীরুতা এর কারণ নয়। তার ভালোবাসার আর অনুরোধের প্রতি সম্মান করি। তাই আজ বেশি দূর এগোতে চাই না।


ইউ আর এ কাওয়ার্ড। কাপুরুষ। ভীতু কোথাকার। তুমি মনে করছ আজ এই মিটিংয়ে বক্তৃতা দিলে ও তোমাকে খারাপ ভাববে, তোমাকে ছেড়ে দেবে? নো ওয়ে। কোনোমতেই তা হবে না। টেক মাই ওয়ার্ড ফর ইট। মেয়েরা চায় হিরো, মেয়েরা চায় একজন উইনারকে। বীর যে পুরুষ, বিজয়ী যে পুরুষ, তারই গলায় মালা পরিয়ে দিয়েছে মেয়েরা যুগে যুগে, দেশে দেশে। এই মুহূর্তে তুমি ভুলে যাও ওর কথা। মনে কর সে তোমার জীবনের কোথাও নেই। এই মুহূর্তে যেটা তোমার কাছে সবচেয়ে বড় সত্য সেটা হলো, ওই মিটিংয়ে সমবেত ছাত্ররা আর আমাদের ভাষার দাবি। এই মুহূর্তে তোমাকে হিরো হতে হবে, হিরো। উত্তেজিতভাবে পৃন্স কথাগুলো বলে গেল।
বাশের চাটাই আর টিনের ছাদের কলেজ-শেডের ওপাশে একটা চায়ের স্টলে গ্রামোফোনে রেকর্ড বাজছিল।
আসিফ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল।


‘হে বিজয়ী বীর, ফিরে এসো, ফিরে এসো।’
কলকাতার হিট মুভি, ‘দুই পুরুষ’-এর হিট গান।
‘হে বিজয়ী বীর, ফিরে এসো, ফিরে এসো।’
চলো। আসিফ পা বাড়ালো।

মিটিং শেষ হয়ে যাবার আগের বক্তৃতাটি দিল পৃন্স।
সমবেত ছাত্রবন্ধুরা আমার, দেশের সেরা কলেজ আমাদের এই ঢাকা কলেজ। আমাদের ছাত্ররাই দেশের বিভিন্ন পরীক্ষায় শীর্ষস্থানগুলো অধিকার করে। আজ আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবিতে যে আন্দোলনের সূচনা করছি তাতেও আমাদের শীর্ষস্থান অধিকার করতে হবে।
হিয়ার, হিয়ার। ছাত্ররা তালি দিয়ে পৃন্সকে সমর্থন জানালো।


বন্ধুরা আমার। এখন আমরা এখান থেকে মিছিল করে ইউনিভার্সিটিতে আর্টস বিল্ডিংয়ের আমতলায় যাবো। সেখানে ঢাকার সব স্কুল-কলেজের ছাত্ররা আসবে এবং মিটিংয়ের পর আমরা সবাই মিছিল করে শহর প্রদক্ষিণ করবো। আপনারা সব সময় এক সঙ্গে থাকার চেষ্টা করবেন যাতে বোঝা যায় ঢাকা কলেজের গ্রুপ কারা এবং কোথায়। মিছিল এবং মিটিংয়ে ডিসিপ্লিন থাকা চাই। যে স্লোগান দিতে বলা হয়েছে, কেবল সেই স্লোগানই দেবেন। প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুনগুলো এক জায়গায় বহন করবেন না। যারা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন বহন করছেন তারা যেন আমাদের মিছিলের বিভিন্ন জায়গায় থাকেন। আমাদের বোধ হয় দেরি হয়ে যাচ্ছে। সবাই লাইন বেঁধে দাড়ান এবং স্লোগান দিতে দিতে চলুন। রাষ্ট্রভাষা
বাংলা চাই, বাংলা চাই
আরবি হরফে বাংলা লেখা :
চলবে না চলবে না।

