যেভাবে হয় শিশু চুরি

Dec 07, 2017 02:25 pm
দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে সময় লাগল না

 

স্পেনে চার্চ ও সরকার পরস্পরের সহযোগিতায় চার লাখ শিশু চুরি করেছিল। মায়ের বুক খালি করার ভয়াবহ কাহিনী এখানে তুলে ধরা হয়েছে । জন হুপারের লেখাটি ভাষান্তর করেছেন হাসান শরীফ


মারিয়া লুইসা টোরেসের যখন জ্ঞান ফিরল, তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি, তিনি একটি হরর মুভির চরিত্র হতে যাচ্ছেন। দিনটি ছিল ১৯৮২ সালের ৩১ মার্চ। তিনি সবেমাত্র মাদ্রিদের সান্তা ক্রিস্টিনা ক্লিনিকে একটি মেয়েশিশুর জন্ম দিয়েছেন। অন্য যেকোনো মায়ের মতোই তিনি স্বাভাবিকভাবেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভবত তার শিশুটিকে দেখতে চাইবেন।


তিনি ইনকিউবেটরে গিয়ে শিশুটাকে দেখতে চাইলেন। কিন্তু নার্সেরা অনুমতি দিলো না। তবে তিনি কৌশলে নার্সদের ফাঁকি দিয়ে নবজাতক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ঢুকে পড়লেন। সেখানে একটি শিশু দেখলেন। তার মনে হলো এটাই তার সন্তান। কিন্তু পরক্ষণেই নার্সেরা শিশুটিকে নিয়ে গেল। বলে গেল, শিশুটি তার নয়। তারা তাকে ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নিলো। তিনি পাগলপারা হয়ে গেলেন।


মারিয়া লুইসা যখন অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন তালাকপ্রাপ্তা। শিশুটির পিতা ছিল অন্য একজন। সন্তান ধারণকারী যেসব মা সমস্যায় রয়েছে, তাদের সহায়তার জন্য জনৈক নান একটি ক্লিনিক খুলেছেন পত্রিকায় এমনটা পড়ে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন।


সিস্টার মারিয়া গোমেজ ভ্যালবুয়েনা তাকে বোঝালেন, হাসপাতালে থাকার বিল, পরিচর্যা ইত্যাদি নানা ঝামেলা আছে। তারপর শিশুটি যদি তার কাছে থাকে, তবে ওয়েটার হিসেবে তিনি যে কাজ করেন সেটা করতেও সমস্যা হবে। তার চেয়ে ভালো হয়, শিশুটিকে যদি তাদের কাছে দিয়ে দেন, তবে তারাই সবকিছুর ব্যবস্থা করবেন। এমনকি শিশুটিকে তারা নার্সারিতেও দিয়ে দেবেন। তিনি যখন ইচ্ছা, শিশুটিকে দেখে যেতে পারবেন।


মনে হলো এটা একটা স্বপ্নিল সমাধান। কিন্তু এটা দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে সময় লাগল না।
মারিয়া লুইসা প্রসব ওয়ার্ডে যাওয়ার পর ওই নান তাকে একটি কাগজ দিয়ে তাকে স্বাক্ষর করতে বললেন।
এটা কিসের কাগজ জিজ্ঞেস করলে জবাব পাওয়া গেল, তার সব বিল যাতে ওই নান শোধ করতে পারেন, এটি তার ব্যবস্থা। এতে সই করলে তাকে একটি পয়সাও দিতে হবে না।


মারিয়া লুইসা সই করলেন। আর তারপরই তাকে বিস্মিত করে তাকে জেনারেল এনেসথেটিক দেয়া হলো। শিশু জন্মের পর যে হইচই হয়েছিল, তা শুনে মারিয়া আবার উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি মারিয়া লুইসার কাছে এসে সোজাসুজি বললেন, ‘আপনার কোনো মেয়ে নেই।’
মারিয়া লুইসা বললেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। আমি তার নাম রাখতে চাইছি শিলা।’ কিন্তু নান জোর গলায় বললেন, মারিয়া লুইসা তার শিশুটি দত্তক দিতে রাজি হয়েছিলেন।


‘আমি তাকে বললাম যে তার কথা সত্য নয়। তিনি বললেন, আমি যে কাগজে সই করেছি, তাতে দত্তকের কথাই লেখা আছে।’
ওই নান বললেন, তার মেয়েকে ইতোমধ্যেই দত্তক দেয়া হয়ে গেছে। মেয়েটি এখন অনেক দূরে, ফ্রান্সে বসবাসকারী এক দম্পতি তাকে নিয়ে গেছে। তিনি যদি গোলমাল করতে থাকেন, তবে তিনি তার অপর মেয়ে ইনেসকেও হারাবেন।


