ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাকে পুরোপুরি ব্যর্থ বললেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী

Oct 15, 2017 04:15 pm
অমারিন্দর সিং


অমারিন্দর সিং (৭৩) ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। এই সাবেক ক্যাপ্টেন সেনাবাহিনীকে এখনো খুব ভালোবাসেন। তার বাবা ছিলেন পাঞ্জাবের সাবেক দেশীয় রাজ্য, পাতিয়ালার মহারাজা। অমারিন্দর ১৯৬৩ সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন পেয়েছিলেন। ঠিক আগের বছর চীন-ভারত যুদ্ধে ভারত বেশ মার খেয়ে হারিয়েছিল বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড। যা হোক, অমারিন্দর সিং কয়েকটি বইয়ের লেখকও। লিখেছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪-১৮) ভারতের সম্পৃক্ততা নিয়ে। এখন বই লিখছেন ১৯৬৫ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের ওপর। কেন ১৭ দিনের এই লড়াইকে মনে রাখা হয়নি, তাও তিনি বলেছেন। তখন অমারিন্দর ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পশ্চিম কমান্ডের কমান্ডার ইন চিফের এডিসি। ’৬৫ সালে যুদ্ধের মূল ‘রঙ্গমঞ্চ’ ছিল পশ্চিমাঞ্চলই। ফলে তরুণ অমারিন্দর সিং had a ringside view of the various battles, অর্থাৎ খুব কাছ থেকে পাকিস্তান ও ভারত, এই দুই বৈরী প্রতিবেশির দ্বৈরথ দর্শনের সুযোগ তার হয়েছিল।
অমারিন্দর সিং সাংবাদিক প্রণয় শর্মাকে বলেছেন ’৬৫-এর যুদ্ধের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে। এর ভাষান্তর করেছেন মোহাম্মদ আবু জাফর

প্রশ্ন : আপনি ’৬৫ সালের যুদ্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছিলেন এবং এরপর আবার এতে যোগ দিয়েছিলেন। কেন?
উত্তর : বাবা তখন রোমে ভারতের রাষ্ট্রদূত; মা তখন লোকসভার সদস্য; আমি নিজে আর আমার ভাই সে সময়ে ছিলাম সেনাবাহিনীতে। ’৬৫-এর আগস্টে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিলাম। কারণ, বাড়িতে আমার কাজ করা দরকার হয়ে পড়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত পদত্যাগ সংক্রান্ত কাগজপত্র সেনাসদর দফতরে পৌঁছেনি। অল্প কয়েক দিন পরেই যুদ্ধ বেধে গেল। তখন আমি গিয়ে অধিনায়ককে বললাম, স্যার, এটা সেনাবাহিনী ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় নয়। আমি এ চাকরিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।


প্রশ্ন : আপনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে এসেছিলেন কেন?
উত্তর : কমিশন পেয়েছিলাম ১৯৬৩ সালে। স্কুলজীবন থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উন্মুখ হয়ে ছিলাম। আমি গ্র্যাজুয়েশন নিই ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে। সেখানে তিন বছরের কোর্স করেছি। ভাগ্য ভালো যে, ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে মাত্র ছয় মাস ছিলাম। চীনের সাথে যুদ্ধের কারণে সেখানে পুরো এক বছর কাটাতে হয়নি। চীন সীমান্তে মোতায়েন ছিলাম দুই বছর। তখনই ওয়েস্টার্ন কমান্ডের জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরবকশ সিং আমাকে বললেন তার অফিসে যোগ দিতে। এটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের ব্যাপার ছিল। তাই তার এডিসি হিসেবে যোগ দিলাম।


প্রশ্ন : আপনার মতো একজন তরুণ অফিসার চীন-ভারত যুদ্ধের পর পরই কমিশন পাওয়ার পর কেমন অনুভূতি হয়েছিল?
উত্তর : তরুণ অফিসার হিসেবে আপনি সেনাবাহিনীর ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই ভাববেন। যা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, সেটাই করবেন আপনি; রণাঙ্গণে গিয়েই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়। কেউ এটা ভাবেন না যে, তিনি লড়াইয়ে মারা পড়বেন কিংবা হবেন আহত এসব বিষয় কখনো আপনার মনে-মগজে ঠাঁই পায় না। রেজিমেন্টই আপনার বাড়ি। এর সদস্যদের নিয়েই আপনার পরিবার। যখন আমরা সেনাবাহিনীতে ছিলাম, আমরা এতটুকুই জানতাম যে, রাষ্ট্রপতি অমুক, প্রধানমন্ত্রী অমুক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তমুক। সরকারের আর কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় নীতি সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল না। এসব নিয়ে মাথা ঘামাতেন না কেউ।


প্রশ্ন : রাজকীয় পরিবার থেকে আপনি এসেছিলেন। সেনাবাহিনীতে কি এর কোনো প্রভাব পড়েছিল?
উত্তর : না; কখনো প্রভাব পড়েনি। যখন প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম, তখন যেমন পড়েনি, তেমনি পরেও না। বাস্তবে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর বিদায় পর্বের আগে পর্যন্ত অনেকেই জানতেন না, আমি পাতিয়ালার রাজ পরিবারের লোক। শুধু আমার ক্ষেত্রে এটা ঘটেনি। সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন রাজ পরিবারের অনেকেই ছিলেন। তাদের সবাই অন্যদের মতো দায়িত্ব পালন করে গেছেন।


প্রশ্ন : তবে আপনি তো এসেছেন সম্পদশালী পরিবার থেকে। আপনার যে ধন-সম্পদ আছে, তা প্রদর্শন করতেন না? নিশ্চয়ই অন্যদের চেয়ে আপনি বেশি বিত্তবান ছিলেন।
উত্তর : না, সব সময়ে মাসের সাত তারিখ আসতে না আসতেই আমরা দেউলিয়া হয়ে যেতাম। কারণ, সেনাবাহিনীর মেসের বিল ছিল অত্যধিক। অথচ আমাদের বেতন ছিল মাত্র ৩২০ রুপি। এটা ফুরিয়ে গেলে পরের মাসে বেতন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো।


প্রশ্ন : জেনারেল হরবকশ সিংয়ের এডিসি হিসেবে আপনি আসলেই সুযোগ পেয়েছিলেন ’৬৫ সালের যুদ্ধ কাছ থেকে দেখার। তা নয় কি?
উত্তর : একজন তরুণ অফিসার সে অবস্থানে থেকে যুদ্ধ দেখার সুযোগ পাওয়া বিরাট ব্যাপার। কোম্পানি কমান্ডার যদি হয়ে থাকেন, আপনি সামনের কেবল এক শ’ গজই দেখতে পাবেন। ওই সময়ে ভারতের ওয়েস্টার্ন কমান্ড ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে লাদাখ থেকে কাশ্মির হয়ে উত্তর প্রদেশ পর্যন্ত। এই কমান্ডের অধিনায়কের দফতরে তখন ছিলেন মাত্র চারজন অফিসার। তারা হলেন সহকারী সামরিক সচিব, স্টাফ ক্যাপ্টেন সামরিক সচিব, সামরিক সহকারি এবং এডিসি। আমি ছাড়া বাকি তিনজনের কাজ অফিসে সীমাবদ্ধ। শুধু আমিই কমান্ড অধিনায়কের সাথে সফরে যেতাম। তাই সেনাবাহিনীর ওই কমান্ডের সব সেক্টরে এবং যুদ্ধের সব ক্ষেত্রে কী ঘটছিল, তা দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল।


প্রশ্ন : ’৬৫ সালের যুদ্ধটা শুরু হয়েছিল কবে?
উত্তর : ৬ সেপ্টেম্বর আমরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করি। তবে চাম্ব-জৌরিয়ান এলাকায় লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছিল পয়লা সেপ্টেম্বর। আর ‘অপারেশন জিব্রাল্টার’ জুলাই মাসেই আরম্ভ হয়েছিল। এটা ছিল কাশ্মিরে পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ। তাই বলা যায়, ৬ সেপ্টেম্বরের আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ দানা বেধে উঠছিল।


প্রশ্ন : রান অব কচে সঙ্ঘাত কি আগেই শুরু হয়েছিল?
উত্তর : হ্যাঁ, (গুজরাটের সে এলাকায়) ’৬৫ সালের এপ্রিল মাসেই সংঘর্ষের সূচনা। তবে এটা থেমেও গিয়েছিল। মূলত, ভারতের মোকাবেলায় পাকিস্তান ওপরে এমন উচ্চমন্যতাই যুদ্ধটি ঘটিয়েছে। পাক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো বোঝালেন, আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢোকার মুরোদ ভারতের নেই। আর যদি ওরা ঢুকে পড়ে, তা হলে তো চীনই আছে। চীন পাকিস্তানের পক্ষে এগিয়ে আসবে। তাই ভুট্টোর পরামর্শ ছিল, অনুপ্রবেশমূলক অভিযানের মাধ্যমে কাশ্মিরে কিছু একটা ঘটিয়ে দিতে হবে। সেখানে পাকিস্তান জিতে যাবে; কারণ কাশ্মিরিরা বিদ্রোহ করবে। কিন্তু তা ঘটেনি। কাশ্মিরিরা তাদের সমর্থন জোগাতে বেরিয়ে আসেনি।


প্রশ্ন : আইয়ুবের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা কী ছিল?
উত্তর : আইয়ুব খান ছিলেন যুদ্ধের বিরোধী। সৈনিক হিসেবে তিনি ছিলেন ব্যর্থ। যুদ্ধের ব্যাপারে তার বিতৃষ্ণা ছিল বরাবরই। পাকিস্তানের মূল্যায়ন ছিল এমন ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারত চীনের কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে এবং জওহরলাল নেহরুর (মৃত্যুর) পর যিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী, তিনি এখনো শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারেননি। অতএব, ভারতে চেইন অব কমান্ড তেমন স্পষ্ট নয়। এসব বিবেচনায় পাকিস্তান মনে করেছিল, যুদ্ধের এটাই উপযুক্ত সময়। এমন কি, অস্ত্রশস্ত্র ও বিমানের দিক দিয়ে পাকিস্তানের শক্তি ভারতের চেয়ে বেশি ছিল।


প্রশ্ন : যুদ্ধটা প্রকৃতপক্ষে কখন শুরু হয়েছিল?
উত্তর : আমরা ঘটনাগুলোর ধারাক্রম দেখে নিই : মে মাসে পাকিস্তান অপারেশন জিব্রাল্টারের পরিকল্পনা করেছিল। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। গিরিপথগুলো দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ে। তাদের ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল কাশ্মির উপত্যকায়। এরপর স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়া এবং ব্রিজ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান আরো সৈন্য পাঠাল। আমরা সাফল্যের সাথে এসব মোকাবেলা করলাম। এরপর পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নিলো জম্মুর আখনুরে অপারেশন ‘গ্র্যান্ডস্লাম’ শুরু করার। তাদের পরিকল্পনা ছিল সেখানকার ব্রিজ আর কাশ্মির অভিমুখী সড়কযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া। তারা এটা করায় প্রতিরোধ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই পাঞ্জাবে যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলার।


প্রশ্ন : আপনাদের ওপর চাপ কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল?
উত্তর : নিশ্চয়ই। যদি ওরা (পাকিস্তানি সৈন্যরা) সড়কটা কেটে দিতো, আমরা কাশ্মিরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তাম। সে সময় ওইটি ছিল (কাশ্মিরের সাথে সংযোগের) একমাত্র সড়ক। আমরা পাঞ্জাবে নতুন ফ্রন্ট খোলার সাথে সাথে বিভিন্ন সেক্টর থেকে তাদের সৈন্যদের ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল।


প্রশ্ন : ওই যুদ্ধের সময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেমন ছিল?
উত্তর : প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী যশোবন্ত রাও বলবন্ত রাও চ্যবন কখনো যুদ্ধের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেননি। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের সময়ে ঘটেছিল এর ঠিক উল্টো। শাস্ত্রী ও চ্যবন যুদ্ধের পুরো ব্যাপারটা ছেড়ে দিয়েছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর ওপর। শুধু একবার বিলম্ব ঘটেছিল। ব্রিগেড কমান্ডার সকালে বিমানবাহিনীর সহায়তা চাইলেন চাম্ব রণাঙ্গনের জন্য। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সম্ভবত প্রথম দিকে মনে করা হয়েছিল যে, বিমান হামলা যোগ হলে পরিস্থিতি আরো মারাত্মক হয়ে দাঁড়াবে। তবে শেষ পর্যন্ত বিমান সহায়তা পাওয়া গিয়েছিল।


