সুস্বাস্থ্যের জন্য যেসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে

Dec 06, 2017 03:27 pm
জীবন ও সুস্বাস্থ্যের প্রাচুর্য

 

মুনীর তেৌসিফ


‘জিনিয়াস হওয়ার আরেক নাম জীবন ও সুস্বাস্থ্যের প্রাচুর্য’ বলেছেন হেনরি ডেভিড থরিয়ু। সে জন্য সুস্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে আপনাকে থাকতে হবে সচেতন।

পিপারমিন্ট : পিপারমিন্ট হচ্ছে মেনথল, এক ধরনের সুগন্ধি পদার্থবিশেষ। এর মধ্যে একটি উপাদান আছে, যা মলাশয়ের প্রদাহের জ্বালা-যন্ত্রণা দূর করে। এটি পাকস্থলীর গোলমালেও আরাম এনে দিতে পারে।

বিশুদ্ধ করা সবজি : গবেষকেরা দেখেছেন, প্রচলিত খাবারের বদলে বিশুদ্ধ সবজি খাবার খেয়ে দেহের কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।

কফি : যেসব পুরুষ কফি বেশি পরিমাণে পান করেন, তাদের বেলায় মূত্রথলীতে মারাত্মক ধরনের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য জানা গেছে।

যোগব্যায়াম : স্তন ক্যান্সারে ভুগছেন, এমন মহিলারা যোগব্যায়াম করে তাদের শরীরে কোলেস্টেরোলের গ্রহণমাত্রা কমিয়ে আনতে পারেন। কিছু সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, যদি সারাদিন স্ট্রেস হরমনের মাত্রা উচ্চ হয়, তবে একজন মহিলার ক্যান্সার পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

দিনের দীর্ঘ সময় কাজে থাকা : যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে কাজে থাকেন, তাদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যারা প্রতিদিন ১১ ঘণ্টা কাজ করেন, তাদের দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করা লোকদের তুলনায় হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশেরও বেশি।


জ্বালা দমাতে ক্ষুদ্র বীজ : ক্ষুদ্র বীজ আঁশের সবচেয়ে ভালো উৎস। মহিলাদের মাসিকোত্তর সময়ে কিংবা স্তন ক্যান্সারের সময়ে হঠাৎ জ্বালা দমাতে তিল বা তিসির মতো ক্ষুদ্র বীজ কোনো উপকার বয়ে আনে না। যদিও কয়েক বছর আগের এক গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছিল, এসব ক্ষুদ্র বীজের গুঁড়া এ ক্ষেথে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক ব্যাপকভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, রোগীর মন দমন রাখার জন্য দেয়া অন্যান্য ওষুধের তুলনায় ক্ষুদ্র বীজ ততটা উপকার করে না।


সেলেনিয়াম : সেলেনিয়াম হচ্ছে একটি অধাতব মৌলিক খনিজ পদার্থ। গবেষকেরা এক সময় মনে করতেন, এই খনিজ পদার্থের সাপ্লিমেন্ট বা পরিপূরক সেবন করলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমবে। কিন্তু আরো সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এ ধরনের সহায়তা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এ ধরনের বড়ি সেবনে নানা ধরনের চর্মরোগের আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়।

 

সুস্থ থেকে ফ্লু ঠেকান

আমরা অনেকেই খুব সহজেই ঠাণ্ডা ও ফুর শিকার হই। এর সহজ অর্থ, আমাদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণেই এমনটি ঘটে। নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের দুর্বল ইমিউন সিস্টেমকে সবল করে তোলা যায়। তাই চিকিৎকসদের পরামর্শ হচ্ছে : নিয়মিত ব্যায়াম করে নিজেকে ঠাণ্ডা ও ফ্লু থেকে দূরে রাখুন। খেলাধুলাও এ ক্ষেত্রে আপনার জন্য উপকার বয়ে আনবে।

 

ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন এক সমীক্ষায় জানতে পেরেছে, যেসব লোক সপ্তাহে পাঁচ বা ততোধিক দিন কাজে সক্রিয় থাকে, তাদের রোগবালাই এসব লোকের অর্ধেক, যারা সপ্তাহে মাত্র এক দিন কাজে যায়। প্রথমোল্লিখিতদের বেলায় শেষোল্লিখিতদের তুলনায় ঠাণ্ডা উপসর্গও ছিল ৪১ শতাংশ কম। অতএব যারা কাজ কম করেন, তাদের ব্যায়াম করে ঠাণ্ডা ও ফুকে ঠেকাতে হবে। সেই সাথে খেলাধুলা চালিয়ে গেলে তো আরো ভালো।


অপর এক পর্যালোচনা রিপোর্র্ট মতে, নাক দিয়ে পানি ঝরা ও গলাব্যথা শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জিঙ্ক ব্যবহার করলে ঠাণ্ডার তীব্রতা ও ভোগার সময় ৪২ শতাংশ কমে যায়।

 
হাসিখুশি থাকুন, সুখবোধ করুন

 আরো বেশি সুখী হতে চান? ঠিক আছে, কোনো চিন্তা নেই। শুধু মনোযোগী হোন। না, সেই সব জ্ঞানীদের বলে যাওয়া নীতিবাক্যের প্রতি মনোযোগী হতে বলছি না। বলছি, হাতের কাছে যে কাজ আছে সে কাজের ব্যাপারে মনোযোগী হোন। অস্থির মনই হলো সব সুখ বিনাশের মূলে। জন টিয়েরনে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমসে লিখেছেন,trackyourhappinessনামের একটি আইফোন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে হার্ভার্ডের এক মনস্তত্ত্ববিদ এলোপাথারি সময়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের সাথে যোগাযোগ করে তাদের জিজ্ঞাসা করেন তারা কেমন অনুভব করছেন? কী তারা করছেন? এবং কী তারা ভাবছেন?


প্রায় আড়াই লাখ লোকের সাথে যোগাযোগ করে তিনি সাড়া পান দুই হাজার ২০০ জনের কাছ থেকে। তাদের ৪৭ শতাংশ সময় কাটে অস্থিরতার মধ্যে। কিন্তু যারা তাদের হাতে থাকা কাজের মধ্যে মনোযোগ দিয়ে সময় কাটায় তারাই সবচেয়ে বেশি সুখী। তাই জন টিয়েরনের একটি নীতিবাক্য হলো এমন : You stray, you pay বিপথে যাবেন, লোকসান গুনবেন‘।