কেমন পরাশক্তি চীন

Oct 31, 2017 04:03 pm
সামরিক শক্তিতেও কিন্তু চীন পিছিয়ে নেই


মোহাম্মদ হাসান শরীফ

লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন এবং সিরিয়ায় দ্রুতগতিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে থাকায় মনে হচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে রাশিয়ার বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আবার পরমাণু প্রশ্নে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্যের সমঝোতা হওয়ায় মনে হচ্ছিল রাশিয়ার অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়েছে। কিন্তু না। রাশিয়া ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়া ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছে, তাকে বাদ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সমীকরণই মিলবে না। ফলে নতুন করে হিসাব করা শুরু হয়েছে। তুরস্কের সাথে নতুন বন্ধুত্ব জোরদার হচ্ছে। এর আগে ক্রিমিয়া দখল করে নিজের অবস্থান ঘোষণা করেছিল রাশিয়া। অর্থাৎ বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি আমেরিকাকে ওই এক রাশিয়ায়ই প্রতিরোধ করছে।
কিন্তু তবুও বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া নয়, চীনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এখনই প্রায় সমান তালে লড়ছে, আগামীতে অনেকভাবে ছাড়িয়ে যাবে। তবে যতটা না গায়ের জোরে, তার চেয়ে বেশি নমনীয় শক্তিতে। অবশ্য চীন যেভাবে তার পেশি শক্তিও বাড়াচ্ছে, তাতে করে অল্প কিছু দিনের মধ্যে তাতেও টক্কর লেগে যেতে পারে।


এই ভাবনার কারণ কেবল চীনের উত্থান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকার জন্যও। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে চীন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তার অবস্থান ধরে রাখা খুব সম্ভবত সম্ভব নয়, যদি না চীন নিজেই কোনো কারণে পিছিয়ে পড়ে।


চীন যে কথাটা বলতে চাচ্ছে, নিজের উন্নতি, তবে অন্যদের বঞ্চিত করে নয়, সবাইকে নিয়ে। এই নীতিকে বাস্তবায়ন করতে গিয়েই চীন তার পরিধি বাড়াচ্ছে, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোনায় তার উপস্থিতি জোরদার করছে।


চীন সরকার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএএমএফের করা বার্ষিক জিডিপির সরল হিসাবে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, এর পরিমাণ প্রায় ১১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাথাপিছু আয় এই হিসেবে প্রায় আট হাজার ডলার। আর যদি অর্থনীতির তুলনামূলক ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে বিচার করা যায় তাহলে দেখা যাবে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে এখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি, এর আকার প্রায় ১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাথাপিছু আয় প্রায় ১৩ হাজার ডলার।


অবশ্য আরেকটি হিসাবও আছে। মোট আয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকলেও মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে চীন প্রায় ৮০টি দেশের পেছনে, পিপিপি-র হিসেবে ৭২টি দেশের পেছনে। সর্বোচ্চ জনসংখ্যা এর একটি কারণ।


বিশ্ববাণিজ্যে চীন এখন বৃহত্তম। এর পরিমাণ প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বাজার দখলের জন্য দুর্নীতি, নি¤œমানের পণ্য এবং দাম কমিয়ে বাজার ছেয়ে ফেলার বদনাম চীনের প্রায় সব দেশেই।


বৈদেশিক মুদ্রার মজুদে চীন এখন বৃহত্তম, তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। বিদেশী বিনিয়োগ অন্তঃপ্রবাহেও চীন সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিদেশেও চীনের বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়ছে, প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন বিদেশী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিনে ফেলার ঘটনাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে সে দেশের বৃহৎ তেল কোম্পানিসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি এত দিনে চীনের মালিকানায় চলে যেত। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সিকিউরিটি এখন চীনের মালিকানায়। একই সঙ্গে সমমূল্যের ট্রেজারি বন্ডের মালিকও চীন। সেই হিসেবে চীনই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ঋণদাতা। অবশ্য গত এক দশকে চীনের নিজের ঋণের পরিমাণও অনেক বেড়েছে। ২০০৭ সাল থেকে চার গুণ বেড়ে এখন তা ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা তার জিডিপির দ্বিগুণেরও বেশি।


২০১৬ সালের ২০ জুলাই ফরচুন পত্রিকা যে বৈশ্বিক বৃহত্তম ৫০০ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছিল তার মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কোম্পানি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, ১৩৪টি। এরপরই ছিল চীনের অবস্থান ১০৩টি। বার্ষিক আয়ের দিক থেকে একেবারে শীর্ষস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্ট। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে চীনা কোম্পানি। এগুলো হলো যথাক্রমে বিদ্যুৎ কোম্পানি স্টেট গ্রিড এবং তেল কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম ও সিনোপেক। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম দশটি ব্যাংকের তালিকায় প্রথম তিনটিই চীনের। এগুলো হলো যথাক্রমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক এবং এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না।


পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ইত্যাদিতে তাই চীনের অবস্থান ও প্রভাব দ্রুত নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে যাচ্ছে। ২০০৮-এর বিশ্ব আর্থিক সঙ্কটের পর থেকে চীনা মুদ্রা দ্রুত আন্তর্জাতিক মুদ্রায় পরিণত হচ্ছে। ২০১০ সালে রাশিয়া চীনের সাথে তার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে চীনা মুদ্রা ব্যবহার শুরু করে। এরপর জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও কানাডাও একই পথ অনুসরণ করে। ব্রিকস জোট, জোট থেকে বিশ্বব্যাংকের পর্যায়ের একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চীনের বৈশ্বিক ভূমিকার পথ প্রশস্ত করছে। সম্প্রতি চীনের উদ্যোগে ও কর্তৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করবে এবং এশীয় অঞ্চলে বিনিয়োগে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি করবে।


সামরিক শক্তিতেও কিন্তু চীন পিছিয়ে নেই। যে গতিতে তারা এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে করে তারা ২০২০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ১০০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শিল্পকে গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছে, তা চীনের ছিল না। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুবাদেই তারা এখন সামরিক শক্তি বিকাশের দিকে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে নিজ ভূখণ্ড, এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাতিন আমেরিকায় তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার প্রয়োজন পূরণ করতে তাদেরকে সামরিক শক্তি বাড়ানোর কথা গভীরভাবে ভাবতে হচ্ছে।


দক্ষিণ চীন সাগরে নিজের অবস্থান ঘোষণা করার ক্ষেত্রেও বেইজিং কড়া ভূমিকা গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মোকাবেলা করে যাচ্ছে।


এটা করতে গিয়ে তারা এখন সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। এটা করতে গিয়ে তারা সামরিক বাহিনীর সদস্য কমানোর চিন্তা করছে। ২৩ লাখ সদস্যের এই বাহিনী এমনিতেই বিশ্বের বৃহত্তম। এ থেকে তিন লাখ কমিয়ে সেই অর্থ আধুনিকায়ন করার কাজে ব্যয় করার কথা তারা জানিয়েছে। বিশেষ করে বিমান ও নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার কাজে বেশি মনোযোগ দেয়ার কথা ভাবছে তারা।

 

এ ক ন জ রে চী ন

রাজধানী : বেইজিং
বৃহত্তম নগরী : সাংহাই
সরকারি ভাষা : স্ট্যান্ডার্ড চাইনিজ
স্বীকৃত আঞ্চলিক ভাষা : মঙ্গোলিয়ান, তিব্বতি, উইঘুর, ঝুয়াং।
জাতিগত গ্রুপ : ৯১.৫১ ভাগ হান, এছাড়া রয়েছে ৫৫টি সংখ্যালঘু গ্রুপ।
পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসিডেন্ট : শি জিনপিং
প্রধানমন্ত্রী : লি কেকিয়াং
কংগ্রেস চেয়ারম্যান : ঝাং দেজিয়াং
আয়তন : ৯,৫৯৬,৯৬১ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা : ১,৩৭৬,০৪৯,০০০
জিডিপি (পিপিপি)
মোট : ২০,৮৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার
মাথাপিছু জিডিপি : ১৫,০৯৫ ডলার (ন্যূনতম)
মোট : ১১,৩৮৩ ট্রিলিয়ন ডলার
মাথাপিছু : ৮,২৩৯ ডলার।

কূটনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সাফল্য আকাশছোঁয়া। এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাতিন আমেরিকা এখন অনেকাংশে তাদের হাতের মুঠোয়। সামরিক শক্তি নয়, অর্থনৈতিক অগ্রগতির যে টোপ চীন ফেলছে, তাতে করে কারো পক্ষেই তা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এই অতি সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে খেলাটা দেখালেন, তাতে অনেকের ঘোর এখনো কাটছে না। ভারতের গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলনে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো ডাকসাইটে নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনিই আসল ‘বস’। তারাও তার নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন। পাকিস্তানকে একঘরে করার জন্য মোদি কোমর বেঁধে নামলেও শি ভিন্ন কথা বললেন। এতে করে তিনি যে কেবল মোদির পরিকল্পনাই বানচাল করে দিলেন না, সেই সাথে তার মিত্রদের আশ্বস্ত করলেন, বিপদের সময় চীন তাদেরকে ছেড়ে যাবে না। তারা চীনের ওপর পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারে।


আবার ২৪ বিলিয়ন ডলারের সাহায্য দেয়ার জন্য তার বাংলাদেশে আসার দরকার ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কাউকে পাঠালেও হতো। কিন্তু মোদি যেখানে ২০০ ডলার দিয়ে অনেক কিছু নিয়েছিলেন, সেখানে নতুন মাত্রা তৈরি করে পুরো লাইমলাইট চীনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য এমন কিছুরই প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তা ছাড়া ভূ-রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে। শ্রীলঙ্কা এখন ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ায়, মিয়ানমারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বাড়ায় বাংলাদেশকে আরো বেশি করে দরকার হচ্ছে চীনের। শি জিনপিংয়ের কাছে তা-ই বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে এবং তিনি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটিই করেছেন বলা যায়।


কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্বজয়ের চীনের একটি বহুল আলোচিত উদ্যোগ হলো ‘সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট এবং ২১ শতকের সামুদ্রিক সিল্ক রোড’। এটা ‘দি বেল্ট অ্যান্ড দি রোড’ নামেও পরিচিত। চীনের সাথে ইউরোপ-এশিয়ার দেশগুলা সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ এটি। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ব্যাপারে চীন আরো বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মূলত প্রাচীন সিল্প রোডের সূত্র ধরে মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়ার মাধ্যমে ইউরোপকে নিয়ে চীনের সিল্পক রোড ইকোনমিক বেল্ট। আর সামুদ্রিক সিল্ক রোডের মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগর, প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর এক সুতায় বাঁধা পড়বে। ফলে আফ্রিকা উপকূলও চলে আসবে চীনের প্রভাব বলয়ে।


এশিয়ায় চীন এর মধ্যেই বেশ এগিয়ে গেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় দুটি বিশাল সমুদ্রবন্দর নির্মাণ তাদেরকে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। ফিলিপাইনকে মার্কিন শিবির থেকে নিজের দলে টেনে আনতে পারাটাও একটা বড় কৃতিত্ব। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কা হাতছাড়া হয়ে যাওয়াটা তাদের জন্য বেশ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে মনে করছে, বাংলাদেশের দিকে নজর দেয়ার একটা কারণও এটা।


আফ্রিকা-চীন সম্পর্কও এখন তুঙ্গে। ইতোমধ্যে আফ্রিকায় চীনা সরাসরি বিনিয়োগ ১৪.৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সেই সাথে মহাদেশটির অবকাঠামো উন্নয়নে সম্প্রতি দেশটি ৬০ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও সাহায্য চুক্তি করেছে। বহুল আলোচিত ‘মুক্তার মালা’ প্রকল্পটি চীনা ভূখণ্ডকে সমুদ্রপথে সুদান বন্দর, মানদেব প্রণালী, মালাক্কা প্রণালী, হরমুজ প্রণালী, লমবক প্রণালীর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা চালু হবে। এই পরিকল্পনায় পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও সোমালিয়া থাকবে কেন্দ্রবিন্দুতে।


গত দশকে আফ্রিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের গরম খবর। চীনের অনন্য অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আফ্রিকার দেশগুলোর তহবিল এবং অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর প্রয়োজন পূরণ করছিল। আবার চীনও তার কাঁচামালের চাহিদা এখান থেকে পূরণের ব্যবস্থা করেছে। এতে করে দুই পক্ষই ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে। আফ্রিকার প্রায় সব দেশের সাথেই চীনের সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ নাইজার, জাম্বিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মালি, জিম্বাবুয়ের মতো দেশগুলোর সাথে।
আফ্রিকার জন্য চীন বছরে প্রায় পাঁচ হাজার স্কলারশিপ দিচ্ছে। এ ছাড়া নিজেদের খরচে চীনে পড়াশোনা করছে প্রায় ১০ হাজার আফ্রিকান ছাত্র।


ল্যাতিন আমেরিকানরা দীর্ঘ দিন ধরে মনে করত, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবহেলা করে। যুক্তরাষ্ট্রও দূর এলাকায় যত নজর দিয়েছে, ল্যাতিন আমেরিকার দিকে সম্ভবত ততটা দিতে পারেনি। কিন্তু এখন চীনকে তারা পাশে পেয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিতে নিজ আঙিনাতেই ম্লান হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।  ২০০০ সালে ল্যাতিন আমেরিকানদের সাথে চীনে বাণিজ্য ছিল মাত্র ২ ভাগ, আর যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ ভাগ। এখন চীনের বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ ভাগ, যুক্তরাষ্ট্রের কমে হয়েছে ৩৯ ভাগ। গত ছয় বছরে ল্যাতিন আমেরিকায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। বিশেষ করে ব্রাজিল, চিলি, পেরু, ভেনেজুয়েলার সাথে চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

 

পরাশক্তি হতে চীনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী
একসময় জাপানকে বিবেচনা করা হয়েছিল সম্ভাব্য পরাশক্তি। এই ১৯৮০-এর দশকেও জাপান ছিল তাদের হিসাবের মধ্যে। ২০১৬ সালেও দেশটি বিশ্বের দশম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ এবং তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেউ এখন তাকে আর সম্ভাব্য পরাশক্তি বিবেচনা করে না। বিশ্বের কাছে জাপান এখন ক্ষয়িষ্ণু শক্তির প্রতিনিধি। প্রধানত তাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রবীণ হয়ে পড়ায় তারা পিছিয়ে পড়ছে।


সম্ভাব্য পরাশক্তির দাবিদার হিসেবে কেউ কেউ ক্ষীণ কণ্ঠে ব্রাজিলের কথাও বলেছিল। কিন্তু তারা সে সম্ভাবনাকে জোরালো করতে পারেনি।
ভারতকে নিয়েও অনেকে মাতামাতি করে। বিশাল জনসংখ্যাকে নিয়ে তারাও সেই স্বপ্ন দেখে। কিন্তু এত পিছিয়ে আছে তারা, তাদের পক্ষে শিগগির প্রতিযোগিতায় নামা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।


বর্তমান তুর্কি নেতৃত্ব নিজেদের উসমানিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি বিবেচনা করে। রজব তাইয়েব এরদোগানকে অনেকে ‘সুলতান’ হিসেবেও অভিহিত করে। তিনি কিন্তু উসমানিয়া সালতানাতকে গর্বের সাথেই উল্লেখ করেন। খুব দ্রুত গতিতে তাদের উত্থান ঘটছে। তবে এই ধারা অব্যাহত থাকলেও তাদের শীর্ষপর্যায়ে উঠে আসতে অনেক সময় লাগবে।


রাশিয়া হলো সাবেক পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান অংশ। ভøাদিমির পুতিনের অধীনে তারা তাদের হারানো গৌরব অনেকাংশেই উদ্ধার করেছে। বর্তমান ধারা ধরে রাখতে পারলে তারাও হতে পারবে পরাশক্তির দাবিদার।