ক্রোশিয়ার যৌন আবেদনময়ী প্রেসিডেন্ট নিয়ে তোলপাড়

Dec 19, 2017 12:26 pm
প্রেসিডেন্ট কলিন্ডা গ্রাবার-কিতারোভিচ

 

দুনিয়ার সবচেয়ে যৌন আবেদনময়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে হই চই ফেলেছেন ক্রোশেয়ার প্রেসিডেন্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই রাষ্ট্রনেতার নানা ভঙ্গিমার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর দেহ-বিভঙ্গে শুধু দেশবাসীই নন, মজেছে আপামর দুনিয়া। ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কলিন্ডা গ্রাবার-কিতারোভিচ এখন দুনিয়া জুড়ে আলোচনায়।


২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ক্রোয়েশিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রথম মহিলা তথা দেশের চতুর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন কলিন্ডা গ্রাবার-কিতারোভিচ। সময় নষ্ট না করে পরের দিন থেকেই নিজের কার্যভার সামলাতে শুরু করে দেন জনপ্রিয় এই নেত্রী।


আকর্ষণীয় রূপের সুবাদে গোড়া থেকেই আলোকচিত্রীদের লেন্স সব সময় তাঁকে খুঁজে বেড়ায়। সম্প্রতি সমুদ্র স্নানের পোষাক পড়া কলিন্ডার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুফান তুলেছে। অনেকের মতে, বিশ্বে এমন রূপসী এবং যৌন আবেদনময়ী রাষ্ট্রনেতা এ যাবত দেখা যায়নি। তবে সৈকতাবাসে অবসর যাপনের সময় প্রেসিডেন্টের লাস্যময়ী রূপ ঠিক কবে ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল, সেই ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত সঠিক তথ্য মেলেনি।


১৯৯৬ সালে জ্যাকভ কিতারোভিচের সঙ্গে বিয়ে হয় কলিন্ডা গ্রাবারের। তাঁদের দুই সন্তান, মেয়ে ক্যাটারিনা (১৪) এবং ছেলে ল্যুকা (১২)। কলিন্ডা ক্রোয়েশিয়ান ছাড়াও ইংরেজি, স্প্যানিশ ও পর্তুগীজ ভাষায় দুরস্ত। এছাড়া জার্মান, ফ্রেঞ্চ ও ইতালিয়ান ভাষা তিনি বুঝতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় যৌন আবেদনপূর্ণ রূপসী প্রেসিডেন্টের ছবি প্রকাশিত হতেই অভিনন্দন ও প্রশংসার ঝড় বয়ে গিয়েছে। কারও কারও অভিমত, দেশের সর্বোচ্চ পদে বসার আগেই এই ছবিগুলি তোলা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট নিজে অবশ্য এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।এসব ছবি নিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়তো ব্রিব্রত।

ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট এই নারী পূর্ব ইউরোপের দেশটি ভালো ভাবে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অত্যন্ত মেধাবী এই প্রেসিডেন্ট লেখা পড়া করেছেন জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভাসির্টি ও হার্ভাড ইউনিভার্সিটিতে।১৯৯০ সালে দেশটিতে বহুদলীয় গনতন্ত্র চালু হওয়ার পর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হন। রক্ষনশীল দলের এই রাজনীতিক শরনার্থী বিষয় নিয়েও আলোচনায় এসেছেন। সিরিয়ার যুদ্ধের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শরনার্থী প্রবেশ শুরু করলে ক্রোশিয়া অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠে। তিনি হাঙ্গেরীরর মতো শরনার্থী প্রবেশ নানাভাবে সীমিত করার চেষ্টা করেন।


ক্রোশিয়ার মানুষ এই নারী প্রেসিডেন্টের ওপর যথেষ্ট আস্থাশীল হলেও তার ব্যক্তিগত জীবন দেশে ও দেশের বাইরে যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়ে পরিনত হয়েছে।যদিও সোশ্যাল মিডিয়া বা সাধারন মানুষের তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনাকে তিনি গুরুত্ব দিতে চান না।


উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনের এক নেতা পোশাকের নিয়ন্ত্রণ হারান। মঞ্চের উপর ফোটো সেশন চলাকালীন প্রেসিডেন্টের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ক্রোয়েশিয়ান হেলসিঙ্কি মানবাধিকার কমিটির নেতা আইভ্যান জোনিমির সিক্যাক-এর প্যান্ট খুলে যায় এবং তার জেরে তিনি যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়েন। নিন্দুকরা অবশ্য টিপ্পনি কাটছেন, সুন্দরী কলিন্ডার উপস্থিতিই এই পোশাক বিভ্রাটের কারণ। বলা বাহুল্য, ঘটনার জেরে প্রেসিডেন্টের মুখে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।


এই ঘটনা সম্পর্কে টুইটারে নানা মজাদার মন্তব্য দেখা গিয়েছে। সেই সব মন্তব্য পড়লে প্রেসিডেন্ট গ্রাবার-কিতারোভিচ বিব্রতা না খুশী তা জানা যাবে না। তবে সরকারি ভাবে এ সম্পর্কে তিনি নির্লিপ্ত।