পরদিন যখন মারিয়া লুইসার মা ওই নানের কাছে গেলেন, তখন তাকে অন্য কাহিনী বলা হলো। তাকে জানানো হলো, শিশুটি মারা গেছে।
এক সপ্তাহ পর মারিয়া লুইসা ক্লিনিকটি ছাড়লেন, মেয়েশিশুটি ছাড়াই। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের গ্লাস দিয়ে একনজর যে শিশুটি দেখেছিলেন, তার স্মৃতি নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরলেন।

এই দুঃসহ স্মৃতি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে জানা গেছে, ১৯৪০-এর দশক থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত হাজার হাজার (কারো কারো মতে লাখ লাখ এবং এমনকি কেউ কেউ মনে করেন সংখ্যাটি কোটিতে দাঁড়াবে) স্প্যানিশ মা এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। অনেককে বলা হয়েছে, তাদের সদ্যজাত শিশুটি মারা গেছে। আবার মারিয়া লুইসার মতো অনেককে ক্যাথলিক চার্চ এবং অতি রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তির ভয় দেখানো হয়েছে।


কিভাবে এমনটা ঘটতে পারল?
১৯৮০-এর দশকের স্পেন যে বর্তমান সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল এটাই এখন ভুলে যাওয়া হয়েছে। রিপাবলিকান জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর লৌহশাসনে স্পেন শাসিত হয়েছে ১৯৩৯ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত। ওই শাসনের রেশ পরের দুই দশকেও রয়ে গিয়েছিল।
মারিয়া লুইসা যে বছর সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, তার ঠিক আগের বছর ফ্রাঙ্কোর অনুগত সেনাকর্মকর্তারা ওই সময়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। ফ্রাঙ্কোর স্মৃতি তখনো সজীব।


তা ছাড়া ফ্রাঙ্কো বিদায় নিলেও ক্যাথলিক চার্চের ক্ষমতা রয়ে গিয়েছিল। অধিকন্তু চার্চের রক্ষণশীল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি আরো কঠোর হয়েছে। মারিয়া লুইসা বলেছেন, সিস্টার মারিয়া তার বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ এনে আদালতের মাধ্যমে তার প্রথম সন্তানকেও তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।


অবশ্য তত দিনে স্পেনে ব্যভিচার কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল না। কিন্তু মারিয়া লুইসা জানতেন না যে ইতোমধ্যেই আইন বদলে গেছে।
নবজাতককে কেড়ে নেয়ার কাজটি সম্ভবত ফ্রাঙ্কোর স্বৈরশাসনের প্রথম দিকেই শুরু হয়েছিল। প্রথমে সরকারবিরোধীদের সন্তান ছিনিয়ে নিয়ে সেগুলো ‘ভালো, ক্যাথলিক পরিবারে’ মানুষ করার মিশন হিসেবে সেটা শুরু হয়েছিল।


স্পেনের অনেক হাসপাতালে কাজ করত নানেরা। আর সিস্টার মারিয়ার মতো নানেরা সিদ্ধান্ত নিতেন কোনো কোনো মা তাদের সন্তানদের ‘ভালোমতো’ মানুষ করতে পারবেন না।


সরকারি উৎসাহে তারা মায়েদের কাছ থেকে সন্তানদের দীর্ঘ সময় দূরে রাখত। আবার অনেক সময় নিছক লাভের আশায় তারা নবজাতককে স্রেফ চুরি করত।


মারিয়া লুইসা যখন হাসপাতালটি ছাড়ছিলেন, তখন তিনি ধারণাও করতে পারেননি যে, আরেকটি নারী কাচের ভেতর দিয়ে তার মেয়েকে আগ্রহভরে দেখছেন। জুয়ানা ও তার স্বামী আলেজান্দ্রো অ্যালক্যালডের বয়স তখন ৩০-এর কোঠায়। তারা সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে একটি শিশু দত্তক নেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই তারা সিস্টার মারিয়ার সাথে পরিচিত হয়েছিলেন।
আলেজান্দ্রো একটি বহুজাতিক প্রকৌশল কোম্পানির নির্বাহী ছিলেন। তার কাছে সিস্টার মারিয়াকে ‘আত্মবিশ্বাসী, অত্যন্ত বুদ্ধিমতী এবং বেশ দৃঢ়চেতা’ মনে হয়েছিল। মারিয়া তাদের বলেছিলেন, তাদের জন্য এখনো জন্ম হয়নি এমন একটি শিশু রেখে দিয়েছেন।