পৃন্স, আসিফ, নজরুল ব্যস্ত হয়ে পড়ল মিছিল অর্গানাইজ করতে।
হঠাৎ কলেজের পিয়ন নয়ন এসে ভিড়ের মধ্যে আসিফকে খুজে বের করলো।
আপনাকে ডেকে পাঠিয়েছেন ফিরোজ স্যার। এক্ষুনি যেতে বলেছেন। নয়ন বার্তাটি দিল।
পৃন্স, তুমি এগিয়ে যাও। আমি একটু পরেই আসছি।
কি হলো? কোনো প্রবলেম? পৃন্স প্রশ্ন করলো।
জানি না। তুমি মিছিল নিয়ে এগোও। আমি যোগ দিচ্ছি একটু পরেই।
আসিফ পকেট থেকে চিরুনি বের করে ঘন-কালো চুল আচড়ে নিল। টিচার্স কমনরুমে ছিলেন না ফিরোজ স্যার। তিনি ছিলেন পৃন্সিপালের রুমে।
কলেজে কোনো ভাইস পৃন্সিপালের পদ না থাকলেও কার্যত ফিরোজ স্যারই ছিলেন সেই পদের অধিকারী।
পৃন্সিপাল আসাদুজ্জামান খান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ফিরোজ স্যারের উপদেশ দিতেন।
চাকরিজীবনে আসাদুজ্জামান খানের সিনিয়রিটি থাকলেও ফিরোজ স্যারের মতো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না।


সাতচল্লিশের পার্টিশন পর্যন্ত ফিরোজ আহমেদ ছিলেন কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজের প্রফেসর এবং বেকার হস্টেলের সুপারিনটেনডেন্ট।
পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন ইসলামিয়া কলেজ ও বেকার হস্টেলের ছাত্রদের মাধ্যমে।
বেকার হস্টেলের পাশেই ছিল ইসলামিয়া কলেজের পৃন্সিপাল আই এইচ জুবেরি-র কোয়ার্টার্স।
পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম নেতা মি. সোহরাওয়ার্দী মাঝে-মধ্যে আসতেন পৃন্সিপালের বাড়িতে এবং সেখানেই মিলিত হতেন মুসলিম ছাত্রনেতাদের সঙ্গে।
ফিরোজ আহমেদও মাঝে মধ্যে উপস্থিত থাকতেন সেই সব মিটিংয়ে।
ফলে মি. সোহরাওয়ার্দীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ তিনি লাভ করেছিলেন। কিন্তু এ ঘনিষ্ঠতাই পার্টিশন হওয়ার পর ফিরোজ আহমেদের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছিল।
ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের একপর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী এবং শরৎ বোসের নেতৃত্বে কিছু হিন্দু-মুসলিম নেতা বাংলাকে ভারতীয় পশ্চিম বাংলা এবং পাকিস্তানি পূর্ব বাংলায় বিভক্ত করার পরিবর্তে সমস্ত বাংলা বা ইউনাইটেড বাংলার চিন্তাভাবনা করেছিলেন।
ফলে মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ-র সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর গভীর মতপার্থক্য দেখা দেয়।
বিশেষত একটি বিষয়ে তাদের মতপার্থক্য চূড়ান্তপর্যায়ে ওঠে।
সোহরাওয়ার্দী চেয়েছিলেন যদি বাংলাকে বিভক্ত করা হয় তাহলে যেন কলকাতাকে দেয়া হয় পূর্ব বাংলাকে।
কলকাতা, যে কলকাতা ছিল একসময়ে বৃটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং ভারত উপনিবেশের রাজধানী সেই কলকাতা ছাড়া তিনি পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক বুনিয়াদ কল্পনা করতে পারছিলেন না।
কিন্তু র‌্যাডফ্লিক রোয়েদাদের যেকোনো রায় মেনে নিতে রাজি ছিলেন জিন্নাহ যার অর্থ ছিল কলকাতাকে ভারতের কাছে হারানো।


