বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক যে বিপর্যয় ডেকে আনে

Dec 12, 2017 02:17 pm
বিবাহিত জীবনে সন্তুষ্টির মাত্রা ধীরে ধীরে কমে গেছে

 

নারী ও পুরুষের সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত বিভিন্ন পর্যায়ে। ডেটিং থেকে শুরু করে বিয়ের আগে সহবাস তারপর বিয়ে পর্যন্ত নানা পর্যায়ে চলে এ সম্পর্কের সংজ্ঞায়ন।

কিন্তু সম্প্রতি ডেনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব ফ্যামিলি সাইকোলজি’তে। এ সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে কোহেভিটিং অর্থাৎ বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে বসবাস নারী-পুরুষের সম্পর্কে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বিয়ের আগে কোহেভিটিং পরবর্তী বিবাহিত জীবনে বিচ্ছেদ ডেকে আনতে পারে। এক হাজার বিবাহিত নারী-পুরুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, যেসব নারী-পুরুষ এনগেজমেন্টের আগেই একত্রে বসবাস ও সহবাস করে, তাদের বিয়ে-বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ ধরনের নারী-পুরুষের ৪৩ শতাংশের মধ্যেই বিয়ের পর বিবাহিত জীবনে সন্তুষ্টির মাত্রা ধীরে ধীরে কমে গেছে। তাদের চেয়ে বিবাহিত তারাই বেশি সন্তুষ্ট যারা এনগেজমেন্টের পর সহবাস করেছে। এনগেজমেন্টের পর সহবাস করেছে এমন নারী-পুরুষের সংখ্যা ১৬ শতাংশ। তাদের চেয়ে বিয়ের পরবর্তী জীবন আরো বেশি সুখকর হয়েছে যারা সহবাস করেছে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর। তাদের সংখ্যা ৪১ শতাংশ।


ঊর্ধ্বতন গবেষক গ্যালেনা রোডস বলেন : ‘কিছু কিছু দম্পতি আছে যা বিয়ের ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগেই সহবাসে লিপ্ত হয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে বিয়ে করার ব্যাপারে পিছিয়ে যেতে চায়। অংশত এর কারণ এরই মধ্যে এরা সহবাসে লিপ্ত হয়ে পড়ছে।’


পরবর্তী আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ দম্পতি লিভটুগেদার করতে চায়, কারণ পরস্পরের সাথে বেশি করে সময় কাটাতে চায়। দ্বিতীয় অতি সুপরিচিত কারণ সহজবোধ্য, যা জানা গেছে সম্পর্ক পরীক্ষা করে। গবেষক স্কট স্ট্যানলির পরামর্শ হচ্ছে যোগাযোগটাই কোহেভিটেশনের জন্য মুখ্য।

‘লিভটুগেদার করার আগেই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে হবে, জানতে হবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অর্থ কী?’ তিনি আরো বলেন, ডেটিংয়ের চেয়ে সম্ভবত সাময়িক বিরতি হতে পারে আরো কঠিন, যদি ওই দম্পতি ইতোমধ্যেই লিভটুগেদার শুরু করে থাকে।


হাঁটুর ব্যথা সারান খাবার খেয়ে

লাখ লাখ মানুষ হাঁটুর ব্যথায় ভোগে। সুখের কথা, এ ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে অস্থি-গ্রন্থিবাত বিদ্যা বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস। স্টেরয়েড ইনজেকশন থেকে শুরু করে এমনকি সার্জারির মাধ্যমে হাঁটুকে সক্রিয় রাখা যায়, ভারী বোঝা বহন এড়িয়ে চলে। কিন্তু গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, আপনি এর চেয়েও ভালো উপায় অবলম্বন করতে পারবেন এ ক্ষেত্রে। খাবার খেয়ে সারিয়ে তুলতে পারবেন হাঁটুর ব্যথা।
সয়াবিন : ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলেছেন, যেসব হাঁটুর ব্যথার রোগী তিন মাস প্রতিদিন সয়া প্রোটিন খেয়েছেন, তাদের হাঁটুর ব্যথা কমে গেছে এবং তাদের ব্যথার ওষুধও ব্যবহার করতে হয়েছে কম।

