কিডনি ক্যানসারে আর নয় ভয়

Dec 17, 2017 02:35 pm
কিডনি ক্যানসারে আগে কেউ ভুগেছেন

 

প্রায়শই জ্বর বা কোমর ব্যথা হলে 'ও তেমন কিছু না' বলে অবহেলা করবেন না৷ এই সাধারণ উপসর্গগুলিই কিন্তু কিডনি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে৷ নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এর আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে৷ এমনটাই মত চিকিত্সকদের।


উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন? কিংবা ওজনটা দিন দিন বেড়েই চলেছে? বা আপনি কি চেইন স্মোকার? কোমরে ইদানীং ব্যথা হচ্ছে? সবগুলির উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আপনার কিডনিতে বাসা বাঁধতে পারে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ৷ চিকিত্সাশাস্ত্রে যার পোশাকি নাম রেনাল সেল কার্সিনোমা, সংক্ষেপে আরসিসি৷ পরিসংখ্যান বলছে সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ এই মারণ রোগে আক্রান্ত হন৷ যে পরিবারে কিডনি ক্যানসারে আগে কেউ ভুগেছেন, সেই পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা ২৫ গুণ বেশি৷


একে ক্লিয়ার সেল কার্সিনামো বলে৷ দেখা গিয়েছে মহিলাদের চেয়ে পুরুষরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন৷ তার একটা কারণ হলো মহিলাদের থেকে পুরুষদের মধ্যেই ধূমপানের প্রবণতা বেশি৷ সময় মতো এই রোগ ধরা না পড়লে কিডনি থেকে শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে৷ আর সেখানেই সমস্যা৷ এর উপসর্গগুলি খুবই সাধারণ৷ ওবিসিটি, উচ্চ রক্তচাপ, কুঁচকিতে ব্যথা, হঠাত্ করে পেটে ফুলে যাওয়া, মাঝে মধ্যে জ্বর, রক্তাল্পতা, ওজন হ্রাস, এই ধরনের শারীরিক সমস্যা হলে অবিলম্বে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন৷ তিনি যদি কোনও শারীরিক পরীক্ষার পরামর্শ দেন, তাহলে দেরি না করে সেগুলি করিয়ে নিন৷
গাফিলতি করলে সমস্যা বাড়বেদুশ্চিন্তা যেমন করবেন না, তেমনই গাফিলতি করাও কিন্তপ কাজের কথা নয়৷ তাই সময় থাকতে সতর্ক হোন৷ নাহলে বিপদ বাড়বে৷

রেনাল সেল কার্সিনামো বা আরসিসি-র মোট চারটে স্তর আছে৷ যদি এই রোগটি তিন নম্বর স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে চিন্তার তেমন কারণ নেই৷ কারণ এই স্তরগুলোতে রোগ কিডনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে৷ অস্ত্রোপচারের সাহায্যে আংশিক ভাবে অথবা কিডনির যে অংশটি আক্রান্ত হয়েছে সেটি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়৷ অনেক সময়েই সম্পূর্ণ কিডনিও বাদ দিতে হয়৷ তবে তাতে অযথ আশঙ্কার কোনও কারণ নেই৷ এখন ল্যাপেরোস্কোপিক পদ্ধতি বা রোবোটিক পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচার সম্ভব হওয়াতে অল্প সময়ের মধ্যেই সম্ভব হয়৷ বেশিদিন হাসপাতালে থাকার দরকারও পরে না৷

এই অস্ত্রোপচারের পর তার অন্য কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও খুবই কম৷ কিছুদিন পর থেকেই আপনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন৷ তবে কিছু বিধি নিষেধ যেমন খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত এক্সারসাইজ, ধূমপান না করা- মেনে চলতেই হবে৷ তবে আরসিসি যদি চতুর্থ স্তরে পৌঁছে যায়, তাহলে সমস্যা জটিল হয়ে পড়ে৷ ওষুধ দিয়ে তাঁদের সাময়িক যন্ত্রণার উপশম করা হয় মাত্র৷ তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ৷ বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস রয়েছে তাঁরা আগে থাকতেই একটি ব্যালান্সড লাইফস্টাইল মেইনটেইন করে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে৷


মনে রাখবেন
১) সময় মতো চিকিত্সা করান
২) নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন
৩) ধূমপান একেবারেই নয়
৪) একটি কিডনি বাদ চলে গেলেও ভয়ের কিছু নেই
৫) ব্যালান্সড ডায়েট মেইনটেইন করে চলুন

 

ফুসফুসের শক্তি বাড়ানোর সহজ উপায়
এক : শ্বাস বের করে আনুন তলপেট থেকে কমপক্ষে দিনে পাঁচ মিনিট এ কাজটি করুন। এর নাম ডায়াফ্র্যাগমেটিক ব্রেথিং। এটি আপনার ডায়াফ্রামকে শক্তিশালী করে তোলে। ডায়াফ্রাম হচ্ছে বুক ও উদরের মাঝখানের ঝিল্লির পর্দা, মধ্যচ্ছদা। এই ডায়াফ্রাম শক্তিশালী হলে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার কাজটি সহজ হয়।


দুই : আপেল খান একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচটি আপেল দাঁত দিয়ে কচকচ করে কেটে খেয়েছেন, তারা ফুসফুসের কার্যকারিতার উন্নয়ন ঘটেছে। কমেছে হাঁপানি ও শিশুর বুকে শব্দ করে শ্বাস নেয়ার সমস্যা।


তিন : জীবনের উজ্জ্বল দিকে তাকান হার্ভার্ডের গবেষকেরা নজর রেখেছেন ৬৭০ জন পুরুষের ওপর। তাদের গড় বয়স ৬৩। আট বছর পর দেখা গেছে আশাবাদী ব্যক্তিদের ফুসফুস আগের চেয়ে আরো ভালোভাবে কাজ করছে।


আর নৈরাশ্যবাদীদের ফুসফুসের কার্যকারিতা আগের চেয়ে কমে গেছে।


চার : ঘরগেরস্থালীর কাজে ব্যবহারের পরিষ্কারক পণ্যের গায়ে ছোট ছোট লেখাগুলো পড়ুন কিছু কিছু পণ্য, যেমন ওভেন ক্লিনার পণ্য এমন বিষাক্ত যে তা শুঁকতে গেলে কিংবা এর গন্ধ কোনোভাবে নাকের ভেতর গেলে বিপদ হতে পারে।


এ ধরনের পণ্যের গায়ে ছোট ছোট হরফে লেখা থাকে, ব্যবহারের আগে জানালা খোলা রাখুন। এ ধরনের নির্দেশনা যথাসম্ভব মেনে চলা ভালো।