মুসলিম লীগের মধ্যে জিন্নাহর মতামতই বিজয়ী হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা তখন লাহোর-করাচি পাকিস্তানে পড়লেই খুশি ছিলেন। তাই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরাজিত সোহরাওয়ার্দী ভারতে, কলকাতায় থেকে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
পাকিস্তানবিরোধী এই অপবাদ কাটিয়ে উঠতে সোহরাওয়ার্দীর অনেক সময় লেগেছিল। ইতোমধ্যে তার সমর্থক ও গুণগ্রাহী যারা পাকিস্তানের পক্ষে অপশন দিয়ে কলকাতা ছেড়ে পূর্ব বাংলায় আসেন তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়েছিল।
পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম লীগ সরকার খুজে খুজে সব সোহরাওয়ার্দী সমর্থকদের রাজনীতি এবং চাকরির ক্ষেত্রে নিচে ঠেলে দিয়েছিলেন। ফিরোজ আহমেদও এই রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে পাকিস্তান আন্দোলনে তার বড় ভূমিকা সত্ত্বেও পাকিস্তান হওয়ার পর চাকরির ক্ষেত্রে কোনো প্রমোশন পাননি।
কিন্তু ফিরোজ আহমেদের রাজনৈতিক যোগসূত্রগুলো এবং অভিজ্ঞতাকে প্রয়োজনবোধে কাজে লাগাতেন ঢাকা কলেজের পৃন্সিপাল আসাদুজ্জামান খান।
সেদিনও তার কলেজের প্রাঙ্গণে যখন ছাত্রদের মিটিং চলছিল তখন তিনি ডেকে পাঠিয়েছিলেন ফিরোজ আহমেদকে।
তার সঙ্গে কথা বলার পরই ফিরোজ ডেকে পাঠিয়েছিলেন আসিফকে। তবে পৃন্সিপালের ঘরে নয়, পাশেই পৃন্সিপালের সেক্রেটারি ও ক্লার্কের অফিসে তিনি আসিফকে আসতে বললেন।
শুনলাম, তুমি, পৃন্স, আরো অনেকে নাকি আজকের স্ট্রাইকে নেতৃত্ব দিচ্ছো। কিন্তু তোমরা হয়তো জানো না এডুকেশন মিনিস্ট্রির একটা কড়া নোট এসেছে পৃন্সিপালের কাছে। এতে বলা হয়েছে, ছাত্ররা যেন কোনো মিটিং মিছিল না করে সে জন্য ব্যবস্থা নিতে। টিচারদের সব ক্লাস নিতে বলা হয়েছে। সোজা কথায়, কোনো হরতাল যেন আমাদের কলেজে না হয় সেই পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ফিরোজ স্যার গম্ভীর মুখে জানালেন।
এই নোট কি শুধু ঢাকা কলেজকেই দেয়া হয়েছে? আসিফ জানতে চাইলো।
না। এটা একটা জেনারেল অর্ডার। ঢাকার প্রতিটি সরকারি স্কুল, কলেজে এই অর্ডার পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু আমরা খবর পেয়েছি আজ ঢাকার প্রতিটি স্কুল, কলেজে স্ট্রাইক হচ্ছে। আমাদের কলেজেও হচ্ছে।
এর পরিণতি খুব ভালো হবে না। মিনিস্ট্রি থেকে আরো বলা হয়েছে যেসব ছাত্র এই স্ট্রাইকে নেতৃত্ব দেবে তাদের কলেজ থেকে যেন এক্সপেল করা হয়।
আপনি কি স্যার মনে করেন সত্যিই ছাত্রনেতাদের এক্সপেল করা হবে?
হ্যা। আমি তাই মনে করি। বিশেষত ঢাকা কলেজের ছাত্রনেতাদের। সবাইকে না হোক, অন্তত কয়েকজনকে নিশ্চয়ই এক্সপেল করা হবে।
বিশেষত ঢাকা কলেজ কেন স্যার?
ঢাকা কলেজ দেশের পৃমিয়ার কলেজ। জগন্নাথের ছাত্র বেশি হতে পারে। কিন্তু গুরুত্বতে ইউনিভার্সিটির পরেই ঢাকা কলেজের স্থান। তাই এই কলেজের ছাত্ররা সরকারবিরোধী কিছু করুক সেটা মুসলিম লীগ নেতাদের কাম্য নয়। সুতরাং যদি তোমরা সত্যিই স্ট্রাইক কর এবং প্রসেশন করে ইউনিভার্সিটিতে যাও তাহলে পৃন্সিপাল সাহেব বাধ্য হবেন তোমাদের কয়েকজনকে এক্সপেল করতে।
তিনি কি এই সিদ্ধান্ত ফাইনাল করে ফেলেছেন?
হ্যা। তার এই সিদ্ধান্ত ফাইনাল।
স্যার, আমাদের সিদ্ধান্তও তো ফাইনাল। আজ কেউ ক্লাসে যায়নি। মিটিং হয়ে গিয়েছে। এখন সবাই প্রসেশন করে আর্টস বিল্ডিংয়ের আমতলার দিকে যাচ্ছে। আসিফ কলেজে ওয়ালক্লকটার দিকে তাকালো।
প্রায় সাড়ে দশটা।
মিছিল নিশ্চয়ই এখন ফুলবাড়িয়া থেকে অনেক দূর চলে গিয়েছে।
পৃন্স কি ভাবছে?
ও কি ভাবছে, আসিফ কেটে পড়েছে?
মিছিল থেকে পালিয়ে শিমুলের কাছে গিয়েছে?
আসিফ।
ফিরোজ স্যারের গম্ভীর স্বরে আসিফ চকিত হলো।
আসিফ, তুমি জানো, তোমার বাবাকে আমি কি রকম শ্রদ্ধা করতাম। তার মতো মুক্তবুদ্ধির মানুষ মুসলিম সমাজে এখন পর্যন্ত খুব কমই দেখেছি। আমি জানি, তার অকালমৃত্যুতে তোমাদের পরিবারের কি অপরিসীম অসুবিধা হয়েছে। তুমি বুদ্ধিমান ছেলে। কিন্তু ম্যাটৃকে তোমার সেকেন্ড ডিভিশন পাওয়ার কারণ বোধ হয় এই পারিবারিক বিপর্যয়। তোমার দুলাভাই জামালকে খুব স্নেহ করি। তারই অনুরোধে তোমাকে ঢাকা কলেজে অ্যাডমিশন দিই। তুমি জানো, এখানে ফার্স্ট ডিভিশনে পাস করা বহু ছেলেও ভর্তি হতে পারে না। কিন্তু তুমি সেকেন্ড ডিভিশনে পাস করে ভর্তি হতে পেরেছো শুধু তোমার বাবার নামে এবং দুলাভাইয়ের রেকমেন্ডশনে আমার কোটায়। নর্মালি তুমি ভর্তি হতে পারতে না। আমার যে পাচজনের কোটা ছিল তাতে তুমি ভর্তি হয়েছো। এবং তুমি সায়েন্সে ভর্তি হতে চেয়েছিলে, সেই অনুরোধটাও রেখেছি। ফিরোজ একটু থামলেন।


আসিফ মুখ নিচু করেছিল। ফেব্রুয়ারির শীতের দিনেও সে ভেতরে ভেতরে ঘেমে উঠছিল। গায়ের সোয়েটারকে প্রচণ্ড গরম মনে হচ্ছিল তার।
আসিফ, শোনো। তোমার মা কতো কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন সে খবর জানি। তুমি কলেজ থেকে এক্সপেলড হয়ে গেলে সে কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারবেন না। তোমার মায়ের আশা, তুমিই বাপের নাম রাখবে। তাই তোমার বিষয়ে আমার একটা দায়িত্ব আছে। তুমি কোনো বিপদে পড় সেটা চাই না। ফিরোজ বললেন।
এখন কিছু করার নেই স্যার। আমাকে মাফ করবেন। আসিফ চোখ নিচু করে বললো।
বেশ, তুমি যাও। কিন্তু আর সামনে যেও না। আমতলায় কোনো বক্তৃতা দিও না। আশা করি, আমার এই উপদেশটুকু মনে রাখবে। একটু নরম স্বরে ফিরোজ বললেন।
স্যার! আপনি বলছেন এ কথা? আসিফ তার মৃদু বিস্ময় প্রকাশ করলো। আমরা তো সবাই ভেবেছিলাম আপনি আমাদের পক্ষে।
হ্যা। আমি তোমাদের পক্ষেই।
আসিফ অল্পক্ষণ নিশ্চল হয়ে দাড়িয়ে থাকলো।
আসিফের মনে হল, ওই নির্মেঘ আকাশের কোথায় যেন কালো মেঘের টুকরোগুলো জড়ো হচ্ছে।