সয় বা সয়াবিনে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে isoflavones। এগুলো হচ্ছে ব্যথার জ্বালা বিনাশী প্ল্যান্ট হরমোন। সমীক্ষায় যারা অংশ নেয়, তাদের পাউডার সয় পানীয় পান করতে হয়, যার সাথে মেশানো হয় ৪০ গ্রাম প্রোটিন। কিন্তু এই সমীক্ষায় প্রতিবেদনের প্রণেতা ব্রাহাম এইচ অ্যারজমান্ডি পিএইড বলেন, আপনি একই উপকার পেতে পারেন ফেভারড সয় মিল্ক, বেবি সয়াবিন এডাম্যামি এবং সয় বার্গার থেকে।


সাইট্রাস : অস্ট্রেলিয়ার ২৯৩ জন পূর্ণবয়স্ক লোকের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রচুর ফল খেয়ে bone marrow lision এর কবল থেকে রক্ষা। অর্থাৎ প্রচুর পরিমাণে ফল খেলে হাড়ের মজ্জায় আঘাত পাওয়ার ফলে যে অঙ্গবিকৃতি ঘটে, তা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ধরনের আঘাত গ্রন্থিবাত কিংবা হাঁটুর ব্যথার রোগ সৃষ্টি হয়। প্রচুর পরিমাণে ফল খাওয়ার মাধ্যমে এ বিপদ এড়ানো সম্ভব। হাঁটুবান্ধব ফলের মধ্যে আছে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, যেমন কমলা, আম, আঙুর ও পেঁপে। গবেষকদের ধারণা, ফলের ভিটামিন সি হাঁটুর সংযোগস্থল ও কাঠামোকে সুরক্ষা দেয়।


মাছ : অনেক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাছ ও মাছের তেল জয়েন্ট বা শরীরের বিভিন্ন সংযোগস্থলের ব্যথা উপশম করে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ফলে সৃষ্ট হাঁটুতে টান টান ভাব সারিয়ে তোলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের মধ্যকার ওমেগা-থ্রি নামের ফ্যাটি অ্যাসিড শুধু সেই রাসায়নিককেই রোধ করে না, যা অস্থিব্যথা বাড়িয়ে তোলে, বরং হাঁটুর কোমলাস্থি কমিয়ে দেয়ার জন্য দায়ী প্রোটিনও হাঁটুতে যাওয়া রোধ করে। প্রতি সপ্তাহে দু’টি তৈলাক্ত মাছ খান, ম্যাকারল বা স্যালমন, অথবা ক্যাপসুল আকারে এক গ্রাম ওমেগা-৩ প্রতিদিন খান, তাতে করে হাঁটুর ব্যথা হবে না। এ অভিমত একজন পুষ্টিবিষয়ক গবেষকের।

সোশ্যাল রিজেকশন ও শরীর ব্যথা
সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন তথা সোশ্যাল রিজেকশনের মতো অবস্থায় থাকা খুবই কষ্টকর। আমরা জানি জিন (gene ) হচ্ছে শরীরের এক শক্তিশালী বেদনানাশক। কিন্তু কেন ওই জিনই কোনো কোনো সময় মানুষকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তথা সোশ্যাল রিজেকশনের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এই বিষয়টিই উদঘাটন করেছেন।


ইউসিএলএ গবেষকরা দেখেছেন, সেসব লোকের মধ্যে বেদনানাশক গ্রাহক জিন বা রিসেপ্টর জিন OPRM রয়েছে তা এ রিজেকশনের ব্যাপারে সাধারণ গ্রাহক জিনওয়ালা লোকদের চেয়ে বেশিস্পর্শকাতর। এর ফলে মগজ এলাকায় এই গ্রুপ সবচেয়ে বেশি ধ্বংসকর কাজ চালায়। এর ফলে মানসিক ও শারীরিক ব্যথার সৃষ্টি হয়। সমীক্ষা প্রতিবেদনের সহ-প্রণেতা নাওমি আইজেনবার্গ বলেন, ব্যথাব্যবস্থা পেইন সিস্টেমের এই অংশত আবৃত করার বিষয়টি সৃষ্টি করে বৈপ্লবিক চেতনা বা রিভোলিউশনারি সেন্স : ‘যেহেতু সামাজিক সংশ্লিষ্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এর অভাবে অনুভবে আঘাত হানা হয়’। সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’-এর প্রসিডিংয়ে।


