ব্রিটিশ এমপিরা কেন পর্নোগ্রাফি পছন্দ করেন

Jan 11, 2018 12:50 pm
পর্নো রিকোয়েস্টের সংখ্যা দৃশ্যত কমতির দিকে


গত জুনের সংসদীয় নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ডিভাইস থেকে ২৪,০০০ বারের বেশি পর্নো ওয়েবসাইটে যাবার চেষ্টা হয়েছে৷ এ খবর অনেকেরই চোখ কপালে তুলেছে৷


একটি পিএ ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন রিকোয়েস্ট থেকে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (পিএ)৷ দৃশ্যত ২০১৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে ২৪,৪৭৩ বার কোনো-না-কোনো পর্নো ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেসের রিকোয়েস্ট করা হয়৷ এক্ষেত্রে পার্লামেন্ট বলতে গোটা পার্লামেন্টারি নেটওয়ার্ক বোঝায়, মেম্বার্স অফ পার্লামেন্ট (এমপি), সংসদের উচ্চকক্ষ হাউস অফ লর্ডস-এর সদস্য ও তাঁদের সহকর্মীরা যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকেন৷ তথ্য অনুযায়ী, দিনে প্রায় ১৬০টি পর্নো রিকোয়েস্ট এসেছে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ডিভাইস থেকে৷


অবশ্য বিগত কয়েক বছরের তুলনায় পর্নো রিকোয়েস্টের সংখ্যা দৃশ্যত কমতির দিকে, যদিও বিশেষ করে ওয়েস্টমিনস্টারে যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগ ওঠার পরে তাতে কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্ট বোধ করার কোনো সুযোগ নেই৷


গত মাসে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে তৎকালীন ফার্স্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট ডেমিয়ান গ্রিন-কে বরখাস্ত করতে বাধ্য হন, কেননা, গ্রিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৮ সালে তাঁর ওয়েস্টমিনস্টার অফিসের কমপিউটারে যে পর্নোগ্রাফিক মেটিরিয়াল পাওয়া গিয়েছিল, সে ব্যাপারে তিনি পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়েছেন৷
এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন গত নভেম্বর মাসে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন৷


ভুল করে ক্লিক?
তবে পার্লামেন্ট থেকে অনলাইন পর্নো অ্যাক্সেসের অধিকাংশ প্রচেষ্টাই অনিচ্ছাকৃত বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি৷ এছাড়া পার্লামেন্টের সিকিউরিটি সফ্টওয়্যার সাধারণত পর্নো অ্যাক্সেস করার প্রায় সব প্রচেষ্টাই রুখে দিয়ে থাকে৷


‘‘(অনলাইন পর্নো) অ্যাক্সেসের অধিকাংশ প্রচেষ্টা ইচ্ছাকৃত নয়৷ তথ্যে ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করার ‘রিকোয়েস্ট' দেখানো হচ্ছে, ওয়েবসাইটগুলোতে ‘ভিজিট'-এর সংখ্যা নয়,'' পার্লামেন্টের এক মুখপাত্র প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছেন৷ এছাড়া পার্লামেন্টের গেস্ট ওয়াই-ফাই-তে যেসব ব্যক্তিগত ডিভাইস লগ ইন করা হয়েছে, সেগুলোও এই তথ্যে অন্তর্ভুক্ত, বলে তিনি যোগ করেন৷


কোনো অজ্ঞাত কারণে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিষিদ্ধ ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করার রিকোয়েস্টের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে ৯,৪৬৭-তে দাঁড়ায়, যার মধ্যে সংসদের উভয় কক্ষ অন্তর্ভুক্ত৷ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকা প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর দিয়েছে৷ডয়েচে ভেলে ।


এদিকে টেরেসা মে’র সবচেয়ে সিনিয়র মন্ত্রী ডমিয়ান গ্রিনের কম্পিউটারে ২০০৮ সালে পর্নোগ্রাফি পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। মেট্রোপলিট্রন পুলিশের সাবেক কমিশনার বব কুইক এই অভিযোগ করেন। তবে ডমিয়ান গ্রিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক কালিমা লেপন’ বলে উল্লেখ করেন।


বব কুইক বলেন, এক বিতর্কিত অভিযানে আমার কর্মকর্তারা হাউজ অব কমন্সে গ্রিনের অফিসের কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি পায়। তবে এতে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি।


মূলত গ্রিনের বিরুদ্ধে এক নারী সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যাবিনেট অফিসের তদন্ত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গ্রিনের চেয়ে ৩০ বছরের কম বয়সী ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে গ্রিন দ্রুত তার শরীরে স্পর্শ করে। এছাড়াও এর এক বছর পরে গ্রিন তাকে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠান।


এই যৌন হয়রানির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানান গ্রিন। এছাড়া ২০০৮ সালে তার কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি পাওয়া গেছে বলে যে অভিযোগ কার হয়েছে, সেটিও মিথ্যা বলে জানান তিনি। গ্রিন বলেন, নয় বছরের পুরনো ওই অভিযোগ রাজনৈতিক কালিমা লেপনের জন্যই করা হয়েছে।


এর আগে ব্রিটিশ এমপি-মন্ত্রীদের যৌন কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংসদের কর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন।
যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত আচরণের কারণে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার মাইকেল ফ্যালন। এছাড়া তিনজন মন্ত্রীকে তাদের আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে অভিযোগ আসায় তাদের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।