মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এরদোগান

Dec 15, 2017 03:34 pm
তুরস্কের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ক্রমবর্ধমান

 


মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। আর সবচেয়ে ঘৃণিত নেতা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।


এ অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ক্রমবর্ধমান।  মার্কিন জরিপ সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের জনপ্রিয়তা ও প্রভাব সবচেয়ে বেশি ক্রমবর্ধমান। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বৃদ্ধির দিক থেকে তুরস্কের পরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।


বিবিসি টার্কিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিউ রিসার্চের জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে লেবাননে এরদোগান সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। দেশটির ৬৬ শতাংশ মানুষ তাকে নেতা হিসেবে পছন্দ করেন। এরপর তিউনিশিয়ার অবস্থান। দেশটির ৫৯ শতাংশ মানুষ এরদোগানের ভক্ত। তবে ইসরাইলবাসীর কাছে এরদোগান সবচেয়ে অপছন্দের ব্যক্তি।

তবুও ১৫ শতাংশ ইসরাইলি তার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। গত দশ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের প্রভাব বেড়েছে ৬৩ শতাংশ, যা একটি রেকর্ড। এর মধ্যে জর্ডানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ৭৬ শতাংশ।


পিউ রিসার্চের মতে, ২০১৪ সালে সর্বশেষ জরিপের চেয়ে এবার তিউনিশীয় নাগরিকদের মধ্যে এরদোগানের প্রতি সমর্থনের হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ২০১৫ সালের জরিপের চেয়ে জর্ডানে এরদোগানের প্রতি সমর্থন বেড়েছে ৭ শতাংশ।


অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত নেতা নেতানিয়াহু। তুরস্কের ৭৯ শতাংশ নাগরিক নেতানিয়াহুকে অপছন্দ করেন। মাত্র ৭ শতাংশ তুর্কি নাগরিক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।


লেবাননের ৯৯ শতাংশ মানুষ নেতানিয়াহুকে অপছন্দ করেন আর জর্ডানে এই হার ৯৬ শতাংশ। জরিপ মতে, জনপ্রিয়তায় এরদোগানের পরের অবস্থানে রয়েছেন মিসরের স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।


এরদোগানের জন্ম ১৯৫৪ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলে। তার পরিবার জর্জিয়া থেকে ইস্তাম্বুলে এসেছিল। তার লেখাপড়া শুরু হয় ধর্মীয় শিক্ষালয় ইমাম হাতিপ স্কুলে। এরপর তিনি মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি এবং লোক প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি নেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পেশাদার ফুটবলার এবং একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় নাজমুদ্দিন আরবাকানের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সালভেশন পার্টির (মিল্লি সালামত পার্টি) মাধ্যমে। এরদোগান ১৯৮৫ সালে রাফাহ পার্টির ইস্তাম্বুল প্রদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ইস্তাম্বুল প্রদেশ থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালের ২৭ মার্চ তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনে রাফাহ পার্টি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ নির্বাচনে এরদোগান ইস্তাম্বুলের মেয়র এবং গ্রেটার মেট্রো ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।


তার জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কারণে মেয়র হিসেবে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর দক্ষিণ তুরস্কে এক জনসভায় তুর্কি জাতীয়তাবাদী কবি জিয়া গোকাল্পের একটি কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে আলোচনায় ঝড় তোলেন। কবিতাটি ছিল এ রকম Mosques are our barracks. domes our helmets, minarets our bayonets, belevers our soliders. এ কবিতা আবৃত্তির দায়ে তুর্কি সেকুলার সরকার তাকে দণ্ডিত করে। ১৯৯৭ সালে ওয়েলফেয়ার পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ দলের সদস্যরা ভার্চু পার্টি (ফজিলত পার্টি) নামে নতুন দল গড়ে তোলেন। কিন্তু ১৯৯৯ সালে এ দলকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ বছরই এরদোগানের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি।