মেহজাবিন এখন যা করছেন

Dec 04, 2017 04:01 pm
পরিপাটি গোছের আত্মবিশ্বাসী মেয়ে

 

পরিপাটি গোছের আত্মবিশ্বাসী মেয়ে হিসেবেই পরিচিত মেহজাবিন চৌধুরী। অভিনয় আর মডেলিং দুই অঙ্গনেই তার ব্যস্ততা সমান। দেশের পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পণ্যের মডেল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রায় ৯ বছর। লিখেছেন আলমগীর কবির


এই সময়টায় মডেলিংয়ে নিজেকে আলাদা উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছেন মেহজাবিন চৌধুরী। তবে প্রশ্ন ছিল তার অভিনয়ের দক্ষতা নিয়ে। মেহজাবিনকে নাটকে নেয়ার ক্ষেত্রে অভিনয় দক্ষতার চেয়ে ‘সুন্দর মুখ’-এর প্রাধান্য দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। কিন্তু গত ঈদে প্রচারিত একটি নাটক সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে অন্য রকম উচ্চতায় নিয়ে গেছে মেহজাবিনকে। এর ফলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জনপ্রিয় এই মডেল-অভিনেত্রী। এর আগে বিভিন্ন সময় তাকে নাটক ও টেলিছবিতে পাওয়া গেছে। সেগুলোর মাধ্যমে প্রশংসিতও হয়েছেন, কিন্তু এবারের ঈদে তিনি যে ধারার প্রশংসার বন্যায় ভেসেছেন, সেটা প্রথম। তার নাটক দেখে অনেকেই বলেছেন, মেহজাবিন আগের চেয়ে এখন অনেক ম্যাচিউরড।


মেহজাবিন যে সিরিয়াস চরিত্রে এত ভালো অভিনয় করেন, সেটা দেখেও অবাক হয়েছেন অনেকে। গত ঈদে চ্যানেল নাইনে প্রচারিত তার অভিনীত বড় ছেলে নাটকটি এরই মধ্যে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তায় ভাসছে। চ্যানেলের পাশাপাশি ইউটিউবেও কোটির বেশি মানুষ উপভোগ করেছেন নাটকটি। মিজানুর রহমান আরিয়ানের রচনা ও পরিচালনায় নাটকটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন অপূর্বও। নাটকটিতে মেহজাবিনের রোমান্স, আবেগ, অনুভূতি, হাসি ও কান্না সবই যেন দর্শক প্রাণভরে উপভোগ করেছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলের টানাপড়েনের গল্প নিয়ে নাটকটির গল্প তৈরি হয়েছে। পরিবারের দায়িত্বের কারণে শেষ পর্যন্ত মেহজাবিনকে ছাড়তে বাধ্য হন অপূর্ব। অন্য দিকে মেহজাবিনেরও বিয়ে ঠিক হয়। সে সময় তিনি অপূর্বর কাছে একটি দিন চেয়ে নেন, আগের মতো করে একসাথে কাটানোর জন্য। পুরো দিন কাটানোর পর শেষ দৃশ্যে অপূর্বকে বিদায় দেয়ার সময় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সেখানে অপূর্বকে কিছু গিফট দেয়ার সময় মেহজাবিন যেভাবে কেঁদেছেন ও অভিনয় করেছেন, তা দেখে চোখে পানি আসেনি এমন দর্শক খুঁজে মেলা ভার। নাটকটি দেখে আবেগকে স্পর্শ করেনি এমন দর্শক নেই। আর তাই তো ফেসবুকে ভাসছে বড় ছেলে নাটকটির অনেক প্রশংসা। প্রশংসায় ভাসছেন নাটকের নায়িকা মেহজাবিনও। দর্শকদের বিশেষ অনুরোধে বড় ছেলে গত ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় বিরতিহীনভাবে পুনঃপ্রচার করছে চ্যানেল নাইন। সব মিলিয়ে নাটকটির সাড়া নিয়ে দারুণ আবেগাপ্লুত মেহজাবিন। তিনি বলেন, দেখুন কোনো গল্প কিংবা চরিত্র যদি দর্শকদের আবেগকে স্পর্শ করতে পারে, সেটাই তো সবচেয়ে বড় সফলতা। ঈদে বড় ছেলে নাটকটি প্রচারের পর দর্শক তো বটেই, অনেক তারকাও আমাকে ফোন করে ও ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এই ভালোবাসা আমাকে অনেক বেশি উৎসাহিত করছে। আমি বেশ আবেগাপ্লুতও বটে। আমি বড় ছেলে নাটকে আমার চরিত্রটি করার সময় সত্যিই আবেগি হয়ে পড়েছিলাম। তবে দর্শক এতটা পছন্দ করবেন নাটকটি, সেটা ভাবিনি। এর জন্য নাটকের নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান, কো-আর্টিস্ট অপূর্ব ভাইসহ পুরো টিমের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ দিকে নাটক কিংবা তার কাজ খুঁজতে যেন বেগ পেতে না হয় সেজন্য ইংরেজিতে নিজের নামের সঠিক ব্যবহারের দিকটির কথা সম্প্রতি ফেসবুকে তুলে ধরেছেন মেহজাবিন। সেখানে তিনি লিখেন প্রিয় বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক ও ভক্তরা; আমার নামের বানান গঊঐঅতঅইওঊঘ। ভুল বানানের কারণে গুগল করলে অথবা ইউটিউবে সার্চ দিলে আমার কাজ খুঁজে পাই না। অনুগ্রহপূর্বক বানান ঠিক লিখলে আমাদের সবার জন্য সুবিধা হয়। ধন্যবাদ।


