ব্যাংককের মসজিদে অনন্ত জলিল

Aug 22, 2017 12:53 am
অনন্ত জলিল

অন্যদিগন্ত ডেস্ক

 

অনন্ত-বর্ষা জুটির কথা কারো অজানা নয়। তারা জুটিবদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। আর সেই জুটি বাস্তব জীবনেও পরিণত হয়েছে। ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দাম্পত্যের জুটি বেঁধেছেন বর্ষার সঙ্গে। তাদের ছয় বছরের সংসারে রয়েছে একটি পুত্র সন্তান, নাম আরিজ। আর বর্তমানে তার স্ত্রী বর্ষা দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন।

 

সেই জন্য ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বর্ষা। আর বর্তমানে অনন্ত জলিলও অবস্থান করছেন ব্যাংককে। অনন্ত জলিল লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে হয়েছেন ধার্মিক। সেই তথ্যও এখন কারো অজানা নয়। ধর্ম প্রচারের কাজেও তিনি বিভিন্ন স্থানে যান। যাওয়ার আগে ও পরে নিজ ফেসবুক পেজে নিজের ভক্তদের প্রতি জানিয়ে যান যে তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কখন যাচ্ছেন।

 

তেমনি এক ভিডিও বার্তায় সবাইকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি এখন ব্যাংককে। জুম্মার নামাজ আদায় করলাম। আমার এই ভিডিও বার্তা দেওয়ার কারণ হচ্ছে, ইসলামের পথে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া এবং সবাইকে নামাজ পড়ার আহবান জানানো। আমরা বেশির ভাগ সময়ই থাইল্যান্ডে ঘুরতে আসি এবং এখানেও অনেকে কর্মরত আছি। যাই হোক না কেন, আমরা কাজকে বলব নামাজ আছে, কিন্তু কখনও নামাজকে বলব না কাজ আছে। আর জুম্মার নামাজ তো অবশ্যই পড়তে হবে। সবাই ভালো থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

 

উল্লেখ্য, পেশাগত জীবনে অনন্ত জলিল একজন ব্যবসায়ী। চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিলেও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। (প্রিয়.কম)

 

অঝরে কাঁদলেন অন্তত জলিল : দ্বীনের পথে আসার নেপথ্যে কথা

 

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার এনায়েনত নগর ইউনিয়নের বায়তুল আকসা জামে মসজিদে তিন দিনের জামাতের এসে অঝরে কাঁদলেন আলোচিত চিত্রনায়ক অন্তত জলিল। সোমবার ২১ আগস্ট বাদ ফজর সকালে তাবলীগের নিয়ম অনুযায়ী সকালের বয়ানের পর মোনাজাতে হাত তুলে কখনো অঝরে আবার কখনো ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত মসজিদের মুসল্লীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


এর আগে চলচ্চিত্র অভিনেতা অনন্ত জলিল ইসলাম প্রচারের কাজে আত্ননিয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন চলচ্চিত্রে তার খ্যাতিকে ইসলামের কাজে লাগাবেন। এর আগে আরেক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাজনীন আকতার হ্যাপি ইসলামের কাজে নিজেকে আত্ন নিয়োগের ঘোষনা দিয়েছেন। ইসলাম প্রচারকে লক্ষ রেখে তার লেখা একটি বইয়ের অসংখ্য কপি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে। অনন্ত জলিলের ইসলাম প্রচারে আত্ননিয়োগের এ খবর আরব নিউজ, গালফ নিউজসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।


৩৯ বছর বয়স্ক অনন্ত জলিল গত মাস থেকে রাজধানী ঢাকায় ধর্ম প্রচার শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাজামা-পাঞ্জাবি আর পাগড়ি পড়া ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।এএফপিকে অনন্ত জলিল বলেন তিনি তাবলিগ জামাতে যোগদান করেছেন। তাবলীগ জামাত লাখ লাখ লোককে ইসলামের পথে ডেকে থাকে। অনন্ত জলিল বলেন এ বছর মক্কা থেকে ফিরে আসার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তিনি বলেন আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তার শ্রেষ্টত্ব প্রচারের জন্য। আমি সে কাজটি এখন করতে চাই।আমি যদি তরুনদের এই পথে ডাকি তাহলে তারা আল্লাহ ও রাসুলকে মেনে চলবেন এবং ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করবেন। অনন্ত জলিল বলেন তিনি এমন সিনেমা বানাতে চান যার মাধ্যমে ইসলামের প্রচার হবে।অনন্ত জলিল একজন সফল গার্মেন্টস ব্যবাসায়ী। ইতোমধ্যে তিনি ৬টি সিনেমা তৈরি করেছেন।