প্রশ্ন : ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
উত্তর : ওরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ ছিল। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে যেমন ব্যর্থ হয়েছিল গোয়েন্দারা, তেমনি ব্যর্থ ছিল ’৬৫ সালের যুদ্ধে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও গোয়েন্দারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পাকিস্তান সত্যিকার অর্থে যুদ্ধ শুরু করার মতো বড় হামলা চালানোর ১৮ ঘণ্টা আগেও ভারতীয় গোয়েন্দারা কোনো সতর্ক সঙ্কেত দিতে পারেনি। তাই ১৯৬২ সালের মতো ১৯৬৫ সালেও আমরা ধরা খেয়েছিলাম এমন অবস্থায় যখন আমাদের প্যান্ট নিচের দিকে নেমে গিয়েছিল।


প্রশ্ন : সে যুদ্ধের সময়ে বড় কোনো সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল কি?
উত্তর : আসলে হয়নি। আখনুরের একটা ঘটনা ছাড়া মারাত্মক কিছু ঘটেনি। কমান্ডার সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি আমাকে সীমান্ত লঙ্ঘন করে পাকিস্তানে ঢুকতে দেয়া না হয়, আখনুরের পতন ঘটবে।


প্রশ্ন : ’৬৫ সালের যুদ্ধ নিয়ে বেশি আলোচনা হয় না কেন?
উত্তর : কারণ, এতে ‘দেয়া-নেয়া’ হয়েছিল নামেমাত্র। ’৭১ সালে আপনারা বাংলাদেশ পেলেন; তবে ’৬২ সালের যুদ্ধে আমরা চীনের জোরাল লাথি খেয়েছিলাম। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে সে রকম উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি। আক্রমণ চালাতে হলে আপনার ৩ : ১ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা চাই। কিন্তু আমরা ১ : ১ পর্যন্ত ছিলাম না। তাই পাঞ্জাবে যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খোলা আমাদের জন্য ছিল বিরাট সাহসের ব্যাপার। তা না খুললে আমরা আখনুর হারাতাম এবং সেই সাথে, আরো কিছু এলাকা। শেষমেষ হিসাব কষে দেখা গেলো, আমরা পেয়েছি মাত্র ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। এ কারণে যুদ্ধটা নিয়ে তেমন আলাপ-আলোচনা হয় না।


প্রশ্ন : যদি কাউকে বীর মনে করা যায়, তা হলে ’৬৫ সালের যুদ্ধের বীর কে?
উত্তর : কোনো সন্দেহ নেই, তার নাম জেনারেল হরবকশ সিং। অপর দিকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল জে এন চৌধুরী ছিলেন মাঝারি মানের সেনাপতি। যুদ্ধের সময়ে একদিনও তিনি ফ্রন্টে সফর করেননি। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরদিন একদল ক্যামেরাম্যান নিয়ে তিনি রণাঙ্গনে গিয়েছিলেন।


সাক্ষাৎকারটিতে প্রদত্ত বক্তব্য প্রসঙ্গে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। এখানে যুদ্ধে লিপ্ত এক পক্ষের একজন সেনা অফিসারের অভিমত ও অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। অপর পক্ষের বক্তব্য পেলে দুটো মিলিয়ে মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা ’৬৫-এর যুদ্ধ সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পেতাম, যা বিশদ না হলেও খণ্ডিত হতো না। আলোচ্য সাক্ষাৎকারে অমারিন্দর সিংয়ের দুই-একটি উক্তি ব্যাখ্যার দাবি রাখে। তিনি ভারতীয় হিসেবে একজন বীর খুঁজে পেয়েছেন তাদের পক্ষের। তিনি হলেন, অমারিন্দরের তৎকালীন ‘বস’ হরবকস সিং। এই সেনাপতি কতটা বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন, আমাদের জানা নেই।
আমাদের এই বাংলাদেশ তখন যে দেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেই তদানীন্তন পাকিস্তানের পক্ষে বেশ কয়েকজন অসীম সাহস, ত্যাগ ও শৌর্যের পরিচয় দিয়েছেন সে যুদ্ধে। যেমন, বিমান হামলায় রেকর্ড স্রষ্টা স্কোয়াড্রন লিডার আলম ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম। তারা যথাক্রমে ঢাকা ও পাবনার লোক। মেজর আবদুল আজিজ ভাট্টির বীরত্বের কথাও উল্লেখযোগ্য। বিশেষভাবে স্মর্তব্য তিনজন সেনা অফিসারের বীরত্বের কথা। এরা হলেন, জিয়াউর রহমান, আবু তাহের ও এম এ জলিল। এমন কি (কর্নেল) তাহের পাঞ্জাব ফ্রন্টে আহত হয়েছিলেন ভারতের সাথে যুদ্ধে। তিনজনই ’৭১ সালে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার।