কিম জং উনকে যে কারনে ভয় পায় যুক্তরাষ্ট্র

Dec 26, 2017 02:21 pm
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম


আহমেদ বায়েজীদ


ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথেই তার যত ‘শত্রুতা’, আবার অনেকেই বলেন ট্রাম্পের সাথেই তার মিল সবচেয়ে বেশি। শত্রুতা হলো বৈশ্বিক রাজনীতি, বিশেষ করে দেশে-দেশে সামরকি পর্যায়ের বিরোধ। আর মিল হলো উভয়েরই আছে ক্ষ্যাপাটে মন্তব্য করা ও পদক্ষেপ নেয়ার প্রবণতা। উভয়ই পরস্পরকে হুমকিধমকি দিচ্ছেন। কথায় কথায় যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়ার প্রবণতা দু’জনেরই, এমনকি যা শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে ব্যক্তিগত আক্রমণ পর্যন্ত। ট্রাম্পকে বলেছেন ‘বুড়ো’, আর ট্রাম্প তাকে বলেছন ‘খাটো ও মোটা’। আরেকটি মিল হচ্ছে বছরজুড়েই ট্রাম্পের মতো তিনি ছিল আলোচনায়। বলা হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কথা।


২০১৬ সালের মে মাসে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার পর থেকেই একের পর এক আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে থাকেন কিম জং উন। একটির পর একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা করে সারা বিশ্বকে আতঙ্কের মধ্যে রাখেন তিনি। ২০১৭ সালের আন্তঃ মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হইচই হয় এ নিয়ে। এরপর মালয়েশিয়ার একটি বিমানবন্দরে উত্তর কোরিয়ার দুই নারী গুপ্তচরের হাতে নিহত হন কিম জং উনের সৎ ভাই কিম জং ন্যাম। বিষাক্ত রাসায়নিক নার্ভ এজেন্ট ভিএক্স দিয়ে হত্যা করা হয় ন্যামকে। এ ঘটনার পেছনেও উনের হাত রয়েছে বলেই শেষ পর্যন্ত প্রতীয়মান হয়। এরপর এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর প্রতি মাসেই একটির পর একটি যুদ্ধাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। আগস্টে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যায় জাপানের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে।


একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, জাতিসঙ্ঘসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের হুঁশিয়ারি কোনো কিছুই দমাতে পারেনি এই নেতাকে। পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এমন সমানতালে টক্কর দেয়ার ঘটনা আলোচনার টেবিলে ঝড় তোলে বিশ্বব্যাপী। দুই প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সর্বদাই তটস্থ কিমের সামরিক হুমকিতে। নভেম্বরে উত্তর কোরিয়ার এই নেতা ঘোষণা দেন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একের পর এক বাক-বিতণ্ডায় তিনি ব্যস্ত ছিলেন সারা বছর। শেষ দিকে এসে যা রূপ নেয় ট্রাম্পের সাথে তার ব্যক্তিগত বাগযুদ্ধে। উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেতে ১২ দিনের দীর্ঘ এশিয়া সফর করেন ট্রাম্প। পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক হুমকি মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাড মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।


ডিসেম্বরে ট্রাম্পের জেরুসালেম ঘোষণার কড়া প্রতিবাদ করেন কিম। বলেন, এই লোকের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব নয়।


উত্তর কোরিয়ার সামরিক উত্থান
সামরিক শক্তির দিক থেকে ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার উত্থান ছিল অভাবনীয়। দীর্ঘ দিন ধরেই হয়তো দেশটি প্রস্তুতি নিয়েছে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির। গোপনে সমৃদ্ধ করেছে অস্ত্রের ভাণ্ডার। ২০১৬ সালের মে মাসে কিম জং উন সর্বোচ্চ নেতার পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরই শুরু হয়েছে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের। তবে এই বছরে এসে যেন রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটেছে এসবের।


প্রায় প্রতি মাসেই নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। কোনো কোনো মাসে একাধিকবারও। বেশির ভাগই মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। শীর্ষ সারির দেশ না হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এভাবে সামরিক শক্তি প্রদর্শন ছিল অভাবনীয়। বেশ কয়েকবার দেশটি হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার। নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ কোনো কিছুকেই পরোয়া করেনি পিয়ংইয়ং। প্রতিবেশী দুই মার্কিন মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তো রীতিমতো তটস্থ উত্তর কোরিয়ার হামলার ভয়ে। এর মধ্যে একবার জাপানের ভূখণ্ডের ওপর দিয়েও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দেশটি।


বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন একটি দেশ এত সামরিক উন্নতি কিভাবে করেছে সেটি একটি রহস্য। অনেকেই মনে করেন, চীন ও রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে দেশটির প্রতি। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের র‌্যাংকিংয়ে সামরিক শক্তির দিক থেকে দেশটির অবস্থান বিশ্বে ২৩ নম্বরে। পারমাণবিক এমনটি হাইড্রোজেন বোমাও দেশটির রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সদ্যসমাপ্ত বছরের অধিকাংশ সময়ই বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোর বেশির ভাগ জায়গাজুড়ে স্থান পেয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ড আর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনাগুলো।


এক নজরে কিম জং উন
জন্ম : ১৯৮২

শিক্ষা : সামরিক বিদ্যায় স্নাতক

ক্ষমতা গ্রহণ : ৯ মে, ২০১৬

সম্পদ : পাঁচ শ’ কোটি মার্কিন ডলার (আনুমানিক)

পরিবার : স্ত্রী রি সোল-জু ও এক সন্তান।