শুধু বড় ছেলেই নয়, এবার ঈদে মেহজাবিন প্রশংসিত হয়েছেন তার অন্য নাটকগুলোর মধ্য দিয়েও। তানিয়া আহমেদের মধ্যদুপুর, মাবরূর রশীদ বান্নাহর মেয়েটির হাতে জাদুর প্রদীপ, ছেলেটি অবন্তীকে ভালোবেসেছিল ও তুমি আমি এবং আমরা, মিজানুর রহমান আরিয়ানের ব্যাচ ২৭ : দ্য লাস্ট পেজ, সাজ্জাদ সুমনের মুক্তাঝরা হাসি, মেহেদি হাসান জনির গল্পটা তোমারই, মেহেদি হাসান হৃদয়ের ময়না ও মজনুর গল্প, শুভ্র খানের তোকে ভালোবেসে প্রভৃতি নাটকেও দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছেন মেহজাবিন। সব মিলিয়ে বলা চলে এবারের ঈদটিতে সর্বাধিক সফল অভিনেত্রীও ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে মেহজাবিন বলেন, দেখুন সবচেয়ে সফল কি না জানি না। সেটার বিচারের কাজ দর্শকদের। তবে আমি অনেক চেষ্টা করেছি অভিনয়ের ক্ষেত্রে। নিজেকে ভেঙেছি ও গড়েছি। কারণ অভিনেত্রী হিসেবে দর্শকদের অনুভূতিকে স্পর্শ করতে না পারলে সে অভিনয়ের কোনো মানে নেই। আমি সেই চেষ্টাই করছি। এখনো শিখছি অনেক কিছু। সারা জীবন অভিনয়ের শিক্ষার্থী হয়েই থাকতে চাই।


মেহজাবিনের জন্ম ১৯৯১ সালের ১৯ এপ্রিল। পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামে। জন্মের পর কথা শেখার আগে বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কোলে বসে পাড়ি দিয়েছেন মরুর দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানে কেটেছে শৈশব-কৈশোর। হাঁটা, গাওয়া, কথা বলা সবই শিখেছেন উপসাগরীয় আরেক দেশ ওমানে। পরিবারের কেউই সংস্কৃতি জগতের সাথে জড়িত ছিল না। তবে সবাই সংস্কৃতিমনা। চৌধুরী পরিবারের বড় মেয়েটির ঠিকানা হলো শোবিজ। টাইমস অব ওমান-এ নিয়মিত মডেল হয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মডেলিং। সাথে ব্যালে নৃত্য। চলছিল জীবন। কেটে গেল ১৬টি বছর। তারপর ২০০৭ সালে পাড়ি দেন দেশে।


এক নজরে
নাম : মেহজাবিন চৌধুরী
জন্ম : ১৯ এপ্রিল ১৯৯১
জন্মস্থান : চট্টগ্রাম
পেশা : অভিনয়, মডেলিং (২০০৯ থেকে বর্তমান)
উচ্চতা : ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি
ওজন : ৫৫ কেজি
পড়াশোনা : শান্ত-মরিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং
পারিশ্রমিক : এক ঘণ্টার নাটকের জন্য ২৫-৩০ হাজার টাকা আর টেলিছবির জন্য ৪০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন।
তা ছাড়া ধারাবাহিক নাটকে প্রতিদিনের জন্য নেন ১০-১৫ হাজার টাকা।
ভাইবোন : তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়

২০০৯ সালে প্রায় ১০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হন মেহজাবিন চৌধুরী। লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মেহজাবিন অভিনীত প্রথম নাটক ছিল ইফতেখার আহমেদ ফাহমি পরিচালিত তুমি থাকো সিন্ধুপারে। এ নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ। এরপর তিনি একে একে কাজ করেন মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, কল সেন্টার, মেয়ে শুধু তোমার জন্য, আজও ভালোবাসি মনে মনে, হাসো আনলিমিটেডসহ বেশ কিছু নাটকে।


স্বপন আহমেদের পরিচালনায় কল্প-কাহিনীনির্ভর চলচ্চিত্র পরবাসিনীতে কাজ করছেন মেহজাবিন। এখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন নিরব। মেহজাবিনের রয়েছে আরো দুই বোন, দুই ভাই। ভাইদের নাম রাজ ও আলিসান। মুকাদ্দেস ও কায়নাত দুই বোন। তবে এই পাঁচজনের মধ্যে সবার বড় মেহজাবিন। তিনি শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ছাত্রী।