শিম খেলে যে সব উপকার হয়

Dec 05, 2017 03:37 pm
শিম গাছ

 

মোহাম্মদ সরওয়ার কামাল


শীত এসেছে। এই সময়ে বাজারের প্রধান সবজি শিম। শিম সুস্বাদু, মধুর রস, শীতবীর্ষ ও খুব বলকারক সবজি। এর বীচি বীর্যকর ও মূত্রকারক; জ্বরনাশক, ক্ষুধাবর্ধক, মেদ সৃষ্টিকারী, কামোদ্দীপক, খিঁচুনি নিবারক, মৃদুবিরেচক। অনেকের মতে, শিম বাতকারক, তবে তা রসুন দিয়ে পাক করলে দোষটা কেটে যায়। শিমের ভেষজ গুণ নিচে দেয়া হলো।


জ্বর : যে জ্বরে জিভে চটচটে একটি প্রলেপ পড়ে থাকে, মাঝে মাঝে ঝিমুনি, অরুচি অথচ পিপাসা থাকে, আবার মাঝে মধ্যে শীত শীত করে। এ অবস্থায় শিমের বীজ বালিতে ভেজে, খোসা ছাড়িয়ে গুঁড়ো করে নিতে হয় এবং সে গুঁড়ো ৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় এক কাপ গরম পানিতে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার করে কয়েক দিন খেতে হয়।


অগ্নিমান্দ্য : যে অগ্নিমান্দ্যে বমি বমি ভাব থাকে; যে রসের খাদ্য খাওয়া হয়, সে রসেরই স্বাদভরা ঢেঁকুর ওঠে এবং শরীর ভারী হয়ে থাকে, সে অজীর্ণে শিম বীচির গুঁড়ো ৫০০ মিলিগ্রাম আধাকাপ গরম পানিতে দিয়ে সকাল ও বিকাল দুইবার করে খেলে অগ্নিমান্দ্য চলে যাবে ও শরীর সামলে উঠবে।


রক্তস্রুতি : নাক দিয়ে রক্ত পড়া হলো সাময়িক ও ঊর্ধ্বগত রক্তপিণ্ডের লক্ষণ। এ সময় গোটা শিমের বীচি গুঁড়ো করে ৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় ঠাণ্ডা পানিতে দিয়ে সকাল ও বিকেলে খেতে হয়। তাতে এ রোগ সেরে যায়।


আমিষের ঘাটতি : আমিষের ঘাটতি হলে শিম ও শিমের বীচি খেলে তা পূরণ হয়।


শুক্রগত দুর্বলতা : শিমের বীচির বেসন খেলে শুক্রগত দুর্বলতা দূর হয়ে যায়।


কান ও গলা ফোলা : প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কান ও গলা ফুলে গেলে এবং তাতে জ্বালা-যন্ত্রণা করলে শিম পাতার রসের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। এতে চুন মিশিয়ে প্রলেপ দিলে আরো বেশি ফল মেলে।


বিছার কামড় : বিছায় কামড়ালে কামড়ানো জায়গায় শিম পাতার রস লাগালে বিষ চলে যায়।


স্তন্যবর্ধন : প্রসূতিকে শিম ও শিমবীজ খাওয়ালে দুধ বাড়ে।