আলেজান্দ্রো বলেন, আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আমরা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে রাজি কি না। আমরা বলেছিলাম, অবশ্যই।
দত্তক মা-বাবারা তার খ্রিষ্টান নাম রাখেন পিলার। তিনি আকর্ষণীয়া বালিকা হিসেবে বেড়ে ওঠেন। খানিকটা লাজুকতা থাকলেও সুন্দরী, উষ্ণ মেয়ে হিসেবে পরিচিত হন। দম্পতিটি যখন বুঝতে পারল, তারা মেয়েটিকে সামাল দিতে পারবে, তখন তারা তাকে বলল যে তাকে দত্তক নেয়া হয়েছে।


পিলারের বয়স যখন ১৪, তখন দত্তক দম্পতির সংসার ভেঙে গেল। পিলার তার বাবার সাথে রয়ে গেলেন।
আলেজান্দ্রো বলেছেন, ‘অনেক সময় আমি দেখতাম তার মন খারাপ। এক দিন ও বলল, আমি আমার আসল মাকে খুঁজতে চাই। আমি বললাম, আমি তোমাকে সম্ভব সব রকমে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’


আলেজান্দ্রো তার কথা রেখেছিলেন। তিনি সিস্টার মারিয়ার কাছে গেলেন। কিন্তু ওই নান তাকে কোনো ধরনের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি একজন আইনজীবী ও একজন গোয়েন্দা লাগালেন। তিনি হাসপাতালের রেকর্ডপত্র দেখানোর আবেদন করলেন, কিন্তু কাজ হলো না। তিনি স্পেনের আধাসামরিক পুলিশ সিভিল গার্ডে তার বন্ধুদের সহায়তা কামনা করলেন।


তারপর আবারো আলেজান্দ্রো সিস্টার মারিয়ার কাছে গিয়েছিলেন। এবার গিয়েছিলেন পিলারকে সাথে নিয়ে। আশা করেছিলেন, মেয়েটিকে দেখে হয়তো নানের মন নরম হবে, কার কাছ থেকে দত্তক নেয়া হয়েছিল তা তিনি বলে দেবেন। কিন্তু এরপর যা ঘটেছিল, তা বালিকাটির মন থেকে কখনো মুছে যাবে না।


পিলার বলেন, ‘তিনি আমাকে খোঁজাখুঁজির চেষ্টা বাদ দিতে বললেন। কারণ আমার মা ছিলেন পতিতা।’ কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। গর্ভধারণের সময় মারিয়া লুইসা ওয়েটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


কয়েক বছরের ব্যর্থ অনুসন্ধান শেষে এবং আর কোনো পথ নেই দেখে পিলার একটি টেলিভিশন প্রোগ্রামে হাজির হলেন। এই প্রোগ্রামটি পুনর্মিলনের কাজটিই করত। কিন্তু কিছুই হলো না। সব ব্যবস্থা করা হয়েছিল ওই নানের মাধ্যমে। কাজেই নান মুখ না খুললে কিছুই জানার উপায় নেই।


তারপর ২০০৮ সালে আলেজান্দ্রো জানালেন যে, তার ক্যান্সার হয়েছে। মৃত্যু হচ্ছে মনে করে তিনি শেষবারের মতো সিস্টার মারিয়ার কাছে গেলেন। তত দিনে মাদ্রিদের সিস্টার্স অব চ্যারিটি থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। আলেজান্দ্রো জানান, ‘আমি বললাম, আমি এসেছি আপনার কাছ থেকে সামান্য কিছু সূত্র পেতে।’ কিন্তু বৃদ্ধা নানের মন তাতেও গলল না, আবারো সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানালেন।

 

তবে সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। ভরসা হয়ে এলো ইন্টারনেটের বিস্তার আর স্পেনে পুনর্মিলন জাতীয় প্রোগ্রামের জনপ্রিয়তা। ফলে কয়েক বছর আগেও যা কিছু অসম্ভব ছিল, সেসব তথ্য হাতের নাগালে চলে আসতে শুরু করল। সম্পর্ক জোড়া লাগার কাজ আরম্ভ হলো।
মাদ্রিদে নিজের বাসায় থাকার সময়ই আলেজান্দ্রো ২০১১ সালের প্রথম দিকে তার মেয়ের কাছ থেকে ফোন পেলেন। তখন একটি টেলিভিশন প্রোগ্রামে সিস্টার মারিয়ার ছিনিয়ে নেয়া শিশুদের সম্পর্কে তথ্য প্রচার করা হচ্ছিল।


পিলার তার বাবাকে বললেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আমিও চোরাই শিশু।’ আলেজান্দ্রো গভীর মনোযোগ দিয়ে টিভি প্রোগ্রামটি দেখলেন। তাতে যেসব তথ্য দেখানো হলো তা তিনি সান্তা ক্রিস্টিনা ক্লিনিক থেকে যেসব তথ্য পেয়েছিলেন, ঠিক তেমনই।


কাকতালীয়ভাবে একটা ইন্টারনেট ফোরামের সাথে যুক্ত জনৈক সাংবাদিক এক মায়ের কাছ থেকে একটি বার্তা পেলেন। ওই মা জানিয়েছেন, সান্তা ক্রিস্টিনা ক্লিনিকে তিনি একটি শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন। ইন্টারনেট গোয়েন্দাবৃত্তির মাধ্যমে এবং অনেকটা সৌভাগ্যবশত ওই সাংবাদিক মারিয়া লুইসার অন্য দুই মেয়ের একজনের মাধ্যমে মারিয়ার লুইসার সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন।


মারিয়া লুইসা ও পিলারকে ডিএনএ টেস্ট দিতে বলা হলো। এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে সত্যিকারের সম্পর্ক জানা সম্ভব।
ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকার সময় পিলার প্রোগ্রাম সাংবাদিককে জানালেন, ‘আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো কিছুই জানা যাবে না। তবে যেহেতু সম্ভাবনা আছে, তাই আমার একটা স্বপ্ন বাস্তব হওয়ার সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাই না।’
মারিয়া লুইসাও জানালেন, তার স্বপ্ন হলো তার তিন মেয়ে একত্রিত হোক।


অপেক্ষা আর অনুসন্ধানপর্বে পিলার আশা করেছিলেন, তার মা-ও হবে তার মতোই : লম্বা, স্লিম, দীর্ঘ চুলের অধিকারী। কিন্তু মারিয়া লুইসা ছিলেন মাঝারি আকৃতির, চুল বাদামি।


আর মারিয়া লুইসাও যখন প্রথম পিলারকে দেখলেন, তারও মনে হয়নি, এটিই তার মেয়ে। কিন্তু উভয়ের কল্পনাই মিথ্যা হলো। ডিএনএ টেস্টে দেখা গেল মারিয়া লুইসা ও পিলার মা ও মেয়ে।


ওই রাতে মাদ্রিদেও টেলিভিশন চ্যানেলটিতে পুনর্মিলনের মোট ১০টি ঘটনা প্রচার করা হলো। তখনো হাজার হাজার লোক মনে করছিল, জন্মের সময় তাদেরকে তাদের মায়েদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তারা তাদের মাকে খুঁজে চলছিলেন।


এ ধরনের আরেকজন হলেন অ্যান্টোনিও বারোসো। ৩৮ বছর বয়সে তিনি জানতে পারেন, তিনি যে লোকটিকে বাবা বলে জেনেছেন, তিনি আসলে তাকে বিপুল অর্থ দিয়ে কিনেছিলেন।


তিনি বার্সেলোনার কাছে তার অফিসে এ ধরনের অনুসন্ধান কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করছেন। তার কাছে ২২ শ’ নথি রয়েছে। তিন লাখ শিশু চুরি হওয়ার তথ্য তিনি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না। তার মনে হয় সংখ্যাটা ৩০ হাজার হতে পারে।


তিনি বলেন, ৪০ বছর ধরে তারা শিশু চুরি করেছে। তার মতে, সরকারই এ জন্য দায়ী। তাদের অসহযোগিতার কারণেই সত্য প্রকাশিত হচ্ছে না। অনেকেই তাদের সত্যিকারের পরিচয় জানতে পারছে না।


মারিয়া লুইসা তার মেয়েকে ফিরে পেয়ে জানান, আমি প্রতিদিন প্রার্থনা করেছি, যাতে ওই নান মারা না যান। যাতে আমি তার কাছে জানতে চাইতে পারি, কেন তিনি আমার মেয়েকে চুরি করেছিলেন।


তিনি সিস্টার মারিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রধান সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু আদালতে প্রথম এসে সিস্টার মারিয়া বিচারকার্যক্রমে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তারপর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি সিস্টার মারিয়া যে ধর্মগোষ্ঠীর সদস্যা ছিলেন, তারা জানায়, তিনি মারা গেছেন।


পিলারও জানান, তিনি বিচার চেয়েছিলেন। তবে আমার মাকে ফিরে পেয়ে এবং তার সাথে প্রতি রাতে ভালোবাসার কথা বলতে পেরে আমার মনে হয়েছে, এখনকার মতো যথেষ্ট হয়েছে।