ক্যান্সার প্রতিরোধে কফি
প্রতিদিন সকালে পান করুন কফি। এটা আপনাকে রক্ষা করবে ক্যান্সার হওয়া থেকে। ১৭ বছর ধরে ৬০ হাজার মহিলার ওপর পরিচালিত এক নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা দিনে চার কিংবা তার চেয়েও বেশিবার কফি পান করেন তাদের endometrial Cancer হওয়ার ঝুঁকি প্রতিদিন এক কাপ পানকারীদের চেয়ে ২৫ শতাংশ কমে যায়। অস্বাভাবিক মোটা মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কমার মাত্রা ৪৬ শতাংশ। আর এসব মোটা মহিলাদের বেলায়ই ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্ক সবচেয়ে বেশি।
পুরুষও এই কফি পান থেকে উপকৃত হতে পারেন। সাম্প্রতিক গবেষণা শেষে গবেষকদের পরামর্শ হচ্ছে প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য দিনে ছয়বারেরও বেশি কফি পান করুন, যারা এখনো প্রতিদিন কফি পান করেন না, তাদের উচিত কফি পান শুরু করা।

স্মার্ট জুতা

গবেষকরা অ্যালঝেইমার রোগীদের জন্য জিপিএস খুঁজছেন। এই জিপিএস দিয়ে তারা তৈরি করতে চান এমন জুতা, যার সাহায্যে জুতা পরিধানকারী কোথায় কখন থাকেন তা জানা যাবে। তবে তা জানা যাবে মাত্র ১৮ মিটার দূরত্বসীমার মধ্যে। গুগল ম্যাপিং ব্যবহার করে এর বহনকারী আঁকতে পারবেন একটি 'মবড়-ভবহঁ' তথা ভৌগোলিক বেড়া। যেমন জুতা পরিধানকারীর বাড়ির চার দিকে ৫০ মিটার দূরত্বসীমায় এই বেড়া দেয়া যাবে। যখন এই দূরত্বসীমার বাইরে অ্যালঝেইমার রোগী চলে যেতে চায়, তখন সাথে সাথে কম্পিউটারে বা মোবাইলে এর সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে।

এই সতর্কবার্তা থেকে জানা যাবে ঠিক কোন অবস্থানে এই রোগী অবস্থান করছেন। এমনটি জানিয়েছেন, ভার্জিনিয়ার জর্জ ম্যাশন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কলেজ অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস’-এর অ্যাসিস্টেড লিভিংয়ের ডিরেক্টর ড. অ্যান্ড্রু কার্ল।


অ্যালঝেইমার রোগীরা প্রায় অপরিচিত বস্তু খুলে ফেলে। কিন্তু ড. কার্ল আশা করছেন, এই জুতা সে সমস্যার অবসান ঘটাবে। রোগীদের মধ্যে থাকা মেমরির মধ্যে সর্বশেষ ধরনের মেমরি হচ্ছে প্রডিডিউরাল মেমরি। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে পোশাক পরিধান। পোশাকের ভেতরে প্রযুক্তি লুকিয়ে ব্যবহার করার ধারণা এটুকু নিশ্চিত করে যে, প্রয়োজনে ও সময়ে রোগী প্রযুক্তিটি ব্যবহার করবে।

অনুশীলন করুন সুখী হোন
ব্যায়াম সংশ্লিষ্ট এনড্রোপিনসের ধারণা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এখন এটুকু স্পষ্ট এই এনড্রোপিনসের ক্ষমতা আগে আমরা যতটুকু না ভাবতাম, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। এনড্রোপিন হচ্ছে প্রোটিন গ্রুপের একটি, যার রয়েছে বেদনানাশের প্রবল শক্তি। এই এনড্রোপিন প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন হয় মগজে।
কয়েক মুহূর্তের জন্য ঘামুন। এরপর কয়েক ঘণ্টা ডুবে থাকুন সুস্থবোধের মধ্যে। এই বার্তাটিই পাওয়া গেছে একটি সমীক্ষা থেকে। সমীক্ষাটি প্রকাশ করা হয়েছে ‘অ্যামেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিন’-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক সভায়। এই সমীক্ষার পরামর্শ হচ্ছে, ব্যায়ামের ফলে মনমানসিকতা ভালো থাকে আগের ভাবনার চেয়ে ১২ গুণ বেশি সময়।
পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অনুশীলনের ভালো-অনুভব প্রভাবে তথা ''workout's feel good effects' স্থায়ী হয় এক ঘণ্টার মতো সময়ে এই সময়টুকু ঘাম শুকানোর সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় নয়। কিন্তু ভেরমন্ট বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি স্থির সাইকেলে কোনো নারী বা পুরুষ ২০ মিনিট প্যাডেল চালানোর পর তাদের মুড বা মন ভালো থাকে প্রায় আধা দিন ধরে। প্রশ্নমালা জরিপে এ সত্য বেরিয়ে এসেছে।