খাবারের তালিকায় যখন পোকামাকড়

Feb 03, 2018 12:51 pm
দুপুরের খাবারে পঙ্গপাল


বৈশ্বিক খাদ্য শিল্প ইতোমধ্যে প্রকৃতির উপর চাপ সৃষ্টি করে ফেলেছে৷ মোটের উপর জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে খাবারের চাহিদা মেটাতে বিকল্প ভাবা জরুরি হয়ে পড়েছে৷ এক্ষেত্রে আহারযোগ্য পোকামাকড় একটা ভূমিকা রাখতে পারে এমন ভাবনা দিন দিন বাড়ছে।

দুপুরের খাবারে পঙ্গপাল
বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে চাষাবাদের উপযোগী জমিও কমছে৷ ফলে গোটা বিশ্বের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে৷ আর মাংস উৎপাদনের কারণেও পরিবেশের ওপর চাপ পড়ছে৷ এই চাপ কমাতে অনেকে কীটপতঙ্গ খাওয়ার কথা ভাবছেন৷জাপানে পঙ্গপাল খাওয়ার প্রবনতা বাড়ছে। এ রকম খাবার মেনু হচ্ছে  ডিমের সঙ্গে পঙ্গপাল খাওয়া।

কঙ্গোতে খাওয়া হচ্ছে শুঁয়োপোকা
খাদ্য হিসেবে কীটপতঙ্গ খাওয়া হচ্ছে বহুকাল ধরে৷ তবে এই চর্চা গোটা বিশ্বে ছড়ায়নি৷ এক দেশে যেটা খাওয়া হয়, অন্য দেশে হয়ত সেটা খাওয়ার কথা ভাবাই যায় না৷ আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে নানা ধরনের পোকা মাকড় খাওয়ার চর্চা চলছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অলিভ অয়েলের সঙ্গে পোড়া শুঁয়োপোকা খাওয়া৷

ধীরে ধীরে চর্চা শুরু হচ্ছে
ইউরোপ এবং উত্তর অ্যামেরিকায় খাদ্য হিসেবে পোকামাকড়ের ব্যবহার এখনো দুর্লভ এবং মানুষের মধ্যে এক্ষেত্রে এক ধরনের সঙ্কীর্ণতা কাজ করে৷ তবে পরিবেশবিদরা বিষয়টি জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছেন৷ টেকসই খাদ্যের উৎস হিসেবে পোকামাকড়কে বিবেচনা করছেন তারা৷ যেমন সিডনির এক শেফ তাঁর তৈরি ঝিঁঝিঁ পোকা দিয়ে রান্না করেছেন।

পাম অয়েলের বিকল্প?
ইন্দোনেশিয়ার স্টার্টআপ বাইটব্যাক পাম অয়েলের বিকল্প হিসেবে কীটপতঙ্গ ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে৷ ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদনের এক বিতর্কিত বিষয়, কেননা, এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে কীটপতঙ্গ ব্যবহার এক ভালো বিকল্প হতে পারে বলে মনে করেন স্টার্টআপটির প্রতিষ্ঠাতারা৷

কীটের ললিপপ
২০৫০ সাল নাগাদ মাংসের চাহিদা বর্তমানের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে৷ তবে এই পরিমান মাংস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষিজমি এবং প্রাণীখাদ্য তখন থাকবে কিনা তা এক বড় প্রশ্ন৷ এক্ষেত্রে মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে কীটপতঙ্গ৷  কীট এবং ঝিঁঝিঁপোকার তৈরি ললিপপ বানানো হচ্ছে শিশুদের জন্য। 

মধুর বদলে খান মৌমাছি
কীটপতঙ্গ বিকল্প খাদ্য হতে পারে সত্যি, তবে সেটাকে সার্বজনীন রূপ দিতে আরো সময় এবং উদ্যোগ প্রয়োজন৷ যেসব দেশে এ ধরনের খাদ্যের চর্চা এখনো শুরু হয়নি, সেসব দেশে এই বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি৷ জার্মানির বার্লিনে  রোস্ট করা মৌমাছি দেয়া কেক বানানো হয়েছে। 

সূত্র : ডয়েচে ভেলে