এদিকে গত ১৮ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট সকাল পর্যন্ত পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফতুল্লার ওই মসজিদটিতে আসেন অনন্ত জলিল। এই তিনদিনে বিভিন্ন সময় তাবলীগের পথে আসার নেপথ্যের কারণ জানিয়ে অনন্ত জলিল মুসল্লীদেরকে বলেন, ধানমণ্ডি তাকওয়ার মসিজদের খতিব মাওলানা ওসামা সেই ২০০৪ সাল থেকে আমাকে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন দিন ৫০ বারও মোবাইলে ফোন দিয়েছেন। ধরিনি। তবে মোবাইল বন্ধ করতে পারিনি। কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বায়াররা ফোন দেয়। তবে পিছু ছাড়েননি খতিব ওসামা।

তিনি বলেন, একদিন অফিসে বসেছিলাম। হঠাৎ জানালা দিয়ে বাইরে চোখ গেল। মনে পড়ল মাত্র ২০০ জন নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলাম। আজ কত শ্রমিক কাজ করছে। এসব তো কিছুই থাকবে না, আমিও থাকব না। মনের ভেতর কেমন যেন একটা ব্যথা অনুভব করলাম যে, সবই তো হলো ধর্ম-কর্মতো মনোযোগ দিয়ে করা উচিত। এছাড়া মাওলানা ওসামাতো আমাকে ভাল কথা বলছে। পরে তাকে ফোন দিয়ে জানাই আমি দ্বীনের পথে বের হতে চাই। বিশ্বাস করুণ, অনেক শান্তি লাগছে। এত শান্তি দ্বীনের পথে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওমরাহ করেছি। যদি কেউ বলে থাকে আমার জীবনে সবচেয়ে বেশী কে উপকার করেছে? বলব যারা আমাকে এই দ্বীনের পথে আনার জন্য ধারাবাহিকভাবে দাওয়াত দিয়ে গেছেন। তাদের কোন স্বার্থ নেই। তারা শুধু চেয়েছেন আমি অনন্ত জলিল আল্লাহওয়ালা হয়ে যাই। একজন মুসলমান হিসাবে ধর্মে মনোনিবেশ করি। বিভিন্ন হাদিসে পড়েছি, আল্লাহ বলেছেন তোমরা তার কথা শোন যারা বিনা স্বার্থে তোমাদের আমার দিকে ডাকে। কথা শেষ করেই সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ ত্যাগ করেন অনন্ত জলিলসহ তাবলীগের কর্মীরা।

এদিকে গত তিনদিন ধরেই অনন্ত জলিলকে দেখতে ওই মসজিদের সামনে ভিড় জমায় ভক্তরা। অনন্ত জলিলও তাদের সাথে দেখা করেন এবং শর্ত দিয়ে বলেন, ‘আসেন সবাই নামাজ পড়ি’।

মাসদাইর এলাকার হোটেল কর্মচারী সাফায়েত জানান, রবিবার অন্তত জলিলকে জোহরের নামাজের সময় দেখতে গিয়ে তিন ওয়াক্ত নামাজ শেষ করে মাগরিবের সময় বাসায় ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত, নায়ক অনন্ত জলিলের ঢাকাই চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর কয়েকটি সিনেমায় কাজ করলেও অনেকদিন হয় দূরে সরে আছেন অভিনয় থেকে। পরিচালনা-প্রযোজনায়ও এখন তিনি নেই। বর্তমানে ব্যবসার পাশাপাশি ধর্ম প্রচারে মনোযোগী হয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসে ওমরাহ হজ পালন করেছেন, নিয়মিত ইসলামের প্রচারে তাবলিগ-জামাতে অংশ নিচ্ছেন। কিছুদিন আগে তাবলীগ জামাতের সঙ্গে রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি মসজিদে ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নারায়ণগঞ্জ বাইতুল আকসা মসজিদে আগামী ১৮ থেকে ২১ আগস্ট-এই ৩ দিন সময় কাটিয়ে গেলেন।