সৌদি সিনেমায় হলিউড অভিনেত্রী

Jan 19, 2018 02:38 pm
সৌদি নারী চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হতে পারবেন


রাশিদুল ইসলাম


হলিউডের সাবেক চলচ্চিত্র তারকা লিন্ডসে লোহান সৌদি আরবে নারীদের ক্ষমাতায়নের ওপর একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। এ বছরের সেপ্টেম্বরে চলচ্চিত্রটির কাজ আরম্ভ হবে। আবু ধাবির চলচ্চিত্রকার ন্যান্সি প্যাটন এ চলচ্চিত্রকার এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করবেন।
ন্যান্সি প্যাটন আমিরাতের দি ন্যাশনালকে বলেন, তার এ চলচ্চিত্রে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সংস্কার ও নারীর অধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। এ বছরের জুন থেকে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি সৌদি আরবে আরো জোরদারভাবে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। তার ‘ফ্রেম’ নামের এ চলচ্চিত্রে নারীর ক্ষমতায়নকেই ফোকাস করা হচ্ছে।


চলচ্চিত্রে লিন্ডসে লোহান এ্যানাবেলি নামে এক আমেরিকান চিত্রগ্রাহকের ভূমিকায় অভিনয় করবেন যিনি সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সুযোগ পাবেন। সেই সুবাদে তিনি সৌদি নারীদের বিয়ে, নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকারের বিষয়গুলো জানতে পারবেন।
সৌদি আরবে চলচ্চিত্রটি নির্মাণে কাজ করার জন্যে ন্যান্সি দেশটির ভিসা পাবেন বলে আশা করছেন। ওদিকে সৌদি আরবে সংস্কারের প্রতি সাধুবাদ জানিয়ে লিন্ডসে লোহান তার টুইট বার্তায় বলেছেন, এই অবিশ্বাস্য আন্দোলনে সবার সমর্থন করা উচিত। সৌদি নারী, দেশটির চলচ্চিত্র ও দর্শকদের জন্যে চমৎকার এক সময় অপেক্ষা করছে। সময়ের সাথে সাথে অনেক সৌদি নারী চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হতে পারবেন।


লিন্ডসে লোহান শিশু শিল্পী হিসেবে ‘দি প্যারেন্ট ট্রাপ’, ‘ফ্রেকি ফ্রাইডে’ ও ‘মিয়ান গার্লস’এর মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পান। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইসলামের ওপর পড়াশুনাকরছেন। এমনকি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন এমন খবর প্রচার হলেও সরাসরি এ প্রসঙ্গে লিন্ডসে লোহান এখনো কিছু বলেননি। তবে তাকে কুরআন হাতে ও স্কার্ফ পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে।


এ মাসের শুরুতে ৩১ বছরের সাবেক এই হলিউড তারকা দুবাইতে একটি দ্বীপ কিনে নিজের নামে নামকরণ করেন। আল-আরাবি
প্রায় ৩৫ বছর পর সৌদি আরবে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এই খাতে বিনিয়োগে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে বিশ্বের বড় বড় ফিল্ম কোম্পানিগুলো। এরইমধ্যে ব্রিটেনের ভুই এন্টারটেইনমেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের এএমসি এবং কানাডার আইম্যাক্স’র মতো দুনিয়াখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সিনেমা উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে সৌদি আরবে। বিশ্বের অনেক চলচ্চিত্র কোম্পানিরই বাজার ভালো যাচ্ছে না উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে। সৌদি তাদের জন্য সম্ভবনা হয়ে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সিনেমার জন্য মুখিয়ে আছে সৌদিরাও।

এই খাতে বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ। পরিসংখ্যান মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবে চালু হবে ৩০০ সিনেমা হল। এতে কর্মসংস্থান হবে ৩০ হাজার মানুষের। ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি হবে সৌদি আরবের সিনেমা।

চলচ্চিত্র কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভুই এন্টারটেইনমেন্ট। ইতিমধ্যে তারা ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ব্যাপারে কথা বলছে সৌদি সরকারের সঙ্গে। দেশটিতে ২০ থেকে ৩০টি সিনেমা হল নির্মাণ করবে তারা। গত বছরের অক্টোবরে এক বাণিজ্যিক সম্মেলনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছ থেকে আমন্ত্রণও পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম রিচার্ডস।

গত মাসে সৌদি সরকারের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে বিশ্বের বৃহত্তম ফিল্ম কোম্পানি এএমসি। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তারা।

এদিকে কানাডার কোম্পানি আইম্যাক্স’র প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গেলফন্ড জানান, তারা ইতিমধ্যে সৌদি আরবের একমাত্র সিনেমা হল সুলতান বিন আবদুল আজিজ সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চালাচ্ছেন। ২০০৫ সালে এটি উদ্বোধন করা হয়।

আশির দশকে সৌদি আরবে চলচ্চিত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বর্তমান যুবরাজ তার দেশের ‘আধুনিকায়নে’ চলচ্চিত্র উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন। এছাড়া পর্যটকদের জন্যও সৌদি আরবকে ‘আদর্শ স্থান’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।