ভারতের সাথে পরমানু যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের

Dec 22, 2017 07:47 pm
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের


ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন পরমাণু যুদ্ধ পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান। সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসের খান জানজুয়ার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে। ফলে পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শুধু ভারতকেই নিশানা করা নয়, পাক ওচিনকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের নীতিরও সমালোচনা করেছেন জানজুয়া। দাবি করেছেন, চিনকে ঠেকাতেই দিল্লির সঙ্গে জোট গড়ে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। পাকিস্তানকে ছাপিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঝুঁকেছেন ভারতের দিকে।


ইসলামাবাদের একটি আলোচনা সভায় জানজুয়ার এই বক্তব্যের পরেই মার্কিন প্রশাসন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের ঢিলেমি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পাক নিরাপত্তা উপদেষ্টা অভিযোগ এনেছিলেন, ‘‘আফগানিস্তানে এখন শক্তিশালী হচ্ছে তালিবান। আর আমেরিকা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে দোষ চাপাচ্ছে ইসলামাবাদের উপর।’’ তবে এ বার ট্রাম্প আমেরিকার যে নতুন ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’ ঘোষণা করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, ‘‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে রাজি।

তবে ইসলামাবাদকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এর জন্য তাদের জমিতে ঘাঁটি গেড়ে বসা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে।’’ ৯/১১-এর হামলার পর থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে ৩৩ বিলিয়ন ডলার(৩৩০০ কোটি টাকা) মার্কিন সাহায্য পেয়েছে পাকিস্তান। তবে এ বার আমেরিকার হুঁশিয়ারি, ‘‘ওয়াশিংটনকে নিশানা করছে যে জঙ্গিরা, তাদের মদত দেওয়া হলে কোনও সমঝোতাই সম্ভব নয়।’’


পাক নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবশ্য চিনকে তাঁদের বন্ধু হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন নীতির তুমুল সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে চিনের ‘মহাসড়ক’ প্রকল্পের গুরুত্বকে মেনে নিতে পারছে না আমেরিকা। বরং তারা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ জন্যই আফগানিস্তানে পাকিস্তানকে ছাপিয়ে ভারতকে গুরুত্ব দিতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। কাশ্মীর নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের থেকে ভারতের কাছাকাছি রয়েছে রয়েছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন পাক নিরাপত্তা উপদেষ্টা। আনন্দবাজার পত্রিকা।


এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা কৌশলে পাকিস্তানকে সরাসরি আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করে ভারতের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। ভারতকে দিয়ে মোকাবেলা করতে চায় চীনের প্রভাব। পাক-ভারত দ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সারা বিশ্বের। দু’টি পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে চায় সবাই। ট্রাম্পও এই দু’টি দেশের বৈরিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; কিন্তু এখানেও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মতো একই পন্থা অবলম্বন করেছেন। একটি রাষ্ট্রকে সন্ত্রাসবাদের দায়ে অভিযুক্ত করে এবং আরেকটি রাষ্ট্রকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে কখনো বৈরিতা নিরসন সম্ভব নয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনা হচ্ছে ভারতের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি ও তাদের নেতৃত্বে ভারত মহাসাগর ও সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার।

ভারত অনেক দিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ক্রস-বর্ডার’ সন্ত্রাসবাদের যে অভিযোগ করে আসছে ট্রাম্পের নতুন নীতিতেও সেটি মোকাবেলা করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে ভারত অনেক বেশি শক্তি পাবে। পাকিস্তান-ভারতের পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষপাতের কারণে। পাকিস্তানের মাটিতে উগ্রপন্থীদের আশ্রয় পাওয়ার অভিযোগ অনেক দিনের। তবে এর সমাধানে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লিকে নিয়ে একসাথে কাজ করতে পারত ওয়াশিংটন।


বোঝাই যাচ্ছে পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিনের আঞ্চলিক মিত্র পাকিস্তনের সাথে সম্পর্ক শীতল করেছে ধীরে ধীরে। এটি হয়তো আরো স্পষ্ট হবে সামনের বছরগুলোতে। আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে চান ট্রাম্প। অন্য দিকে, মাত্র দুই দিন আগেই খবর প্রকাশ হয়েছে, আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন সেনারা আবার সরাসরি যুদ্ধ করবে তালেবান ও আইএসের বিরুদ্ধে। কয়েক মাস আগেও দেশটিতে নতুন করে চার হাজার সেনা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কাজেই সহসাই আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। উত্তর কোরিয়ার বিষয়েও আগের মতো একই অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।